default-image

অনেক কারণেই এই বিশ্বকাপটা অন্য রকম হতে যাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার আসল সামর্থ্যের পরীক্ষা যেমন হবে, তেমনি দেখা যাবে ভারতের প্রতিভাও। শিরোপা লড়াইয়ে আরও কয়েকটি দলও অবশ্য আছে। বিশেষ করে নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। আমার মনে হচ্ছে, জোর লড়াই হবে এবার। আগামী ছয় সপ্তাহ তাই ক্রিকেটপ্রেমীদের উৎসবে মেতে থাকার দিন।
যেকোনো খেলার বিশ্বকাপই অংশগ্রহণকারীদের সেরাটা বের করে আনে। ক্রিকেটার হিসেবেও একজনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন থাকে দেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলা এবং সেটা জেতার। ১৯৮৩ সালে যেমন আমাদের পক্ষে খুব কম মানুষই বাজি ধরেছিল। বড় বিস্ময় হয়ে আসা ওই বিশ্বকাপ জয়ের উচ্ছ্বাস শেষ হতেও তাই সময় লেগেছিল অনেক।
১৯৭৫ প্রথম বিশ্বকাপ থেকে এ পর্যন্ত ক্রিকেটের অনেক বিবর্তন হয়েছে। প্রযুক্তিও দিন দিন যেন ব্যাটসম্যান-বান্ধব হয়ে উঠছে। সবকিছুই আনা হচ্ছে শুধু ব্যাটসম্যানদের কথা ভেবে। শুধু আইন আর প্রযুক্তিই বদলায়নি, টুর্নামেন্টের প্রাইজমানি, অংশগ্রহণকারী দল, দর্শক—সবকিছুরই বাড়বাড়ন্ত।
শিরোপার অন্যতম দাবিদার ভারত বেশ প্রস্তুত। ওদের ব্যাটিং লাইনআপ বিশ্বসেরা। এখন দলের অন্যদের, বিশেষ করে নানা দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের দায়িত্ব নেওয়ার সময়। সবচেয়ে বড় দায়িত্ব দলের ক্রিকেট পরিচালক রবি শাস্ত্রীর। ওর অভিজ্ঞতা আছে একটা দলকে পরিচালনা করার। ভারতেরও সামর্থ্য আছে শিরোপা ধরে রাখার, তবে সামর্থ্যের সঠিক ব্যবহার হতে হবে। মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বেও আমি আস্থাশীল। আশা করি, টেস্ট দলের অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিয়ে সে উদ্যমটা হারিয়ে ফেলেনি।
শিরোপার দাবিদার হিসেবে অনেকে অনেক নাম বলবে। এমন নয় যে সব সময় সেরা দলটা জিতবে। দক্ষিণ আফ্রিকার কথাই ধরুন, সর্বদাই ফেবারিট। কিন্তু সামর্থ্যের প্রতি সুবিচার ওরা করতে পারেনি কখনো। ১৯৯২ সালে বিশ্বকাপ অভিষেকেই সেমিফাইনালে খেলেছিল, কিন্তু বৃষ্টি-আইন তাদের থামিয়ে দেয় সেখানেই। এবারও ওদের অসাধারণ কয়েকজন ব্যাটসম্যান আছে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নিজেদের চোকার অপবাদ ঘোচানো।
কাগজে-কলমে দক্ষিণ আফ্রিকাকে সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল মনে হচ্ছে, তবে আমার কাছে এবারের বিশ্বকাপের ‘ডার্ক হর্স’ নিউজিল্যান্ড। নিজেদের কন্ডিশনে খেলার সময় ওরা অন্য রকম দল হয়ে যায়। ওরা নিজের মাঠে খেললে প্রতিপক্ষ হিসেবে খুবই ভয়ংকর। অলরাউন্ডারে ঠাসা একটা দল এবং আমি নিশ্চিন্তে ওদের সেমিফাইনাল পর্যন্ত ধরে রেখেছি।
অস্ট্রেলিয়ার প্রস্তুতিটা দারুণ হয়েছে। তবে শুরুতেই সবটুকু দিয়ে ফেলার ব্যাপারে ওদের সতর্ক থাকতে হবে। প্রথম পর্বে খুব ভালো করলে মাঝে মাঝে নিজেদের দুর্বলতা আড়ালে থেকে যায়। ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজটা দুর্দান্ত খেলেছে অস্ট্রেলিয়া, ত্রিদেশীয় সিরিজেও দারুণ ছন্দে দেখা গেছে। অস্ট্রেলিয়ার দিকে আপনাকে সব সময় চোখ রাখতে হবে।
ইংল্যান্ডকেও সব সময় হিসাবে রাখতে হয়। তবে ইয়ান বোথামের পর ইংল্যান্ডে কখনো আর কেউ আসেনি যে একাই প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দিতে পারে। অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফের সামর্থ্য ছিল, কিন্তু সেও বোথাম হতে পারেনি। এই ইংল্যান্ড দলে বীরেন্দর শেবাগ, সনাৎ জয়াসুরিয়া, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট কিংবা ম্যাথু হেইডেনের মতো একজন খেলোয়াড়ের অভাব আছে যে একাই ব্যবধান গড়ে দিতে পারে।
পাকিস্তানকেও বাদ রাখা যাবে না। গত বিশ্বকাপেও ওরা সেমিফাইনালে খেলেছে। অননুমেয় দল বলে ওরা সব সময় যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্য হুমকি। আর ওদের ক্রিকেট এমনিতেই খুব কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, তাই হারানোর কিছু নেই। ১৯৯২ বিশ্বকাপ থেকেও এবার অনুপ্রাণিত হতে পারে তারা।
আমি জিম্বাবুয়ে, বাংলাদেশ এবং সহযোগী দেশগুলোর সম্ভাবনাও বাতিল করে দিচ্ছি না। তবে ধারাবাহিকতা ধরে রেখে তারা আদৌ নকআউট পর্বে যেতে পারবে কি না সেই সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে। কয়েকটা ছোট দলের অঘটনের কথা আমি জানি। আয়ারল্যান্ড বিশ্বকাপে বেশ কয়েকটা অঘটন ঘটিয়েছে। তবে ম্যাচের পর ম্যাচ এটা পুনরাবৃত্তি করা খুব কঠিন।
দলগুলো দুই প্রান্ত থেকেই নতুন বল কীভাবে ব্যবহার করে আমি সেটা দেখার অপেক্ষায় আছি। বল এখন অনেক বেশি সময় শক্ত থাকবে এবং আমি জানি ব্যাটসম্যানরাও এতে খুশিই হবেন। তবে বোলারদেরও পাল্টা লড়াইয়ের সুযোগ থাকবে, কারণ যতটুকু শুনেছি, আয়োজকেরা মাঠ বেশি ছোট করছে না। এখন ৪০ ওভারের সময়ও বলটা থাকবে মাত্র ২০ ওভারের পুরোনো। রিভার্স সুইং হয়তো পাওয়া যাবে না, কিন্তু শেষ ৫ ওভারে দৃশ্যটা বদলে যেতে পারে।
সেমিফাইনালের জন্য আমি বেছে নেব ভারত, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে। খেলোয়াড়দের মধ্যে বিশেষভাবে আমার চোখ থাকবে বিরাট কোহলি, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, কেন উইলিয়ামসন, উমর আকমল, কুমার সাঙ্গাকারা, জশ বাটলার, এবি ডি ভিলিয়ার্স ও ক্রিস গেইলের ওপর।
উইলিয়ামসন তার দলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাক্সওয়েল এ মুহূর্তে সবচেয়ে সাহসী ক্রিকেটার। ক্রিজে থাকলে আকমল সব সময়ই ভয়ংকর। কোহলির সামর্থ্য আছে একাই ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার। অভিজ্ঞতার কারণে যেকোনো চাপ নিতে পারে সাঙ্গাকারা। বাটলার ব্যাট করে খুবই স্বছন্দে। যেকোনো বোলিং আক্রমণকে ছিঁড়েখুঁড়ে ফেলতে পারে ডি ভিলিয়ার্স। আর ছন্দে থাকা গেইলকে দেখার চেয়ে আনন্দদায়ক আর কী হতে পারে!

বিজ্ঞাপন
খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন