বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের বিপক্ষে ৭ উইকেটে ৩১১ রান করার পরও আবাহনীকে জিততে হয়েছে ন্যূনতম ব্যবধানে। ম্যাচের শেষ বলে জয়ের জন্য গাজীর দরকার ছিল ৪ রান, আবাহনীর তানজিম হাসানের বলে গাজীর হুসনে হাবিব দৌড়ে দুই রান নেওয়ার পর তৃতীয় রানের চেষ্টায় হানুমা বিহারির থ্রোতে রানআউট হয়ে যান আলমগীর হোসেন।

default-image

পাশের মাঠে মোহামেডানকে প্রায় হারিয়েই দিয়েছিল সিটি ক্লাব। আগে ব্যাট করা মোহামেডানের ৯ উইকেটে ২২৮ রানের জবাবে সিটি ক্লাব অলআউট হয়েছে ২২৩ রান করে, ইনিংসের ৪৮.৪ ওভারে। শেষ দুই ওভারে জয়ের জন্য সিটির দরকার ছিল ৯ রান, হাতে ছিল এক উইকেট। সবচেয়ে বড় কথা, ক্রিজে ছিলেন সিটির ছন্দে থাকা অধিনায়ক জাওয়াদ রোয়েন।

কিন্তু ৪৯তম ওভারের চতুর্থ বলে সৌম্যর স্লোয়ার বাউন্সারে আপার কাট করতে গিয়ে ক্যাচ আউট হয়ে যান ৬৯ রান করা জাওয়াদ। জয় থেকে ৫ রান দূরে থাকা জাওয়াদ শটটি খেলে হতাশায় মুষড়ে পড়েন। রেলিগেশন লিগ এড়ানোর জন্য মোহামেডানের এই ম্যাচে জিততেই হতো। নবম ম্যাচে চতুর্থ এই জয়ে ৮ পয়েন্ট নিয়ে মোহামেডান এখন পয়েন্ট তালিকার সপ্তম স্থানে।

মোহামেডানের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা আজও দলকে ভালো সূচনা এনে দিতে পারেননি। আগে ব্যাট করতে নেমে ৫৩ রানেই ওপরের সারির পাঁচ ব্যাটসম্যান আউট! সেখান থেকে আবদুল মজিদ ও রুবেল মিয়া দলকে টেনে তোলেন। ২৪ রান করে রুবেল আউট হলেও মজিদের ব্যাট থেকে আসে ৮৬ বলে ৬৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস। এরপর ডেথ ওভারে দ্রুত রান তোলেন শুভাগত হোম চৌধুরী। মোহামেডান দুই শ পেরোয় তাঁর ৫৭ বলে ৫৯ রানের ইনিংসে। শেষ পর্যন্ত ২২৮ হয়েছে ইয়াসিন আরাফাতের ২৬ রানের কল্যাণে।

সিটি ক্লাবের রান তাড়ার শুরুটাও ভালো ছিল। তৌফিক খান ৫০ রান করে দলকে ভালো শুরুই এনে দিয়েছিলেন। কিন্তু মাঝের ওভারে দ্রুত উইকেট হারানোর পর সিটির একমাত্র আশা হয়ে ছিলেন অধিনায়ক জাওয়াদ (৯২ বলে ৬টি চারে ৬৯ রান)। মাঝের ওভারে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন মোহামেডানের পেসার হাসান মাহমুদ।

ওদিকে গাজীকে হারিয়ে সুপার লিগে জায়গা প্রায় পাকা করে নিয়েছে আবাহনী। ৯ ম্যাচে ৬ জয়ে ১২ পয়েন্ট নিয়ে আবাহনী এখন পয়েন্ট তালিকায় চতুর্থ স্থানে। আবাহনী আজকের ২ পয়েন্ট পেয়েছে মূলত উইকেটকিপার–ব্যাটসম্যান জাকির আলীর সৌজন্যে। আগে ব্যাট করা আবাহনীর হয়ে ১০৩ বল খেলে ১০৯ রান করেন তিনে নামা জাকের। যাতে ছিল ১৩টি চার ও ২টি ছক্কা। আফিফ হোসেনের ব্যাট থেকে আসে ৩২ বলে ৫০ রানের ঝলমলে ইনিংস। ৪টি চার ও ৩টি ছক্কা ছিল আফিফের ১৫৬ স্ট্রাইক রেটের ইনিংসে। আবাহনীকে তিন শ ছাড়িয়ে যেতে সাহায্য করেছে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের ১০ বলে ১৮ রানের অপরাজিত ইনিংসটিও।

default-image

গাজীও শুরু থেকে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করছিল। যার শুরুটা করেন ওপেনার মেহেদী মারুফ (৬৭ বলে ৮২)। মারুফের শুরুটাকে টেনে নিয়ে যান আল আমিন জুনিয়র। ৬৬ বল খেলে ৯২ রান করে আল আমিন আউট হওয়ার পর শেষ ৫ ওভারে ৪৩ রান প্রয়োজন ছিল গাজীর। শেষ ওভারে যা এসে দাঁড়ায় ১৬ রানে। তানজিমের করা সেই ওভারের প্রথম বলেই রান আউট হয়ে যান কাজী অনিক। পরের বলে আলমগীর হোসেন ১ রান নিয়ে হুসনা হাবিবকে স্ট্রাইক দেন। যিনি পরের তিন বলে তিনটি চার মেরে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন। শেষ বলে জয়ের জন্য ৪ রান দরকার ছিল গাজীর। কিন্তু তামজিমের লো ফুলটস বলটি বাউন্ডারি ছাড়া করতে পারেননি হাবিব। ম্যাচ ‘টাই’ করতে প্রয়োজনীয় তৃতীয় রান নিতে গিয়ে আলমগীরের রানআউট জিতিয়ে দেয় আবাহনীকে।

আবাহনী–গাজী ম্যাচে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে বিকেএসপির স্কোরাররা। আবাহনীর ব্যাটিংয়ের সময়ে ইনিংসের ৩৯.১ ওভারে স্কোরবোর্ডের ভুল নিয়ে আম্পায়ারের সঙ্গে বিতর্কে জড়ান গাজীর অধিনায়ক আকবর আলী। সে সময় স্কোরবোর্ডে ৪০ ওভার লেখা থাকায় গাজীর অধিনায়ক তৃতীয় পাওয়ারপ্লের কথা ভেবে পাঁচজন ফিল্ডার ৩০ গজের বাইরে রাখেন। আবাহনীর আফিফ হোসেন ছিলেন স্ট্রাইকে। বোলার হুসনা হাবিব মেহেদী ওভারের প্রথম বল করতেই তৃতীয় পাওয়ারপ্লের আগে বাড়তি একজন ফিল্ডার বাইরে রাখায় আম্পায়ার নো বল ডাকেন। এই ঘটনায় গাজীর ক্রিকেটাররা আম্পায়ারের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। অধিনায়ক আকবরকে বারবার স্কোরবোর্ডের দিকে হাত তুলে কিছু বলতে দেখা যাচ্ছিল। এ কারণে প্রায় পাঁচ মিনিটের মতো খেলা বন্ধ ছিল।

default-image

মিরপুরে অবশ্য সহজ জয়ের পথেই এগোচ্ছিল রূপগঞ্জ টাইগার্স। সাইফ হাসান ও জিয়াউর রহমানের জোড়া অর্ধশতকে শেখ জামালের ২০২ রানের জবাবে শূন্য রানে ২ উইকেট হারিয়ে ফেললেও আসিফ আহমেদের ৯৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল রূপগঞ্জ। তাঁকে সঙ্গ দিচ্ছিলেন মার্শাল আইয়ুব ও সাদ নাসিম। মৃত্যুঞ্জয় বোলিংয়ে এসে সব ভেস্তে দেন। আসিফ, নাসিমের পর শরিফুল্লাহকেও আউট করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন এই বাঁহাতি পেসার।

এর মধ্যে নাসিম ও শরিফুল্লাহর উইকেটটি আসে শেষ ওভারে। যখন জয়ের জন্য রূপগঞ্জের দরকার ৮ রান, হাতে আছে ৪ উইকেট। স্ট্রাইকে থাকা শরীফুল্লাহ প্রথম দুই বলে কোনো রান নিতে পারেননি। তৃতীয় বলে ছক্কা মারার চেষ্টা করতে গিয়ে ক্যাচ আউট হন তিনি। পরের বলেই আউট সাদ নাসিম। পরের দুই বল থেকে ২ রান নিতে পেরেছেন নাসুম আহমেদ ও মুকিদুল ইসলাম। ৪ রানের জয়ে পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষ স্থানটা আরও পাকাপোক্ত করেছে ইমরুল কায়েসের দল। ৯ ম্যাচে ৮ জয়ে শেখ জামালের পয়েন্ট ১৬। ৮ ওভারে ৩৭ রানে ৩ উইকেট নিয়ে মৃত্যুঞ্জয় ম্যাচ ঘুরিয়ে দিলেও ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছেন জিয়াউর রহমান। আট নম্বরে ৫০ বল খেলে ৫৭ রান করার পর বোলিংয়ে যিনি নিয়েছেন ২ উইকেট।

খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন