default-image

নির্ধারিত সময় শেষ হতে ৩০ সেকেন্ড বাকি। ফাইনালে উত্তরণের উদ্যাপন করতে মানসিক প্রস্তুতিও নিয়ে ফেলেছেন মোহামেডানের খেলোয়াড়-কর্মকর্তারা। কিন্তু সেই আনন্দে পানি ঢেলে দিলেন পুষ্কর খীসা মিমো। মোহামেডানের সঙ্গে ৩-২-এ পিছিয়ে থেকেও ম্যাচটি যে পেনাল্টি শ্যুট আউটে টেনে নিল ঊষা, সে তো মিমোর অসাধারণ এক গোলের সুবাদেই!
শেষ পর্যন্ত পেনাল্টি শ্যুট আউটে মোহামেডানকে ৪-২ গোলে হারিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো ক্লাব কাপ হকির ফাইনালে উঠেছে ঊষা। আগামী পরশু ফাইনালে ঊষা মুখোমুখি হবে আজকের আবাহনী-মেরিনার্স সেমিফাইনাল বিজয়ীর সঙ্গে।
এবারই প্রথম পাঁচ বিদেশি খেলোয়াড় খেলানোর নিয়ম করেছে ফেডারেশন। সেটি কাজে লাগিয়ে মালয়েশিয়ার চারজনকে খেলিয়েছে ঊষা। এঁদের সঙ্গে জাতীয় দলের কৃষ্ণ, সারোয়ার, মিমোরা শক্তি বাড়িয়েছেন। কিন্তু মোহামেডানের সবচেয়ে বড় ভরসা রাসেল মাহমুদ জিমি কাল ছিলেন দর্শক। আবাহনীর সঙ্গে ম্যাচে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পাওয়ায় খেলতে পারেননি জিমি। মোহামেডান জিমির অভাব পূরণের চেষ্টা করেছে পাকিস্তানি খেলোয়াড় ওমর ভাট্টিকে দিয়ে। মাত্রই আগের রাতে পাকিস্তান থেকে উড়ে এসে দলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে লড়াই করতে হয়েছে এই পাকিস্তানিকে, তারপরও করেছেন দুটি গোল। তবে দারুণ কিছু স্টিকওয়ার্ক দেখা গেছে আরেক পাকিস্তানি সালমান হুসাইনের কাছ থেকে। ম্যাচে অবশ্য প্রত্যাশিতভাবেই ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঝাঁজ। ম্যাচটি রং বদলেছে ক্ষণে ক্ষণে। পেনাল্টি শ্যুট আউটে নিষ্পত্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত পেন্ডুলামের মতো দুলেছে ক্লাব কাপ হকির প্রথম সেমিফাইনাল।
৭ মিনিটে কৃষ্ণ কুমারের গোলে প্রথমে এগিয়ে যায় ঊষা। পেনাল্টি কর্নার থেকে আসা বল মোহামেডান গোলরক্ষক জাহিদের স্টিকে লেগে ফিরে এলে ফিরতি বলে গোল করেন কৃষ্ণ (১-০)। ২৮ মিনিটে তাসাওয়ার আব্বাসের গোলে সমতা ফেরায় মোহামেডান। ৩৯ মিনিটে ওমর ভাট্টির গোল তাদের জয়েরই আশা জাগায় (২-১)। তবে ৪১ মিনিটেই চোলানের গোলে সমতা এনে ফেলে ঊষা (২-২)। ৬৮ মিনিটে যখন ভাট্টির জোরালো হিটে মোহামেডান ফাইনালের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে, ঠিক পরের মিনিটেই মিমোর আচানক ওই গোল। মাঝমাঠ থেকে ইসমাইলের বাড়িয়ে দেওয়া বলে নিখুঁত টাইমিং করে বলের গতি বদলে দেন মিমো। ম্যাচের গতিটাই তো তাতে গেল বদলে!
এরপর পেনাল্টি শ্যুট আউট। ঊষার মাহবুব পেনাল্টি হিটে গোল করতে না পারলেও কৃষ্ণ, ফাইজাল, নাঈম ও মিমো ঠিকই গোল করেন। মোহামেডানের তাসাওয়ার ও রিজওয়ান গোল করলেও পারেননি কামরুজ্জামান ও ওমর।
হারের জন্য মোহামেডানের কোচ জামাল হায়দার দায়ী করেছেন খেলোয়াড়দের শেষ ৩০ সেকেন্ডের অমনোযোগিতাকেই, ‘আমরা ৩০ সেকেন্ডে ম্যাচ হেরেছি। ওই সময় যদি খেলোয়াড়েরা নিজেদের মধ্যেও বল দেওয়া-নেওয়া করত তাহলেও এমনটা হতো না।’
তবে ঊষার কোচ মামুনুর রশীদ জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন, ‘৩-২ হওয়ার পরও জানতাম না যে আর কতক্ষণ খেলা বাকি আছে। তবে আমি জানতাম যে ম্যাচে আমরা ফিরে আসবই এবং সেটাই হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন
খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন