‘তোমরা যে বলো দিবস-রজনী ভালোবাসা ভালোবাসা’...

ভালোবাসা দিবসের এ রঙিন ক্ষণে প্রেমিকদের দিবস-রজনী ভালোবাসাময় হলেও সাকিব-কোহলিদের তা কেবলই ‘ক্রিকেটময়’! বিশ্বকাপের ঘণ্টা বেজে গেছে এরই মধ্যে। তাবৎ প্রেমিকদের মতো এ সময়ে প্রেমিকার সঙ্গে একান্তে সময় কাটানোর সুযোগ না থাকলেও প্রিয়তমাকে অনুভব করতে তো বাধা নেই! কয়েকজন আলোচিত ক্রিকেট তারকার প্রেম-ভালোবাসার গল্প শুনুন এ রচনায়।

default-image

শিশির-সাকিব
এক বিশ্বকাপ থেকে আরেক বিশ্বকাপ। মাঝে চারটা বছর। কত কিছু ঘটে গেল এই ক বছরে। একলা থেকে হয়েছেন ‘দোকলা’!
ঘরের মাঠের সেই বিশ্বকাপ দিয়েই তো সাকিবকে চিনলেন উম্মে আহমেদ শিশির। চার বছর আগের ঘটনা বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের নিশ্চয়ই মনে আছে! দুই দিন পর বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ। অতশত ভাবার সময়ও বা কই? আবেগের দুয়ারে কঠিন বাধ দেওয়ার আশ্চর্য ক্ষমতা তাঁর আছে ঠিকই, কিন্তু আবেগের ঊর্ধ্বে যাওয়ার ক্ষমতা কি আছে? থাকে কোনো কালে? এমন ক্ষণে ভালোবাসার মানুষটার সঙ্গে পরিচয়পর্বের ইতিহাস কি মনে পড়বে না সাকিবের?
সম্পর্কে জড়ানোর আগে ক্রিকেট সম্পর্কে শিশিরের আগ্রহ ছিল সামন্যই। তার ওপর থাকতেন ‘ক্রিকেটহীন’ যুক্তরাষ্ট্রে। তো সাকিবকে শিশির চিনলেন কীভাবে? প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব একবার জানিয়েছিলেন, ‘২০১১ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অধিনায়ক ছিলাম। তখন যত এক্সপোজার হয়েছে, তাতে দেশে-বিদেশে বাংলাদেশ টিমের ক্যাপ্টেনকে কে না চিনবে! এই তো এভাবেই চিনেছে।’ তারপর সামনাসামনি লন্ডনে দেখা ইংল্যান্ডে কাউন্টি ক্রিকেট খেলার সময়। আমেরিকা থেকে লন্ডনে এসেছিলেন শিশির। তবে দুজনের প্রাথমিক পরিচয়টা ফেসবুকেই। এরপর বাংলাদেশের বহু নারীর ‘হৃদয় ভেঙে’ ১২.১২.১২ তারিখে জীবনের ইনিংসে শিশিরের সঙ্গে জুটি গড়লেন সাকিব।

default-image

কোহলি-আনুশকা
প্রায় দুই বছর ধরেই বেশ আলোচনায় এ দুই জুটি। নানা সময় সংবাদমাধ্যমে এসেছে দুজনের অভিসার-সংক্রান্ত খবর। ২০১৩ সালে একটি শ্যাম্পুর বিজ্ঞাপনচিত্রে একসঙ্গে কাজ করেন আনুশকা ও বিরাট। রণবীর সিংয়ের সঙ্গে ছাড়াছাড়ির পর এই বিজ্ঞাপনের শুটিং করতে গিয়েই আনুশকা-বিরাটের মধ্যে ভালো বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। সেই বন্ধুত্ব থেকেই ঘনিষ্ঠতা। প্রথমদিকে লুকোছাপার চেষ্টা করলেও পরে এ ‘নীতি’ থেকে সরে আসেন দুজনই। এখন প্রকাশ্যে দেখা মিলছে এ জুটির। কদিন আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে গ্যালারিতে বসে দেখেছেন কোহলির দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। কোহলি তো একবার সেঞ্চুরি করে বাতাসে ভাসিয়ে দিয়েছিলেন চুমু। সে চুমুর ঠিকানা-বলিউড তারকার হৃদয়-মন্দির!

কাইলি-ক্লার্ক
একটা সময় লারা বিঙ্গলের সঙ্গে ক্লার্কের সম্পর্কের নানা খবরাখবর ছিল সংবাদমাধ্যমে ‘হটকেক’। তবে সেই প্রণয় পরিণয় পর্যন্ত যেতে পারেনি। জনপ্রিয় মডেল লারার সঙ্গে আংটি বদলও হয়েছিল ক্লার্কের। কিন্তু নিয়তি চায়নি দুজনের সম্পর্কের পরিণতি, ছাড়াছাড়ি হয়ে যায় ২০১০ সালের মার্চে। বিচ্ছেদের পর রীতিমতো ‘দেবদাস’ই বনে গিয়েছিলেন ক্লার্ক! সেই বিষাদময় দিনগুলোয় রঙিন তুলির আঁচড় দিতেই কাইলি বল্ডির আগমন। দুই বছরের প্রণয় পরিণয়ে পরিণতি পায় ২০১২ সালে। একাকিত্বের সময়গুলোতে ক্লার্ক পাশে পেয়েছিলেন কাইলিকেই। ধীরে ধীরে দুজনের কাছে আসা। তখন দুজনকে প্রকাশ্যে দেখা যেত কমই। কিন্তু এখন? ক্লার্ক যেখানে, প্রিয়তমা কাইলিও সেখানে!

জিয়ান্নে-স্টেইন
খেলার মাঠে ক্রূর চোখে, আগ্রাসী চেহারায় ‘স্টেইনগান’ যখন গর্জে ওঠে, প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের কী অবস্থা হয়, নিশ্চয়ই জানা। কিন্তু প্রেমের মাঠে স্টেইন যেন ঠিক বিপরীত। তাঁর কোমল মনে জমে থাকা পৃথিবীর সব প্রেম-ভালোবাসা বরাদ্দ জিয়ান্নে কিটজমানের জন্যই। প্রেমের ময়দানে ঠিক টি-টোয়েন্টি-ওয়ানডে স্টাইলে নয়, স্টেইন এগোচ্ছেন টেস্ট ক্রিকেটের মেজাজে। ছয় বছর ধরে প্রেম চলছে জিয়ান্নের সঙ্গে। কনজুমার ডিজাইন নিয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি রেস্টুরেন্টে কাজ করতেন জিয়ান্নে। ওই রেস্টুরেন্টেই জিয়ান্নেকে দেখেন স্টেইন। এ যেন ‘লাভ অ্যাট ফার্স্ট সাইট’! ফোন নম্বর জোগাড় করে পরদিনই ফোন, ভাব হতে সময় লাগেনি। বছর পাঁচেক হলো, একই ছাদের নিচে থাকছেন।

default-image
বিজ্ঞাপন
খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন