default-image

শিকার বিষয়টা যে খুবই প্রিয়, সেটা অকপটেই স্বীকার করেন গ্লেন ম্যাকগ্রা। প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যান কিংবা বনের জানোয়ার, নিশানায় যে-ই থাকুক, বল কিংবা বন্দুকটাকে হাতিয়ার বানিয়ে ফেলতে দ্বিধা করেন না এক মুহূর্তও। তবে এই শিকারপ্রেমই এবার বিতর্কের মুখে ঠেলে দিয়েছে সাবেক এই অস্ট্রেলীয় পেসারকে। বন্দুক হাতে বিভিন্ন মৃত বন্য জন্তুর পাশে দাঁড়িয়ে তোলা কিছু ছবি নিয়ে টুইটারে উঠেছে ঝড়। ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ছাপিয়ে সেই বিতর্কের ছোঁয়া এসে লেগেছে অস্ট্রেলিয়ার মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোতেও।
ছবিগুলো তোলা হয়েছিল ২০০৮ সালে। জিম্বাবুয়েতে একটি শিকার অভিযানের সময়। ছবিগুলো প্রথম প্রকাশ করে একটি জিম্বাবুইয়ান ওয়েবসাইট। শিকার অভিযানের প্রচারণার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত ছবিই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছে ম্যাকগ্রাকে। পরে কর্তৃপক্ষ ছবিগুলো সরিয়ে ফেললেও ম্যাকগ্রার যা সর্বনাশ হওয়ার তত দিনে তা হয়ে গেছে। ছবিগুলোতে দেখা যায়, বন্য শূকর, হাতি, হায়েনাসহ বেশ কিছু মৃত জন্তুর পাশে ম্যাকগ্রা বন্দুক হাতে দাঁড়িয়ে কিংবা বসে আছেন। ভিন্ন একটি উৎস থেকে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ছবিতে ম্যাকগ্রার সঙ্গে দেখা গেছে ব্রেট লিকেও। সেই ছবিতে একটি রক্তাক্ত মৃত হরিণের দুই পাশে তাঁদের দুজনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। পশুপ্রেমীরা এই ছবিগুলোকে অবুঝ পশুর প্রতি সহিংসতা হিসেবে অভিহিত করছেন।

default-image

বিব্রত ম্যাকগ্রা অবশ্য এক টুইট বার্তায় এ ব্যাপারে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে এ ব্যাপারে ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি। টুইটার বার্তায় তিনি লেখেন, ‘২০০৮ সালে জিম্বাবুয়েতে আমি একটি শিকার অভিযানে অংশগ্রহণ করি। যথাযথ অনুমতি এবং আইন মেনেই সেই অভিযান পরিচালিত হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে আমি বুঝতে পারি যে ওই শিকার অভিযানে যাওয়া আমার উচিত হয়নি। এই ঘটনার জন্য আমি অনুতপ্ত।’
ম্যাকগ্রা নিজে এখন বিভিন্ন সমাজসচেতনতামূলক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। ক্যানসারে মারা যাওয়া স্ত্রীর স্মরণে প্রতিষ্ঠা করেছেন একটি বিশেষ ফাউন্ডেশন। স্তন ক্যানসারবিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ে মানুষকে সচেতন করে তুলতে কাজ করে ওই ফাউন্ডেশন। বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের শুভেচ্ছাদূত হয়েও কাজ করেন তিনি। তবে তাঁর শিকারবিতর্ক এসব কর্মকাণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন