বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

স্মিথের বিপক্ষে তিনটি বর্ণবাদের অভিযোগ ছিল। ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ছিলেন উইকেটকিপার থামি সোলেকাইল। তবে তাঁকে সে সময় কোনো টেস্ট খেলানো হয়নি। এ ক্ষেত্রে বর্ণবৈষম্যমূলক আচরণ করেছিলেন সে সময়ের অধিনায়ক স্মিথ, অভিযোগ ছিল এমন।

স্মিথের বিপক্ষে পরের দুটি অভিযোগ তাঁর ক্রিকেট পরিচালক পদে থাকা অবস্থায়। একটি হলো, সাবেক প্রধান নির্বাহী থাবাং মোরোয়ের সঙ্গে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে কৃষ্ণাঙ্গ নেতৃত্বের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলের স্মিথ। অন্যটি তাঁর সাবেক সতীর্থ মার্ক বাউচারকে প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সময়। এ ক্ষেত্রে এনোচ এনকোয়ির সঙ্গে বর্ণবৈষম্যমূলক আচরণ করেছেন বলেও অভিযোগ ছিল স্মিথের বিপক্ষে। তবে অ্যাডভোকেট এনগোয়াকো মায়েনেতিয়ে ও মাইকেল বিশপের কমিটি পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ না থাকায় অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন স্মিথকে।

default-image

অবশ্য এসজেএন কমিশনের প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পরই ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা জানিয়েছিল, স্মিথ ও বাউচারের নিয়োগ বোর্ডের আগের কমিটির মেয়াদে হয়েছিল বলে নতুন করে কোনো তদন্ত করা হবে না। তবে এখন যে প্রক্রিয়ায় অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেলেন স্মিথ, সেটির সব খরচ বহন করতে হবে ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকাকেই।

গত ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয়েছিল এসজেএনের প্রতিবেদন। সেখানে বর্ণবাদের অভিযোগ যাঁদের বিপক্ষে আনা হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে ছিলেন স্মিথ, বাউচার, এবি ডি ভিলিয়ার্স। তবে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না থাকায় আরেকটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব অভিযোগের নিষ্পত্তি করার সিদ্ধান্ত আসে। স্মিথ ও বাউচারের অভিযোগের এ শুনানি করেছে ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা। এতে খরচ হয়েছে প্রায় ৫ লাখ মার্কিন ডলার।

স্মিথ রেহাই পেলেও বাউচার অসদাচরণের অভিযোগের শুনানির মুখোমুখি হবেন সামনের মাসে। এ অভিযোগ প্রমাণিত হলে বাউচারকে সরিয়ে দেবে ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপ পর্যন্ত বাউচারের সঙ্গে চুক্তি আছে তাদের।

default-image

ক্রিকেট পরিচালক হিসেবে স্মিথের মেয়াদ অবশ্য শেষ হয়ে গেছে গত ৩১ মার্চই। পুনরায় এ পদের জন্য আর আবেদন করেননি তাদের ইতিহাসের সফলতম অধিনায়ক। স্মিথকে পরামর্শক হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছিল ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা, তবে সেটি গ্রহণ করেননি তিনি।

ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান লসন নাইডু বলেছেন, ‘অবশেষে এ প্রক্রিয়া শেষ হলো বলে দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে গ্রায়েম স্মিথের অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি জানানোর সময় এখন। প্রথমত, আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা অধিনায়ক সে এবং পরে ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ক্রিকেট পরিচালক। পরের পদে তার ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল, বিশেষ করে ছেলেদের দল পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে। উত্তরসূরিদের জন্য দৃঢ় একটি ভিত গড়ে দিয়েছে সে।’

ক্রিকেট পরিচালক হিসেবে সময়টা অবশ্য খুব সুবিধার যায়নি স্মিথের। এসজেএন প্রক্রিয়ায় স্মিথের ব্যক্তিগত তথ্যও প্রকাশ্যে এসেছিল। তখন জানানো গিয়েছিল, মাসে প্রায় ৩৫ হাজার মার্কিন ডলার বেতন পেতেন স্মিথ, যেটি বোর্ডের প্রধান নির্বাহীর চেয়েও বেশি। ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা এই ‘কঠিন’ সময়ের জন্য স্মিথের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে।

খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন