বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

সেশেলস ম্যাচ থেকে দুই পরিবর্তন নিয়ে আজ একাদশ সাজিয়ে ছিলেন বাংলাদেশ কোচ মারিও লেমোস। লেফটব্যাক ইয়াসিন আরাফাতের জায়গায় রহমত মিয়া ও চোটে পড়া সাদ উদ্দিনের বদলে দলে ঢোকেন মোহাম্মদ হৃদয়।

পরিবর্তন এসেছে ফরমেশনেও। ৪-২-৩-১ ছেড়ে বাংলাদেশ আজ খেলে ৪-৩-৩ ছকে। একাদশে রক্ষণাত্মক ধাঁচের মিডফিল্ডার তিনজন—জামাল ভূঁইয়া, আতিকুর রহমান ও হৃদয়। আতিকুর হোল্ডিং মিডফিল্ডারের দায়িত্বে, জামাল ও হৃদয় তাঁর দুই পাশে। লেমোসের উদ্দেশ্যটা পরিষ্কার ছিল, মাঝমাঠেই প্রতিপক্ষকে থামিয়ে দেওয়া। এতে রক্ষণভাগের ওপর চাপটাও কম পড়বে।

বাংলাদেশের রক্ষণভাগে মালদ্বীপের ফরোয়ার্ডরা প্রেসিং না করায় তপু বর্মণ, টুটুল হোসেনরা পাস খেলে মাঝমাঠ পর্যন্ত চলে আসতে পেরেছেন অনায়াসে। এরপর সেখান থেকে বাতাসে ভাসিয়ে থ্রুতে উইং দিয়ে মালদ্বীপ রক্ষণভাগ ভাঙার চেষ্টা। বাঁ প্রান্তে দ্রুতগতির রাকিবকে দিয়েই চ্যানেলটা তৈরির চেষ্টা ছিল। অবশ্য প্রতিপক্ষ রাইটব্যাককে কয়েকবার বোকা বানাতে পারলেও ভালো কোনো ক্রস বা গোলের সুযোগ তৈরি করে দিতে পারেননি রাকিব।

এই জয়ে দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে বাংলাদেশ। ১৬ নভেম্বর গ্রুপের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা। সে ম্যাচে ড্র করতে পারলেই বাংলাদেশের ফাইনাল খেলা নিশ্চিত।

অবশ্য ১২ মিনিটে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া বাঁ প্রান্ত দিয়ে ক্রমাগত চাপ সৃষ্টিরই ফল। লেফটব্যাক রহমত মিয়ার লম্বা থ্রো–ইন থেকে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের মাথা ছুঁয়ে বল দূরের পোস্ট দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছিল, এমন সময় পা ছুঁইয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন জামাল ভূঁইয়া। জাতীয় দলের জার্সিতে বাংলাদেশ অধিনায়কের এটিই প্রথম গোল। কিন্তু বাংলাদেশ এগিয়ে গেলে যা হয়, আজও একইভাবে অতিরক্ষণাত্মকই হয়ে পড়ল দল। এতে স্বাভাবিকভাবে প্রতিপক্ষের বলের দখল বেড়ে যায়।

মালদ্বীপের আক্রমণভাগের প্রাণ অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড আলী আশফাক। নাম্বার নাইন হিসেবে খেললেও একটু নিচে নেমে খেলাটা তৈরির চেষ্টা ছিল তাঁর। শুরুতেই তাঁকে বেশ কয়েকবার বাংলাদেশের ডিফেন্ডাররা কড়া ট্যাকল করায় কিছুটা পিছু হটতে বাধ্য হন আশফাক, পরে আর সেভাবে আলো ছড়ানোর সুযোগ পাননি। রাইট উইং দিয়ে আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করে মালদ্বীপ। সেখানে সময়মতো নিচে নেমে বাংলাদেশকে বাড়তি সুরক্ষা দিয়েছেন মোহাম্মদ ইব্রাহিম ও রাকিব হোসেন। ওপেন প্লেতে সুবিধা করতে পারেনি মালদ্বীপ।

default-image

৩৩ মিনিটে তারা সমতায় ফেরে সেট পিস থেকে পাওয়া গোলে। আলী আশফাকের নেওয়া কর্নারে দূরের পোস্টে লাফিয়ে উঠেও মাথা ছোঁয়াতে পারলেন না রাকিব হোসেন। দূরের পোস্টেরও বাইরে থেকে ইব্রাহিম আইশাম প্রথম স্পর্শে গোলমুখে পাস বাড়ালেন, জটলার মধ্যে থেকে টোকা দিয়ে জালে জড়িয়ে দিলেন মোহাম্মদ ওমাইর। অবাক করা ব্যাপার, গোলমুখে ওমারইকে কেউ মার্ক পর্যন্ত করেননি। প্রথমার্ধে দুই দলের প্রতিপক্ষে পোস্টে শট বলতে ওই গোল দুটিই!

দ্বিতীয়ার্ধে কৌশল বদলায় বাংলাদেশ। আতিকুর ও হৃদয়কে মাঝমাঠে ‘ডাবল পিভট’ রেখে ‘নাম্বার টেন’ ভূমিকায় খেলানো হয় জামালকে। বদলি হিসেবে নামানো হয় ফরোয়ার্ড ফয়সাল আহমেদ, জুয়েল রানা ও মাহবুবুর রহমানকে। ৮৭ মিনিটে জুয়েলের কল্যাণেই পেনাল্টি পায় বাংলাদেশ। বল দখলের লড়াইয়ে জুয়েলকে মালদ্বীপের গোলকিপার ফেলে দিলে পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি। ৮৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে বল জালে জড়িয়ে দেন তপু বর্মণ।

এই জয়ে দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে বাংলাদেশ। ১৬ নভেম্বর গ্রুপের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা। সে ম্যাচে ড্র করতে পারলেই বাংলাদেশের ফাইনাল খেলা নিশ্চিত।

মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন