default-image

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি ‘ম্যাচ অব দ্য টুর্নামেন্ট’। এর চেয়ে নাটকীয় কোনো ম্যাচ দিয়ে দুই দলের বিশ্বকাপ-পর্ব আর শুরু হতে পারত না! আজ তো কোটি মানুষের চোখ থাকবে এই ম্যাচে। হকি-কাবাডি-ফুটবল বা অন্য যেকোনো খেলায় ভারত-পাকিস্তান মানেই আলাদা উত্তাপ। তবে ক্রিকেটে সেটা একটু বেশিই। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই টিভির পর্দায় অগুনতি চোখ বুঁদ হয়ে থাকা, মানুষের কর্মব্যস্ততা থেমে যাওয়া। এটিতে জয়ে একটি দেশ উচ্ছ্বাসে ভাসে আর পরাজয়ে অন্য দেশটি ডোবে বিষাদে। হৃদয়ে কাঁপনতোলা এই দ্বৈরথ খেলোয়াড়দের ওপরও অপরিসীম চাপ ফেলে। ম্যাচটি আসলে দ্বিধারী তলোয়ারের মতো, কারও কাছ থেকে যেমন সেরাটা বের করে আনে। আবার কেউ চাপে ভেঙে পড়ে।

টেস্ট ও ওয়ানডেতে দুই দলের কিছু মহাকাব্যিক দ্বৈরথ আছে। তবে বিশ্বকাপে ভারত পাকিস্তানের সঙ্গে মুখোমুখি পাঁচটি ম্যাচের একটিতেও হারেনি। এটা দুর্দান্ত একটা রেকর্ড, আমি নিজেও ১৯৯২ সালে সেই জয়ের সাক্ষী ছিলাম। এরপর ১৯৯৬, ১৯৯৯, ২০০৩ সালে প্রতিবারই ভারত জিতেছে। ২০১১ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে মোহালির ম্যাচটা এখনো স্মৃতিতে জ্বলজ্বল করে।

অনেকেই বলছে, আজকের ম্যাচের আগে ভারতকে ক্লান্তি জেঁকে ধরেছে। আমি অবশ্য ব্যাপারটাকে ইতিবাচকভাবেই দেখছি। ভারত অস্ট্রেলিয়ায় অনেক দিন ধরেই আছে, এ ব্যাপারটা তাদের জন্য বাড়তি একটা সুবিধা। আমি নিশ্চিত, খেলোয়াড়েরা কন্ডিশন থেকে ফায়দা তুলতে মানসিকভাবে প্রস্তুত।

১৯৮৩ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের আগে আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে গিয়েছিলাম। নিজেদের শক্তি আর সামর্থ্যও আমরা বুঝতে পেরেছিলাম। যদিও দুই দেশের কন্ডিশন ছিল অনেকটাই আলাদা। ইংল্যান্ডে অন্য রকম অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হবে, সেটা মাথায় রেখেই আমরা যূথবদ্ধ ছিলাম। অথচ ওয়েস্ট ইন্ডিজে আমরা শুধু একটা ওয়ানডেতে জিতেছিলাম। সেটাই আমাদের আত্মবিশ্বাস অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ায় বিভিন্ন চ্যালেঞ্জকে কীভাবে সামলাতে হয়, সেটাও এই দলের বুঝে ফেলা উচিত। অর্ধেক পানিভর্তি একটা গ্লাসকে কি আপনি খালি না ভরা বলবেন? আমি তাই আশাবাদীই হতে চাই।
আমি বুঝি, কিছু খেলোয়াড়ের ফর্ম নিয়ে অধিনায়কের দুশ্চিন্তা আছে। তবে নিজের হাতে থাকা অস্ত্রভান্ডার নিয়েই তাকে রণপরিকল্পনা সাজাতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে মনোযোগ। হেরে গেলে আপনাকে মানতেই হবে প্রতিপক্ষ আপনার চেয়ে ভালো খেলেছে। জয় সব সময় বাড়তি একটা প্রেরণা।
আমি আশা করব, বোলাররা খুব দ্রুত উইকেটের সঙ্গে ধাতস্থ হতে পারবে। সিমারদের কন্ডিশন বুঝতে হবে, দ্রুত লাইন-লেংথ খুঁজে নিতে হবে। লক্ষ্যটা হওয়া উচিত প্রতিপক্ষকে দ্রুত অলআউট করার চেষ্টা করা। ১৯৮৫ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ জেতার পথে আমরা ফাইনাল বাদে সব ম্যাচেই প্রতিপক্ষকে অলআউট করতে পেরেছিলাম। শুধু ফাইনালেই পাকিস্তানের একটা উইকেট ফেলতে পারিনি।
বোলারদের নিজেদের ভূমিকাটা ঠিক করে নিতে হবে। ফিট না হলে ভুবনেশ্বর কুমারকে খেলানো উচিত হবে না। ১৩৫ কিলোমিটারে যে বল করতে পারে, সে ১২৫ কিলোমিটার তুললে হবে না। মুনাফ প্যাটেল শুরুতে ১৪৫ কিলোমিটার গতিতে বল করে সবাইকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। এরপর তার গতি নেমে এল ১৩০ কিলোমিটারে, একসময় তো হারিয়েই গেল। বয়সের সঙ্গে সঙ্গেই খেলোয়াড়েরা পরিণত হয়। ১৮ বছর বয়সে দুই ঘণ্টা নেটে কাটিয়ে আপনি ১০০-র বেশি বল খেলতে পারেন। বয়সের সঙ্গে এটা বদলে যায়। আমার মনে আছে, সুনীল গাভাস্কার একবার নেটে দুজন বোলারকে দিয়ে ৩০টি বল করিয়েই ক্ষান্ত দিল। তার জন্য ওটাই যথেষ্ট ছিল।
বোলারদের বুঝতে হবে, সবাই চাইলেই ডেনিস লিলি, মাইকেল হোল্ডিং বা শোয়েব আখতারের মতো বল করতে পারবে না। আপনি চাইলে বলকে বেশি ওপরে ওঠাতে পারেন, চাইলে বলকে মুভ করাতে পারেন। বলবিন্দর সিং সান্ধু বা রজার বিনি যেমন বল দারুণ মুভ করাতে পারত। আবার চেতন শর্মা বলকে বেশি উচ্চতায় ওঠাতে পারত। বোলারদেরই বুঝতে হবে তারা কীভাবে বল করবে।
আরেকটা কথা, জিততে হলে ৩০০ রান করতেই হবে এমন কথা নেই। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে ২৫০-২৭০ রানও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারে। বোলারদের রান আটকানোর চেষ্টা না করে উইকেট নেওয়ার চেষ্টা করা উচিত। পাকিস্তান খুবই অননুমেয় একটা দল। ভারত ফেবারিট হলেও লড়াইটা জম্পেশ হবে। আশা করি, সেরা দলটাই জিতবে। (পিচ সলিউশন)

বিজ্ঞাপন
খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন