default-image

চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিনটি বাংলাদেশের ভালো নাকি খারাপ কাটল, তা বলা মুশকিল। মুশফিকুর রহিমের দলের শুরুটা হলো দারুণ, শেষটিও তেমন। তবে মাঝের সময়টি কাটল দুঃস্বপ্নের মতো! প্রথম দিনে শ্রীলঙ্কা তুলল ৯২ ওভারে ৫ উইকেটে ৩১৪। রান যদি ৩০০-এর নিচে থাকত কিংবা উইকেট আরও দুই-একটি বেশি নেওয়া যেত, তবেই হয়তো দিনটি বাংলাদেশের বলা যেত। তবে গলার কাঁটা হয়ে ১৬০ রানে অপরাজিত থাকায় দিনটি কুমার সাঙ্গাকারারই বলতে হবে।  
বাংলাদেশের বোলাররা প্রথম সেশনে অর্থাত্ ২০.৩ ওভারেই ফিরিয়েছিলেন শ্রীলঙ্কার দুই ওপেনার দিমুথ করুণারত্নে ও কুশল সিলভাকে। আর শেষ সেশনে ফেরালেন মাহেলা জয়াবর্ধনে, অ্যাঞ্জোলা ম্যাথুস ও দিনেশ চান্ডিমালকে। চা-বিরতির পর ৩২ ওভারে শ্রীলঙ্কা তুলল ১১৮, খোয়াল মূল্যবান ওই ৩ উইকেট।   
বাংলাদেশকে পেলেই বরাবারই জয়াবর্ধনে ও সাঙ্গাকারার ব্যাট চওড়া হয়ে ওঠে অস্বাভাবিকভাবে। আজও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। প্রথম দিনে এ দুজন বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ে ছিনিমিনি খেললেন আরেকবার। দুজনের যুগলবন্দিতে তৃতীয় উইকেটে এল ১৭৮ রান।   

ঢাকা টেস্টে জয়াবর্ধনের অনবদ্য দ্বিশতকের পর টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির মালিক ছিলেন তিনজন—জয়াবর্ধনে, সাঙ্গাকারা ও শচীন টেন্ডুলকার। প্রত্যেকের সেঞ্চুরি ছিল পাঁচটি করে। বাংলাদেশের মতো প্রিয় প্রতিপক্ষ পেয়ে চট্টগ্রাম টেস্টেই রেকর্ড নিজের করে নেওয়ার ‘ইঁদুর-বিড়াল’ খেলায় মাতলেন শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র! তবে এ দফা জিতলেন সাঙ্গাকারাই! সাঙ্গাকারা ছুঁলেন ৩৪তম টেস্ট শতক। অপরাজিত রইলেন ১৬০ রানে। এ শতকে সাঙ্গাকারা আরও একটি কীর্তি গড়লেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে জয়াবর্ধনের সঙ্গে তিনিও সর্বোচ্চ ৩৪টি টেস্ট সেঞ্চুরির মালিক এখন। মাহমুদউল্লাহর এলবিডব্লুর ফাঁদে পড়ার আগে জয়াবর্ধনে খেললেন ৭২ রানের দারুণ এক ইনিংস।

বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নিয়েছেন সাকিব আল হাসান। এ ছাড়া আল আমিন হোসেন, মাহমুদউল্লাহ, সোহাগ গাজী নিয়েছেন একটি করে উইকেট। শ্রীলঙ্কার ইনিংসের গাড়ি থামিয়ে দিতে আগামীকালের প্রথম সেশনেই অসাধারণ কিছু করতে হবে বাংলাদেশের বোলারদের। নতুবা শ্রীলঙ্কার আরেকটি রানের পাহাড়ে চাপা পড়া ঠেকানো কঠিন হবে মুশফিকদের।    

বিজ্ঞাপন
খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন