দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে যাওয়ার পর এখনো কোয়ারেন্টিনে থাকায় এই ম্যাচে দিল্লির জার্সিতে খেলা হয়নি বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের।

default-image

রান তাড়া করতে নেমে দিল্লির শুরুটা ছিল বেশ ভালো। ৩.৩ ওভারে ৩০ রান তুলে ফেলেন দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান পৃথ্বী শ আর টিম সেইফার্ট। কিন্তু সেইফার্ট লেগ স্পিনার মুরুগান অশ্বিনের বলে বোল্ড হলে দিল্লির সর্বনাশের শুরু। এরপর এক বল বিরতি দিয়ে অশ্বিনের আরেক আঘাতে মানদীপ সিংয়ের বিদায়। ৩২ রানে অধিনায়ক ঋষভ পন্তকে হারিয়ে ঘোর বিপদে পড়ে যায় দিল্লি।

পৃথ্বী শ তা–ও ললিত যাদবকে নিয়ে পাল্টা আক্রমণ করছিলেন। কিন্তু ২৪ বলে ৩৮ রান করে পৃথ্বীর বিদায়ের পর আবারও বিপদে পড়ে যায় দিল্লি। দলের রান তখন ৪ উইকেটে ৭২, কিন্তু রোভমান পাওয়েল ওই ৭২ রানেই বাসিল থাম্পির শিকার হলে মুম্বাইয়ের সংগ্রহটাকে বেশ দূরেরই মনে হচ্ছিল দিল্লির। কিন্তু উইকেটের এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে ছিলেন ললিত যাদব।

ব্যাটসম্যানদের আসা–যাওয়ার মধ্যে মাথা ঠান্ডা রেখে খেলে গেছেন ললিত। জুটি গড়ার চেষ্টা করে গেছেন। প্রথমে চতুর্থ উইকেটে পৃথ্বী শ’র সঙ্গে তাঁর জুটি ছিল ৩১ বলে ৪০ রানের। এরপর ষষ্ঠ উইকেটে শার্দুল ঠাকুরের সঙ্গে ২২ বলে ৩২ যোগ করেন তিনি। সপ্তম উইকেটে অক্ষর প্যাটেল আর ললিত যাদবের ৩০ বলে ৭৫ রানের জুটিটি চোখের সামনে দেখতে পেয়ে মুম্বাই অধিনায়ক রোহিত শর্মার মাথায় হাত দেওয়া ছাড়া করার ছিল না কিছুই।

যাদব ৩৮ বলে করেন ৪৮ রান, অক্ষর মাত্র ১৭ বলে করেন ৩৮। যাদবের ব্যাট থেকে আসে ৪টি বাউন্ডারি আর দুটি ছক্কা। অক্ষরের ইনিংসে ছিল ৩ ছক্কা আর ২টি বাউন্ডারি। দলের বিপদের মধ্যে শার্দুল ঠাকুরের ইনিংসটিও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মাত্র ১১ বলে ৪ বাউন্ডারিতে করেন ২২। মুম্বাইয়ের বাসিল থাম্পি ৩৫ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন, মুরুগান অশ্বিন ১৪ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট। এই দুই বোলার দুর্দান্ত হলেও দানিয়েল শামস, যশপ্রীত বুমরা আর টাইমাল মিলসদের বোলিং ছিল যাচ্ছেতাই। শামস ৪ ওভারে ৫৭ রান দিয়েছেন। বুমরা ৩.২ ওভার বোলিং করে দিয়েছেন ৪৩ রান। মিলস একটি উইকেট পেলেও ৩ ওভারে তাঁর খরচ ২৬ রান।

default-image

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে রোহিত শর্মা আর ঈশান কিষানের ব্যাটে ৮.২ ওভারেই ৬৭ রান তুলে ফেলে মুম্বাই। এর অধিকাংশ রানই ছিল রোহিতের। তিনি ৩২ বলে ৪ বাউন্ডারি আর ২ ছক্কায় ৪১ রান করেন। কিষান শুরুর দিকে কিছুটা ধীরেই চলছিলেন। কিন্তু রোহিতের বিদায়ের পর মুম্বাই উইকেট হারাতে থাকে নিয়মিত। ৮৩ রানে ফেরেন আনমোলপ্রীত সিং, ১১৭ রানে তিলক ভার্মা, ১২২ রানে কাইরন পোলার্ড, ১৫৯ রানে টিম ডেভিড।

তবে উইকেটের মিছিলের মধ্যেই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান কিষান ছিলেন অবিচল। একদিক ধরে তিনি খেলে গেছেন নিজের মতো করেই। পাল্টা আক্রমণে দিল্লির বোলারদের সঙ্গে যেন তিনি একাই লড়ে গেছেন। ১১ বাউন্ডারি আর ২ ছক্কায় ৪৮ বলে তিনি শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৮১ রানে। তাঁর এই ইনিংসেই মুম্বাই শেষ পর্যন্ত দিল্লিকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো রান স্কোরবোর্ডে তুলতে পারে। দিল্লির সেরা দুই বোলার খলিল আহমেদ আর কুলদীপ যাদব। খলিল ৪ ওভার বোলিং করে ২৭ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট। কুলদীপ ৩ উইকেট নিয়েছেন ১৮ রানে।

খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন