কিন্তু লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জও হেরেছে একইরকম বড় ব্যবধানে। আগে ব্যাট করে আবাহনীর ৭ উইকেটে ২৭৯ রান তাড়া করার কোনো সম্ভাবনাই জাগাতে পারেনি তারা। আবাহনীর হয়ে ১০১ বলে সর্বোচ্চ ৮৬ রান নাজমুল হোসেনের। এ ছাড়া আফিফ হোসেন ৭২ বলে করেছেন ৬২ রান। শেষের দিকে তৌহিদ হৃদয় (১৬ বলে ২৪) ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের (২৭ বলে ৩০) ছোট ছোট ইনিংসে ভর করে আবাহনীর এই বড় সংগ্রহ।

নিজের শেষ স্পেলে বোলিংয়ে এসে সাকিব দ্রুত কিছু উইকেট না নিলে রান আরও বেশি হতে পারত। ১০ ওভারে ৫৩ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেওয়া সাকিবই রূপগঞ্জের সেরা বোলার।

default-image

রূপগঞ্জকে জিততে ব্যাট হাতেও সাকিবকে বড় কিছু করতে হতো। সাব্বির রহমান ও রকিবুল হাসান উদ্বোধনী জুটিতে ৪৭ রান যোগ করার পর বিচ্ছিন্ন হলে ইনিংসের ১০ম ওভারে নেমেছিলেন সাকিব। কিন্তু একবার জীবন পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেননি। ব্যক্তিগত ১ রানে আবাহনীর পেসার তানজিম হাসানের স্লোয়ার বলে কাট করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছিলেন। কিন্তু জাকের আলী লাফিয়েও বলটি গ্লাভসবন্দী করতে পারেননি।

পরের ওভারে মাত্রই আক্রমণে আসা অফ স্পিনার মোসাদ্দেক হোসেনের প্রথম বলেই তুলে মারার চেষ্টা করেন সাকিব। কিন্তু ওই শটে তাঁর কোনো নিয়ন্ত্রণই ছিল না। এক হাত ছুটেও যায় ব্যাট থেকে। বল চলে যায় সোজা লং অন বাউন্ডারিতে থাকা মোহাম্মদ নাঈমের হাতে। ৮ বলে ৩ রান করে আউট হয়ে ফেরার সময় হতাশাটা ঠিকই প্রকাশ করেছেন সাকিব। রূপগঞ্জ সম্ভবত হতাশ হয়েছে আরও বেশি।

default-image

দলীয় ৫১ রানে সাকিব আউট হওয়ার পর ব্যাটসম্যানদের কেউই স্থায়ী হতে পারেননি। ৯৯ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে যখন রূপগঞ্জ ধুঁকছিল, তখন ভারতীয় চিরাগ জানি (৪৮), তানভীর হায়দার (৩৬) ও মুক্তার আলীর (২২) শুধু রান সংখ্যাটা দ্বিগুণ করে ১৯৮–এ নিয়ে যান। আবাহনীর সফলতম বোলার মোসাদ্দেক পেয়েছেন ৪ উইকেট। তানভীর নিয়েছেন ৩ উইকেট।

অসুস্থ হওয়ার আগে রাব্বির শতক, আরিফুলের ১৩ বলে ৪১ 

শিরোপার দৌড় থেকে দুই দল ছিটকে পড়েছে আগেই। গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স ও রূপগঞ্জ টাইগার্সের জন্য সুপার লিগের ম্যাচগুলো মর্যাদার লড়াই ছাড়া কিছুই নয়। বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে সেই লড়াইয়ে গাজী গ্রুপকে ৮৪ রানে হারিয়েছে টাইগার্স। আগে ব্যাটিং করে ফজলে রাব্বির শতকে ৩১৫ রানের বড় পুঁজি পেয়েছে মার্শাল আইয়ুবের রূপগঞ্জ। রান তাড়ায় ৪৩.৩ ওভারে ২৩০ রানে অলআউট হয় আকবরের গাজী গ্রুপ।

৪ উইকেট নিয়ে জাতীয় দলের স্পিনার নাসুম আহমেদ টাইগার্সের সেরা বোলার। তাঁর ৪ উইকেটের ৩টিই এসেছে ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-র সময়ে। নাসুমের ধাক্কায় ১৪ রানে ২ উইকেট হারানো গাজী গ্রুপ তৃতীয় উইকেট হারায় ৫০ রানে।

এরপর মাহমুদুল হাসান (৫৯) ও আকবর আলীর (৫০) অর্ধশতকে কিছুটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে গাজী গ্রুপ। এছাড়া সাইদ সরকার ৩৪ ও আরাফাত সানি করেন ২৪ রান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বেশিদূর যেতে পারেনি গাজীর ইনিংস।

এর আগে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সকে ৩১৫ রানের ভিত গড়ে দেন বাঁহাতি ফজলে রাব্বি ও ইমরানুজ্জামান। ১০৮ বলে ৫টি চার ও ৪টি ছক্কায় ১০৪ রান করেন ফজলে রাব্বি। ইনিংসটি আরও দীর্ঘ হতে পারত। লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারে নবম শতকের পর অসুস্থ হয়ে মাঠ ছাড়েন এই বাঁহাতি। এ ছাড়া ইমরানুজ্জামান ৭৩, মার্শাল ৫৩ ও আরিফুল হক ৪১ রান করেছেন। এর মধ্যে আরিফুলের ইনিংসটি তো অবিশ্বাস্য! ইনিংসের শেষ বলে আউট হওয়ার আগে ৪১ রান করেছেন মাত্র ১৩ বলে, ১ চারের পাশে ৫টি ছক্কায়! গাজী গ্রুপের হয়ে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন জয়নুল ইসলাম ও মাহমুদুল হাসান।

আজকের জয়ে পয়েন্ট তালিকায় পাঁচে উঠে এসেছে রূপগঞ্জ টাইগার্স। ১৩ ম্যাচ খেলে ৬ জয়ে টাইগার্সের পয়েন্ট ১২। সমান পয়েন্ট নিয়ে রান রেটে পিছিয়ে থাকায় ছয়ে অবস্থান গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের।

খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন