default-image

দীর্ঘ এক জয়হীন সফরের পর ভারতীয় সমর্থকদের কাছে এ যেন প্রত্যাশার চেয়েও বেশি! পাকিস্তানের সঙ্গে জয়ের পরই আমি বলেছিলাম, এ রকম খেলতে পারলে ভারত দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে দাপটেই জিতবে। অলরাউন্ড পারফরম্যান্স দিয়ে তারা আমাকে মুগ্ধ করেছে। দৃঢ় দলীয় প্রচেষ্টা আর শিখর ধাওয়ানের অসাধারণ ব্যাটিংই ভারতের এই বড় জয়ের আসল কারণ। ফিল্ডিংয়েও অনেক উন্নতি হয়েছে তাদের।
এমন জয়ের পর ভারতের বার্তাটা পরিষ্কার। বিশ্বকাপের তারা যোগ্য দাবিদার। বিশ্বকাপে আসার আগে ভারতের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। নিশ্চয়ই অনেকের কপালে এতে ভাঁজ পড়েছিল। তবে প্রথম দুই ম্যাচে দাপুটে জয়ই প্রমাণ করে, ভারত ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আত্মবিশ্বাস এভাবেই বাড়ে। বোলাররা ছন্দ ফিরে পাওয়ার পুরস্কারও পাচ্ছে। ভারতীয় সমর্থকদের এখন শুধুই সামনে তাকানোর সময়।
বিশ্বকাপের এখন দ্বিতীয় সপ্তাহ চলছে। এরই মধ্যে অসাধারণ কিছু পারফরম্যান্স দেখেছি আমরা। বিরাট কোহলি, শিখর ধাওয়ান, লেন্ডল সিমন্স, ডেভিড মিলারের সেঞ্চুরির সঙ্গে অসাধারণ কিছু বোলিং।
গ্রুপ ‘বি’তে আইরিশদের ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানো অনেকের কাছেই হয়তো বিস্ময়কর। তবে আইরিশদের চোখে নিশ্চয়ই তা নয়। তাদের অবস্থা তো এখন সেই গানের মতো, ‘আইরিশ চোখ হাসছে আজ।’ এ ম্যাচটিকে তারা পাখির চোখ করেছিল, খেলেছেও বিজয়ী বীরদের মতোই।
সহযোগী দেশ বা পুঁচকে নাম দুটো যেন তাদের পছন্দ নয়। যোগ্যতাবলেই তারা এ পর্যায়ে এসেছে। আটজন খেলোয়াড়ের কাউন্টি খেলার অভিজ্ঞতাও আছে। এ টুর্নামেন্টে তাদের টিকে থাকাই লক্ষ্য, এখন এবং ভবিষ্যতেও। অতীতেও ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের মতো দলকে তারা বিদায় করে দিয়েছে। তাদের দৃষ্টিতে এখন কোয়ার্টার ফাইনাল। আরব আমিরাত, জিম্বাবুয়ে আর ধুঁকতে থাকা পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ই যথেষ্ট হওয়ার কথা আয়ারল্যান্ডের উত্তরণের জন্য।
আইরিশদের কাছে পরাজয়ের ধাক্কা সামলে পাকিস্তানের বিপক্ষে বড় জয়। বলতেই হচ্ছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ পথ খুঁজে পেয়েছে। আর পাকিস্তানের মনে হয় এখন প্রতিটি ম্যাচেই জয় প্রয়োজন। পাঁচটি ক্যাচ মিস করলে তো ম্যাচ জেতার আশা করা যায় না। ফিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রে তারাই বোধ হয় সবচেয়ে দুর্বল। ব্যাটিং আর বোলিংয়েও উন্নতি করতে হবে।
গ্রুপ ‘বি’ থেকে বোধ হয় ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আয়ারল্যান্ডই কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে যাচ্ছে। (হক-আই)।

বিজ্ঞাপন
খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন