default-image

ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড ম্যাচটা দেখতে দেখতে মনে পড়ল পুরোনো এক স্মৃতি। বিশ্বকাপের ছাড়পত্র পেয়ে বাংলাদেশ দল গেল ব্রিটেনে। বিশ্বকাপের আগে সেখানকার কন্ডিশন বুঝে আসাই উদ্দেশ্য। ১৯৯৮-এর সেই সফরে ব্রিস্টলে একটা কাউন্টি দলের সঙ্গে দল হারল বাজেভাবে। 
আমি দলের ম্যানেজার। ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড় আমার মুখের ওপর ড্রেসিংরুমের দরজা সটান বন্ধ করে পীড়াদায়ক একটা মন্তব্য করলেন, তাদের নাকি বাংলাদেশের সঙ্গে খেলে সময়টাই নষ্ট হয়েছে!
ইংল্যান্ডকে কাল ওভাবে নাকানি-চুবানি খাইয়ে নিউজিল্যান্ডের খেলোয়াড়েরাও তো মনে মনে বলতে পারেন, ধুর, এ তো সময় নষ্ট! প্রসঙ্গটা এই কারণেই আনা যে কাউকে ছোট করে দেখতে নেই। ক্রিকেট মাঠে কখন কী ঘটবে কেউ বলতে পারে না। প্রতিপক্ষ যতই পিছিয়ে থাকুক, মাঠে তারা সম্মান আশা করে।
অস্ট্রেলিয়া কি বাংলাদেশকে হেলাফেলা করছে? জানি না। তবে ম্যাচটা হবে কি না, তা নিয়েই বড় সংশয়। আভাস আছে যে ওভার কমিয়ে সংক্ষিপ্ত আকারে হলেও ম্যাচটি হতে পারে। অস্ট্রেলিয়া কী ভাবছে সেটি তাদের ব্যাপার। তবে আমি চাইব ম্যাচটা হোক।
মাশরাফিও বলেছে, ম্যাচটা তারা খেলতে উন্মুখ। গ্যাবা গতি আর বাউন্সের জন্য বিখ্যাত বনেদি মাঠ, সেই মাঠে প্রথমবার খেলা মানে আমাদের খেলোয়াড়দের বিরাট এক অভিজ্ঞতা। তাই হারের চিন্তা মাথায় না এনে খেলার সুযোগ পাওয়াটাই এখানে অনেক বড় ব্যাপার। সরাসরিই বলা ভালো, ম্যাচ হলে এবং বাংলাদেশ দল হারলে দুঃখ পাওয়ার কিছু নেই। দুই দলে পার্থক্য যে কী বিশাল সেটি না বললেও চলে। কাজেই মাশরাফিদের চাপ নিতে বারণ করব। একেবারেই ফুরফুরে থেকে এই কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে নিজেদের সামর্থে৵র সর্বোচ্চ প্রয়োগই প্রত্যাশার শীর্ষে।
তবে এর অর্থ এই নয়, আমরা আগেই আত্মসমর্পণ করব। আমরা নিজেদের অবশ্যই তুলে ধরব। একই সঙ্গে বলব, কম ওভারের খেলা হলে বাংলাদেশ দলের কৌশলে কিছু পরিবর্তন আনা উচিত হবে। সে ক্ষেত্রে একাদশে আটজন ব্যাটসম্যান রাখার প্রয়োজনীয়তা দেখছি না। বরং একজন বাড়তি সীমার দলে নেওয়াটাই পরিস্থিতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হবে। কন্ডিশনের প্রয়োজনে নাসিরকে একাদশে রাখা যেতে পারে। টিম ম্যানেজমেন্ট নিশ্চয়ই সবকিছু কাছ থেকে দেখে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।
অনেকেই ভাবতে পারেন, ওভার কমিয়ে আনলে দুই দলের ব্যবধানও কমে আসে। তাহলে কি আপনি বাংলাদেশের জয়ের ছবি আঁকবেন? যে যেভাবেই দেখুন, ভুলে গেলে চলবে না অস্ট্রেলিয়া পুরোদস্তুর একটা পেশাদার দল। ব্যাটিং-বোলিং, ফিল্ডিংয়ে তুখোড়। ওদের মতো বোলিং অস্ত্র আমাদের নেই। ব্যাটিংয়েও একই কথা প্রযোজ্য। এসব বাস্তবতা।
গ্যাবার পরিচিত মাঠ, যা এক শ ভাগই কাজে লাগাতে চাইবে পরাক্রমশালী অস্ট্রেলিয়া। উপরন্তু কন্ডিশনের কারণে উইকেটে থাকতে পারে স্যাঁতসেঁতে। আমাদের আগে ব্যাট করতে হলে অস্ট্রেলিয়ান বোলাররা আরও ভীতি ছড়াতে পারে। বাংলাদেশ দলকে তারা নিঃশ্বাস ফেলার সময়টুকুও হয়তো দিতে চাইবে না। এটা বড় এক চ্যালেঞ্জও বটে।
বুক চিতিয়ে খেলাই হবে এর যথার্থ জবাব। সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের দল ব্রিসবেনে দুই সপ্তাহ অনুশীলন করল, সেটির সুফল কতটা পেল এটাও আজ দেখার বিষয়। ঢাকায়ও উইকেটে মার্বেল পাথর বিছিয়ে বাউন্স রপ্ত করার চেষ্টা করেছে মাশরাফিরা। সত্যি বলতে, এসব প্রয়াসের ফল দেখাতে উপযুক্ত সময় এল। আফগানিস্তানকে আমরা সহজেই হারিয়েছি ঠিকই, অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ দিয়েই বিরুদ্ধ কন্ডিশনে আসল পরীক্ষাটা শুরু। শ্রীলঙ্কা ম্যাচের জন্য ভালো প্রস্তুতিও ভাবা যেতে পারে এটিকে।
ম্যাচ না হলে এক পয়েন্ট মিলবে। পরের রাউন্ডে যেতে যা হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। সে দিক থেকে একটা সুবিধা আছেই বাংলাদেশের। তবে সব ছাপিয়ে ঐতিহ্যবাহী গ্যাবার উইকেটে নিজেদের পরখ করার এমন দিন তো বলে-কয়ে আসে না। তাই আবারও বলি, সংক্ষিপ্ত হলেও ম্যাচটা মাঠে গড়ালেই বেশি খুশি হব।

আজকের খেলা
পাকিস্তান-ওয়েস্ট ইন্ডিজ
(ভোর ৪টা, ক্রাইস্টচার্চ)
বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া
(সকাল ৯-৩০মি., ব্রিসবেন)
আগামীকালের খেলা
শ্রীলঙ্কা-আফগানিস্তান
(ভোর ৪টা, ডানেডিন)
ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা
(সকাল ৯-৩০ মি., মেলবোর্ন)

বিজ্ঞাপন
খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন