বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গতকাল নিশ্চিত জেতা ম্যাচ হেরে যাওয়ার ধাক্কা কাটাতে না পেরেই কিনা আজ বিকেলে অনুশীলনই করেনি আফগানিস্তানের ওয়ানডে দল! এক গুলবদিন নাইব ছাড়া জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ল–এর সঙ্গে যাঁরা অনুশীলনে এসেছিলেন, তাঁদের কেউই নেই ওয়ানডে দলে। কোচ অনুশীলনে এসেছিলেন মূলত টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটারদের নিয়েই।

default-image

অনুশীলন শেষে বাংলাদেশ দলের সাবেক কোচের সঙ্গে এই প্রতিবেদকের হোয়াটসঅ্যাপে কথা হচ্ছিল গতকালের ম্যাচ নিয়ে। এমন একটা ম্যাচ হেরে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই হতাশ তিনি। কিন্তু ম্যাচের প্রসঙ্গ তুলতেই সেই হতাশা আড়াল করে ল জানালেন আফিফ-মিরাজের অনবদ্য ব্যাটিংয়ে তাঁর মুগ্ধতার কথা।

আফিফ-মিরাজের অবিচ্ছন্ন ১৭৪ রানের জুটির প্রশংসা করে স্টুয়ার্ট ল বলছিলেন, ‘ওরা দুজনই খুব পরিণত ব্যাটিং করেছে। শুরুর ওই ঝড়ের পরও তারা দারুণ একটা জুটি গড়ল, আমাদের বোলারদের আক্রমণ করেছে বুঝেশুনে। তাদের কৃতিত্ব দিতেই হবে।’

‘ওরা দুজনই খুব পরিণত ব্যাটিং করেছে। শুরুর ওই ঝড়ের পরও তারা দারুণ একটা জুটি গড়ল, আমাদের বোলারদের আক্রমণ করেছে বুঝেশুনে। তাদের কৃতিত্ব দিতেই হবে।’
স্টুয়ার্ট ল

৪৫ রানে ৬ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর আফিফ-মিরাজের চাপের মধ্যেও দলকে জিতিয়ে আনার মানসিকতা আকৃষ্ট করেছে ল–কে। বিশেষ করে বাংলাদেশ দলের এই দুই তরুণ ব্যাটসম্যান আফগান স্পিনারদের যেভাবে সামলেছেন, সেটা বিশেষভাবেই দৃষ্টি কেড়েছে তাঁর, ‘আমাদের স্পিনাররা কিন্তু খারাপ বল করেনি। ম্যাচে তারা বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের জন্য সব সময় হুমকি হয়েই ছিল। তবে ওরা (আফিফ-মিরাজ) দুজন কঠিন সময়টা পার করে দিয়ে ঠিকই ম্যাচ বের করে নিয়ে গেছে।’

default-image

‘যাযাবর’ ল’র সঙ্গে কথোপকথনে এসেছে তাঁর আবারও বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব নেওয়ার সম্ভাবনার প্রসঙ্গও। একদিকে তিনি আফগান দলের দায়িত্বে আছেন শুধু এই সিরিজের জন্য, অন্যদিকে বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ হিসেবে রাসেল ডমিঙ্গোর ভবিষ্যৎ নিয়ে আছে ধোঁয়াশা; এ রকম পরিস্থিতিতে তো প্রশ্ন জাগেই—ডাক পেলে আবারও বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব নেবেন কি না এই অস্ট্রেলিয়ান?

সরাসরি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ জাতীয় কিছু না বললেও লর কথায় পরিষ্কার, বড় দায়িত্ব পেলে তাঁর ভেবে দেখতে অসুবিধা নেই, ‘আমি শুধু এটাই বলতে পারি, এই মুহূর্তে আমি কোচের ভূমিকায় কাজ করার সুযোগ খুঁজছি। আফগানিস্তান দলের পরামর্শক হিসেবে এই দায়িত্বটা শেষ হওয়ার পরই আমি যেকোনো দলের কোচ হতে পারব।’

তবে অতীত অভিজ্ঞতার কারণেই তাঁর প্রতি আগ্রহটা যেন এখন একটু কম বিসিবির। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বোর্ড পরিচালকের কথায় সেই অনাগ্রহ বুঝে নিতে অসুবিধা হচ্ছে না মোটেও, ‘স্টুয়ার্ট লকে তো একসময় আমরা চেয়েছিলামই। একবার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পরামর্শক করেও আনলাম। কিন্তু তিনি তো কোথাও থিতু হন না। অন্য দলের দায়িত্ব নিয়েও বেশি দিন থাকেননি।’

আফগানিস্তানের নেওয়ার আগে গত কয়েক বছরে কম দল বদলাননি স্টুয়ার্ট ল। কিন্তু কোথাও খুব বেশি দিন স্থায়ী হননি। আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হওয়ার আগে সর্বশেষ কাজ করেছেন ইংলিশ কাউন্টি দল মিডলসেক্সের কোচ হিসেবে। আবুধাবি টি-টেন এবং লংকা প্রিমিয়ার লিগে ছিলেন বাংলা টাইগার্স ও ডাম্বুলা জায়ান্টস দলের।

default-image

২০১১ বিশ্বকাপের আগে শ্রীলঙ্কার অন্তর্বর্তীকালীন কোচের দায়িত্ব পালন করা সাবেক এই অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান ২০১১-২০১২ সালে প্রধান কোচ ছিলেন বাংলাদেশ দলেরও। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর এক বছরের কম সময়ের মধ্যে পারিবারিক কারণে চলে যান বিসিবির চাকরি ছেড়ে। লর অধীনেই বাংলাদেশ দল প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠেছিল। পরে অবশ্য আরও একবার বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ব্যাটিং পরামর্শক হয়ে বাংলাদেশে এসেছিলেন তিনি।

মাঝে ২০১৬ সালে ল ছিলেন অস্ট্রেলিয়া দলের পরামর্শকের দায়িত্বে। পরের বছর দুই বছরের জন্য দায়িত্ব নেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলেরও। আফগানিস্তানের সঙ্গে চুক্তি শেষ হওয়ার পর তিনি কোন দলের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন, সেই প্রশ্ন রেখে চাইলে একটা কুইজ প্রতিযোগিতারই আয়োজন করে ফেলা যায়।

‘যাযাবর’ কোচ বলে কথা!

খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন