বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এ মাঠেই আগের ম্যাচে শূন্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্ত এক ক্যাচ নিয়েছিলেন তামিম। চোট নিয়ে এমন ক্যাচ! বিসিবির অন্দরমহলে সে নিয়েও হওয়া আলোচনার সূত্র ধরেই নতুন শঙ্কা—এবার না তাঁর সেঞ্চুরিটাও কোনো আলোচনার জন্ম দেয়!

অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞ শল্যবিদ ডেভিড ইয়াং বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের পুরোনো বন্ধু। গত শ্রীলঙ্কা সফর থেকেই বয়ে বেড়ানো হাঁটুর চোট নিয়ে তামিমের প্রতি ইয়াংয়ের পরামর্শ ছিল, তিনি যেন এই সিরিজে না খেলেন। ৮–১০ সপ্তাহ বিশ্রাম নিয়ে তারপর মাঠে নামেন। নয়তো চোটের মাত্রা বাড়তে পারে আরও, প্রয়োজন হতে পারে অস্ত্রোপচারের। তামিমকে তখন মাঠের বাইরে চলে যেতে হতে পারে লম্বা সময়ের জন্যই।

default-image

ডেভিড ইয়াংয়ের পরামর্শের পর বিসিবির মেডিকেল বিভাগের প্রেসক্রিপশনে জিম্বাবুয়ে সফরে তিন ম্যাচের টি–টোয়েন্টি সিরিজটা খেলবেন না তামিম। খেলবেন না অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আসন্ন পাঁচ ম্যাচের টি–টোয়েন্টি হোম সিরিজে। তামিমের খেলা অনিশ্চিত এর পরপরই হতে যাওয়া নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি–টোয়েন্টি হোম সিরিজেও।

চোট পাওয়ার পর একজন খেলোয়াড়ের চিকিৎসা–পুনর্বাসন কী হবে, তিনি কত দিন খেলতে পারবেন না—এসবই ঠিক করে দেয় চোটের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে ফিজিও–চিকিৎসকদের পরামর্শ। তবু টেস্টে না খেলার পর টি–টোয়েন্টিতেও তামিমের অনুপস্থিতি বোর্ডের অন্দরমহলে কিছুটা অসন্তোষ এবং নেতিবাচক আলোচনারই জন্ম দিয়েছে বলে খবর।

তামিমের চোট নিয়ে খোদ বিসিবিতেই কারও কারও সন্দেহ। এ রকম একটা ধারণাও আছে, তিনি হয়তো ইচ্ছে করেই টেস্টটা খেলেননি, খেলতে চান না সামনের টি–টোয়েন্টি সিরিজগুলোতেও।

এ নিয়ে হারারে–ঢাকা কম আলোচনা হয়নি গত কয়েক দিনে। ঘটনাপ্রবাহ জরুরী পরিস্থিতির দিকে না গড়ানোতেই সে আলোচনা আর বাইরে আসেনি। প্রসঙ্গ তুললে দলের ভেতরে থাকারাও বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চেষ্টা করেছেন সচেতনভাবে।

default-image

তবে এ ধরনের আলোচনা ও কিছু মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই তামিমের মনঃকষ্টের কারণ হয়েছে। তা থেকে আজই যদি তিনি কঠিন কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েও নিতেন, তাতে অবাক হওয়ার কিছু থাকত না। গতকাল রাতে হারারের হাওয়া–বাতাসে সে রকম খবর একটু বেশিই উড়ে বেড়িয়েছে। মাহমুদউল্লাহর মতো তামিমও না আবার...!

সবাইকে চমকে দিতে তামিমের অবসর নেওয়ারও দরকার নেই। ছেড়ে দেওয়ার মতো আরেকটি জিনিসও তাঁর হাতে আছে—ওয়ানডের অধিনায়কত্ব! তবে এসবই ছিল আলোচনা, গুঞ্জন। যেটি শেষ পর্যন্ত বাস্তবতা পাবে না বলে নিশ্চিত হওয়া গিয়েছিল কাল রাতেই। তামিমের মনে সবাইকে চমকে দেওয়ার মতো কোনো কিছু করার চিন্তা যদি এসেও থাকে, সেটি পরে সরে গেছে। প্রায় ফুটতে থাকা ‘বোমা’টিকে নাকি আপাতত নিষ্ক্রিয়ই করে ফেলা হয়েছে।

একজন ক্রিকেটারের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ব্যাট আর বল। নিজেদের নিয়ে আলোচনা–সমালোচনার জবাব দিতে জিম্বাবুয়ে সিরিজে সেই অস্ত্রই তুলে নিয়েছেন দলের তিন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ, সাকিব আল হাসান এবং সর্বশেষ তামিম ইকবাল।

মাহমুদউল্লাহ টেস্টে অচল বলে বাংলাদেশের ক্রিকেটে যে তত্ত্ব ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল, সেটি তিনি মহাসমারোহে বাতিল করে দিয়েছেন অপরাজিত ১৫০ রানের ইনিংস খেলে। ম্যাচের মধ্যেই ড্রেসিংরুমে তাঁর টেস্ট থেকে আকস্মিক অবসরের সিদ্ধান্ত জানানোর নাটকীয়তা ঠিক ছিল কি না, সেটি নিয়ে আলোচনা হতেই পারে। কিন্তু মাহমুদউল্লাহর সেঞ্চুরি সেই ভুলটা তো অন্তত ভেঙে দিয়েছে যে টেস্ট ক্রিকেটটা আর তাঁর খাবার নয়।

default-image

আইসিসির নিষেধাজ্ঞা থেকে ফেরার পর ব্যাট হাতে সাকিবের ফর্মহীনতাও কম আলোচনার জন্ম দেয়নি। অনেকে তো ধরেই নিয়েছিলেন যে সাকিব বুঝি তাঁর শেষ দেখতে শুরু করেছেন। বল হাতে ৪–৫ উইকেট নেওয়াও যেন কোনো সমাধান নয়। সাকিবকে ব্যাট হাতেই কিছু করে দেখাতে হবে। নইলে এই তাঁর এপিটাফ লেখা হলো বলে!

জনতার দাবি, সাকিব রাজার মতোই মিটিয়ে দিলেন দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ম্যাচ জেতানো ৯৬ রানের ইনিংস খেলে।

কেউ বলতেই পারেন যে জিম্বাবুয়ের মতো দলের বিপক্ষে ভালো খেলাটাই কি সব! বাস্তবতা হলো ক্রিকেটে দিনটা যেদিন আপনার হবে না, সেদিন প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া যা, জিম্বাবুয়েও তা। বিপৎসংকুল সময়ে ঠান্ডা মাথায় খেলা সাকিবের সেই ইনিংসটা না হলে জিম্বাবুয়ে নিশ্চয়ই সেদিন বাংলাদেশের কাছে এমনি এমনি হেরে যেত না।

default-image

বাকি ছিলেন তামিম ইকবাল। হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে আজ তিনিও জবাব দিলেন ব্যাট হাতেই। গত বছরের মার্চে এই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই সিলেটে পিঠাপিঠি সেঞ্চুরি করেছিলেন। পরের ১১ ইনিংসে চারটি ফিফটি করলেও কোনোটিকেই নিতে পারেননি তিন অঙ্কে।

আসলে ক্রিকেট বিধাতাই হয়তো লিখে রেখেছিলেন, তামিম সেঞ্চুরি করবেন আজ, সেই সেঞ্চুরি ২৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশকে ম্যাচ জেতাবে ৪ ওভার ৪ বল বাকী থাকতেই এবং এই সেঞ্চুরি হবে তাঁকে নিয়ে হওয়া নেতিবাচক আলোচনার মোক্ষম জবাবও। ক্রিকেটে অভিমানী মনের আবেগী প্রতিবাদ সব সময় কঠোর ভাষা খুঁজে পায় না। তার চেয়ে বরং এ রকম একটা সেঞ্চুরিই ভালো, শাসনের দেয়ালে যার আঘাত একটা নিরেট ব্যাটের আঘাতের চেয়েও কম ব্যথা দেয় না।

মূল আলোচনটা অবশ্য থেকেই গেল। আহত হাঁটু নিয়ে কীভাবে সেদিন ও রকম একটা ক্যাচ নিয়েছিলেন তামিম, কী করে করলেন আজকের সেঞ্চুরি?

ডাক্তার–ফিজিওতেও যখন কুলাচ্ছে না, সে তদন্তের ভার নাহয় ফেলুদাকেই দেওয়া হোক। গোয়েন্দা সমাজের বাসিন্দাদের মধ্যে তিনিই ক্রিকেটটা বেশি ভালো বুঝবেন বলে মনে হয়।

খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন