default-image

বহুপ্রতীক্ষিত ম্যাচটিতে কী দুর্দান্তভাবেই না নিজেদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিল ভারত! গত দুই মাসে দলে যেসব অভাব দেখা গেছে, পরশু তার সবকিছুই খুঁজে পাওয়া গেল। ভারত ছিল গোছানো, নিয়ন্ত্রিত, ভালোভাবে প্রস্তুত, পরিকল্পনার ছাপ ছিল সবকিছুতেই। তাদের খেলায় ছিল সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ছাপ। সমর্থকদের আশার পালে অবশ্যই এটা জোর হাওয়া দেবে। তবে এটা মনে করতে রাখতে হবে, অভিযান সবে শুরু হয়েছে। জয়টাকে খুব বেশি বড় করে না দেখেও তাই বলা যায়, শুরুটা অন্তত দারুণ হয়েছে।
ম্যাচের বড় দুটি প্রাপ্তি শিখর ধাওয়ানের ফর্মে ফেরা এবং পেসারদের সপ্রতিভ পারফরম্যান্স। ধোনি অনেক দিন থেকেই ধাওয়ানের ওপর আস্থা রাখছে। এটা ঠিকই আছে, কারণ ওর মধ্যে বাড়তি কিছু একটা আছে। দলে যখন একজন পরীক্ষিত ম্যাচ জেতানো খেলোয়াড় থাকে, অধিনায়ক তাঁকে সুযোগ দিতেই পারেন। ধাওয়ানের ইনিংসটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ ওর কাছ থেকেই বাকি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস সঞ্চারিত হয়েছে।
বিরাট কোহলি ছিল অনুমিতভাবেই অসাধারণ। ত্রিদেশীয় সিরিজে ওর বাজে ফর্মটা আমি আসলে খুব একটা বড় করে দেখিনি। টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বলতে গেলে একাই লড়ার পর ও মানসিকভাবে হয়তো একটু ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। তার ওপর প্রথমবার নেতৃত্ব দেওয়ার বাড়তি একটা ধকল তো আছেই। এটা বোঝা যাচ্ছিল, ওর আসলে খেলা থেকে একটু দূরে থাকার দরকার ছিল। 
রোববার কোহলিকে দেখে বোঝা গেছে সে ২২টি সেঞ্চুরির মালিক। সুরেশ রায়নাকে মারার ছাড়পত্র দিয়ে ও-ই হাল ধরে রেখেছিল এক পাশ থেকে। পাকিস্তানের কাছ থেকে ম্যাচটি বের করে নিতে রায়নার ইনিংসটারও বড় ভূমিকা আছে। ওর ৭৪ রানেই তো এই মাঠে গড়ের চেয়ে ২০ রান বেশি করেছে ভারত। শেষ দিকে অমনভাবে ধস না নামলে রান আরও বেশি হতে পারত।
বোলিংটাও ছিল ইতিবাচক, বিশেষ করে মোহিত শর্মার। ওর নিয়ন্ত্রণ ও পেসে বৈচিত্র্য আনা বেশ চমকে দিয়েছে আমাকে। সেই সঙ্গে উমেশ যাদব ও মোহাম্মদ শামিদের কল্যাণে অনেক দিনের মধ্যে এটা ছিল ভারতের সেরা বোলিং পারফরম্যান্স। 
পাকিস্তান জানে টুর্নামেন্টের প্রায় পুরোটাই এখনো বাকি। ম্যাচটা ওদেরও হতে পারত, এমনকি শহীদ আফ্রিদি ও মিসবাহ-উল-হক ক্রিজে থাকার সময়ও সুযোগ ছিল তাদের। এই দলটা নবীন, কিছুটা পরিণতিবোধের অভাব আছে। কিন্তু এমন অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর কাজটা তারা আগে বহুবার করে দেখিয়েছে।
কাল আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দেখে আমার খারাপই লেগেছে। অনেকেই ধারণা করছিল, ক্যারিবীয়দের এ রকম কিছু হতে পারে। কাল তো ওদের দেখে একেবারেই খেই হারিয়ে ফেলেছে বলে মনে হচ্ছে। ২৩ বছর বয়সী জেসন হোল্ডারের কাঁধে এত দ্রুত অধিনায়কের দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়াটা বাড়াবাড়ি হয়ে গেছে। ওটা বরং ড্যারেন স্যামিকে দেওয়া উচিত ছিল। আইরিশদের দেখে কখনোই মনে হয়নি তারা হারতে পারে। মনে হচ্ছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য সামনের ছয় সপ্তাহ কঠিনই যাবে। এখান থেকে বেরিয়ে বড় কিছু করতে গেলে অলৌকিক কিছুর প্রয়োজন হবে তাদের। (গেমপ্ল্যান)।

বিজ্ঞাপন
খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন