default-image

সেঞ্চুরি হলো। হ্যাটট্রিকও। দুই দলের দুই বোলারের গলায় ৫ উইকেটের মালা। একটা ক্রিকেট ম্যাচে আর কী চাই?
চাই একটু প্রতিদ্বন্দ্বিতা। সমস্যা হলো, প্রতিদ্বন্দ্বিতার ‘প’ বর্ণটাও কাল এমসিজির এক শ মাইলের মধ্যে নেই! যে ম্যাচ নিয়ে এত রণঢঙ্কা বাজল, ছুটল কথার তুবড়ি, সেটি কি না উপহার দিল এমন অ্যান্টিক্লাইমেক্স! বিশ্বকাপে প্রবল আধিপত্যের সেই দিনগুলো মনে করিয়ে দিয়ে ইংল্যান্ডকে রীতিমতো ধ্বংস করে দিল অস্ট্রেলিয়া।
শুধু দুর্দান্ত পারফরম্যান্সই নয়। স্টিভ ওয়াহর সেই অস্ট্রেলিয়া, রিকি পন্টিংয়ের সেই অস্ট্রেলিয়াকে মনে পড়ার আরেকটি বড় কারণ ছিল। মাঝখানে কিছুদিন সবুজ-হলুদ অস্ট্রেলিয়া আবার ফিরেছে সেই চেনা হলুদ রঙে। কাল দি অস্ট্রেলিয়ান পত্রিকায় লেখা কলামে কোচ ড্যারেন লেম্যান জানিয়েছেন, হলুদ রঙের এই জার্সিটা অস্ট্রেলীয় খেলোয়াড়েরা কী ব্যাকুলতায়ই ফিরে পেতে চাইছিলেন।
১৯৯২ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল দুই স্বাগতিককে। অপরাজিত সেঞ্চুরি করে সেই ম্যাচের নায়ক মার্টিন ক্রো এখন দিন শেষের গান শুনতে পাচ্ছেন। বলতে গেলে একাই হারিয়ে দিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়াকে। কিন্তু ক্যানসার এমন প্রবল প্রতিপক্ষ যে, ক্রোর মতো লড়াকু চরিত্রও চূড়ান্ত হারের আগেই হার মেনে নিয়েছেন। দক্ষিণ গোলার্ধে আরেকটি বিশ্বকাপের শুরুতে স্বাগতিক দুই দেশেই উৎসব। কোনটি বেশি দাপুটে জয়, তা নিয়ে তর্ক তুলে দিয়ে অন্য দলগুলোর জন্য ছড়িয়ে দিল ভয়ের বার্তাও।
মেলবোর্নের ম্যাচে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ দর্শকের রেকর্ড ভেঙে যাওয়ার যে আবহ ছিল, সেটি শেষ পর্যন্ত সত্যি হলো না। তার পরও এমসিজিতে কাল ৮৪,৩৩৬ দর্শক। ইংল্যান্ড ইনিংস অর্ধেক পথ যেতে না-যেতেই তার এক-তৃতীয়াংশ মতো গ্যালারি ছেড়ে ঘরমুখো। ১৬ ওভারে স্কোর যখন ৪ উইকেটে ৭০, ম্যাচ একরকম শেষ হয়ে যাওয়ার বিরক্তি থেকেই কি না, এক দর্শক নেমে গেলেন মাঠে। এসব দেশে দিগম্বর হয়ে মাঠে দৌড় দেওয়ার যে রীতি, সেটির অবশ্য ব্যতিক্রম হলো। ইংল্যান্ড ইনিংসে উত্তেজনা বলতে ওটুকুই!

default-image

অস্ট্রেলিয়া ৩৪২ করে ফেলার পরই অবশ্য ম্যাচ শেষ। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে কখনো এত রান দেয়নি। এত রান তাড়া করে কোনো ওয়ানডেও জেতেনি। এমসিজিতে তো তিন শ রান তাড়া করারই ইতিহাস নেই। তাই বলে ইংল্যান্ড ৯২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলবে? তা কে মাতলেন এই ধ্বংসযজ্ঞে? মিচেল জনসন? মিচেল স্টার্ক?
লিলি-টমসনের প্রমত্ত সেই দিনগুলোতে একটা স্লোগান অজি দর্শকদের মুখে মুখে ফিরত, ‘অ্যাশেজ টু অ্যাশেজ, ডাস্ট টু ডাস্ট, ইফ লিলি ডাজন্ট গেট ইউ থম্মো মাস্ট।’ বার্মি আর্মিকে জ্বালাতে সেটিই একটু বদলে ‘মিচেল’ দিয়ে কিছু একটা বানিয়ে ফেলতে পারে অস্ট্রেলিয়ানরা। ইংল্যান্ডকে ধ্বংস করতে ‘মিচেল’কে যে জনসন বা স্টার্ক হতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। মিচেল মার্শও তা পারেন।
এর আগে ওয়ানডেতে ১৩ ইনিংসে বোলিং করে মাত্র ৬ উইকেট। ইনিংসে ২ উইকেটের বেশি নেই। সেই মিচেল মার্শই ৫ উইকেট নিয়ে নিলেন! চূড়ান্ত বোলিং ফিগার তাঁর প্রভাবটা ঠিক বোঝাতে পারছে না। পঞ্চম উইকেটটি নেওয়ার সময় স্কোরবোর্ডে যা দেখাচ্ছিল, সেটিতে তা বোঝা যায়: ৬.২-০-১৬-৫। অথচ হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে এই কয়েক দিন আগেও মার্শের বোলিং করতেই মানা ছিল।
মিশেল মার্শের বল হাতে এমন নায়ক হয়ে যাওয়া যেমন আশ্চর্যের, তার চেয়েও আশ্চর্য হওয়ার মতো একটা দৃশ্য দেখা গেল অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শেষে। স্কোরবোর্ডে ৩৪২ রান, অথচ ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়েরা হাসিমুখে হাই ফাইভ করছেন! ইনিংসের শেষ বলে স্টিভেন ফিন যে হ্যাটট্রিক করে বসেছেন!
যেটিকে বলতে পারেন ওয়ানডে ইতিহাসের সবচেয়ে বেদনাবিধুর হ্যাটট্রিক। সেটি শুধু ফিনের দল হেরেছে বলে নয়। হ্যাটট্রিক করেও হারার ঘটনা আরও অনেক আছে। ২০০৭ বিশ্বকাপে লাসিথ মালিঙ্গা তো ডাবল হ্যাটট্রিক করার পরও পরাজয়ের দুঃখে পুড়েছেন। ফিনের অনন্যতা অন্য জায়গায়। হ্যাটট্রিক করেছেন, ৫ উইকেটও নিয়েছেন, কিন্তু রান দিয়েছেন ৭১। ওয়ানডের সবচেয়ে ব্যয়বহুল হ্যাটট্রিকটি তাঁরই।
ওকসের ফেলে দেওয়া ক্যাচটাও কম ব্যয়বহুল নয়। ম্যাচের পঞ্চম বলেই স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়েছিলেন অ্যারন ফিঞ্চ। গত পরশু ইংলিশ সাংবাদিকদের একটা ব্যাপারে দ্রুত একমত হয়ে যেতে দেখেছিলাম। শুরুতেই উইকেট তুলে দিতে হবে অ্যান্ডারসনকে। যেটির অর্থ প্রলয় নাচনে মেতে ওঠার আগেই ওয়ার্নার বা ফিঞ্চকে ফিরিয়ে দেওয়া। অ্যান্ডারসনকে তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে দিলেন না ওকস। ফিঞ্চ ফিরলেন ১৩৫ রান করে।
ফিঞ্চকে রানআউট করাটাই ম্যাচে এউইন মরগানের একমাত্র অবদান। ইংল্যান্ড অধিনায়কের ব্যাটে আশ্চর্য ধারাবাহিকতা! পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচটি ধরলে সর্বশেষ চার ইনিংসে তিনটি শূন্য নিয়ে নেমেছিলেন। পাঁচ ইনিংসে চারটি শূন্য হয়ে গেল দ্রুতই।
এর চেয়েও দ্রুত চোখের পলকে অস্ট্রেলিয়ার তিন শ পেরিয়ে যাওয়া। শেষ ১০ ওভারে রীতিমতো ঝড় তুলে ১০৫ রান। মূল কুশীলবের নামটা অনুমিতই। হাডিনের ১৪ বলে ৩১ রানেরও অবদান আছে, তবে ৪৪ বলে ৬০ করে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলই শেষের নায়ক। ম্যাক্সওয়েলের ব্যাটে ১৬৫ স্ট্রাইক রেট একদমই অবাক হওয়ার মতো নয়। অবাক হতে পারেন, ১১টি চারের পাশে একটিও ছক্কা নেই বলে!

আজকের খেলা

দক্ষিণ আফ্রিকা-জিম্বাবুয়ে
(সকাল ৭টা, হ্যামিল্টন)

ভারত-পাকিস্তান
(সকাল ৯-৩০ মি., অ্যাডিলেড)

আগামীকালের খেলা
ওয়েস্ট ইন্ডিজ-আয়ারল্যান্ড
(ভোর ৪টা, নেলসন)

গতকালের ফল
অস্ট্রেলিয়া: ৫০ ওভারে ৩৪২/৯
ইংল্যান্ড: ৪১.৫ ওভারে ২৩১
ফল: অস্ট্রেলিয়া ১১১ রানে জয়ী

নিউজিল্যান্ড: ৫০ ওভারে ৩৩১/৬
শ্রীলঙ্কা: ৪৬.৫ ওভারে ২৩৩
ফল: নিউজিল্যান্ড ৯৮ রানে জয়ী

বিজ্ঞাপন
খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন