হেরাথের কথা, সাকিবদের বুঝতে হবে তাঁরা দেশের জন্য খেলছেন

সাকিব আল হাসানের সঙ্গে রঙ্গনা হেরাথফাইল ছবি: প্রথম আলো

রঙ্গনা হেরাথকে টেস্ট ইতিহাসের সর্বকালের সেরা যদি কেউ বলেন, তাহলে তাঁর খুব বড় চোখ রাঙানি খাওয়ার কথা নয়। ৯৩ টেস্ট খেলা এই লঙ্কান কিংবদন্তির ৪৩৩ উইকেট বাঁহাতি স্পিনারের মধ্যে সর্বোচ্চ। কিন্তু হেরাথ তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সিংহভাগ উইকেটই নিয়েছেন ঘরের মাঠে। শ্রীলঙ্কার কন্ডিশনে ৪৯ টেস্ট খেলে হেরাথের শিকার ২৭৮ উইকেট।

খেলা ছাড়ার পর বাংলাদেশ দলের স্পিন বোলিং কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পরও হেরাথের ভাবনা বদলায়নি। উপমহাদেশের কন্ডিশনে স্পিনই দাপট দেখাবে, সেটিই মনে করেন তিনি। তাঁর খেলোয়াড়ি জীবন ও ঘরের মাঠে স্পিনের দাপট দিয়েই সাজানো। পেস বোলিং–সহায়ক কন্ডিশনে স্পিনারদের দায়িত্ব হবে পার্শ্বনায়কের। বাংলাদেশ দলের স্পিনারদেরও একই মানসিকতায় গড়ে তুলছেন হেরাথ।

দেশের হয়ে খেলছেন, এ মানসিকতাটাই আসল বলে মনে করেন শ্রীলঙ্কার সাবেক বাঁহাতি স্পিনার হেরাথ
ফাইল ছবি

আজ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম বাংলাদেশ দলের ঐচ্ছিক অনুশীলন শেষে হেরাথ বলছিলেন সে কথাই, ‘একটা জিনিস সব সময় বিশ্বাস করি। বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ড— আপনি যেখানেই খেলেন না কেন, আপনার মানসিকতাটাই আসল। আপনি দেশের জন্য খেলছেন। আপনাকে বুঝতে হবে কোথায় কোন দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

নিজের ক্যারিয়ারের উদাহরণ টেনে হেরাথ বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন, ‘আমি যখন শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটার হিসেবে নিজের দেশের কন্ডিশনে খেলেছি, আমি সব সময় সুযোগটা কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি। আমি দেশকে কিছু না কিছু ফিরিয়ে দিতে চেষ্টা করেছি। সেদিক থেকে এখনকার ছেলেরা ভালো করছে। ওদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তাই আত্মবিশ্বাসও বাড়ছে। তাই মানসিকভাবেও তারা ভালো অবস্থানে আছে।’

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে উইকেট ছিল পেস সহায়ক। সাকিব আল হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজদের চট্টগ্রামের সবুজ উইকেটে রান আটকে রাখার দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। ঘরের মাঠে সাকিবদের জন্য এটা ছিল নতুন অভিজ্ঞতা। কারণ, নিজেদের কন্ডিশনে স্পিনাররাই বাংলাদেশের আক্রমণের অস্ত্র।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টি–টোয়েন্টিতে ১০ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন নাসুম আহমেদ
ছবি: শামসুল হক

আফগানদের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও কন্ডিশন ছিল পেস-বান্ধব। কিন্তু মিরপুরের সবুজ উইকেটেও দাপট দেখিয়েছেন বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ। রান থামিয়ে রাখার দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই নাসুমই নায়ক। ৪ ওভার বল করে মাত্র ১০ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করে নাসুম হন ম্যাচসেরা।

সব কন্ডিশনের সঙ্গে তরুণ স্পিনারদের মানিয়ে নেওয়ার এই দক্ষতা হেরাথের জন্য স্বস্তির খবর। আজ তিনি বলছিলেন, ‘এটা আসলে কৌশলগত ব্যাপার। আপনাকে এসব ক্ষেত্রে চটজলদি সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তাহলেই ম্যাচের যেকোনো পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব। ছেলেরা ধৈর্য ধরেছে, শান্ত ছিল। তাই কাল ফলাফলও আমাদের পক্ষে এসেছে।’