‘আমাদের খেলায় যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে’

উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য জাতীয় দলের ১৯ জন হকি খেলোয়াড় গিয়েছিলেন জার্মানিতে, সেখান থেকে আরও কয়েকটি ইউরোপীয় দেশে গিয়েও খেলেছেন ম্যাচ। দুই মাস ২২ দিন পর দেশে ফিরেছেন তাঁদের সাতজন। এ সফরের নানা অভিজ্ঞতাই তুলে ধরলেন জার্মান-ফেরত জাতীয় দলের স্ট্রাইকার রাসেল মাহমুদ জিমি উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য ইউরোপ সফরের অভিজ্ঞতাটা তো আপনাদের জন্য একেবারেই নতুন?রাসেল মাহমুদ জিমি: হ্যাঁ, নতুন। ওখানে ট্রেনিংটা ভালো হয়েছে। আমাদের যে দুর্বলতাগুলো ছিল, সেগুলো কেটে গেছে। আগে আমরা বড় বড় দলের বিপক্ষে খেলতে গেলে যে ভয়টা পেতাম, সেটা আর নেই। বিভিন্ন ক্লাবের সঙ্গে খেলে অনেক অভিজ্ঞতাও হয়েছে। প্রমাণটা পরে পেয়েছি, আমাদের রেজাল্টে। চেক রিপাবলিক, নেদারল্যান্ড, ইতালির সঙ্গে খেলার সময়ই বুঝতে পেরেছি, আমাদের খেলায় যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। এতদিন জার্মানিসহ অন্যান্য দেশে খেললেন। পেছন ফিরে তাকালে কোন ব্যাপারটাকে বেশি গুরুত্ব দেবেন?জিমি: ওখানে আমার একটা বিষয় খুব ভালো লেগেছে, ওরা সবকিছু পজিটিভ দেখে। আমরা কখনো হারি, কখনো জিতি। হারলে সমালোচনা-জবাবদিহিতার মুখোমুখি হতে হয় আমাদের। ওদের ভেতরে ওটা নেই। ওরা খেলার পর সবসময় মজা করে। বলে, এই ম্যাচে জিতিনি, পরের ম্যাচে দেখব। খেলোয়াড়দের দোষ খোঁজা হয় না। হেরে গেছি, ঠিক আছে! খেলোয়াড়দের ওরা খুব উত্সাহ দেয়। শুধু টাকা-পয়সা নয়, সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়েও উত্সাহ দেয়। বাংলাদেশের হকির সঙ্গে ওদের পার্থক্যটা আসলে কোথায়?জিমি: মূল পার্থক্য হলো ওরা খেলে টিম হকি ও পাওয়ার হকি। আমরা এশিয়ানরা ব্যক্তিগত স্কিল ধরে রেখে খেলার চেষ্টা করি, ওদের মধ্যে ওই জিনিসটা নেই। ওরা আসলে টোটাল হকি খেলে। আমি আমার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এত ফাস্ট খেলা দেখেছি কি না সন্দেহ আছে। এই সফরের মূল্যায়ন করবেন কীভাবে?জিমি: আমাদের টিমওয়ার্ক এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো। ফিটনেসে যে দুর্বলতা ছিল, সেটা কাটিয়ে উঠতে পেরেছি। শেষে চেক রিপাবলিকের বিপক্ষে রেজাল্টটা খারাপ হয়েছে শুধু আবহাওয়ার কারণে। ওখানে মাইনাস তাপমাত্রায় কীভাবে খেলব বলেন। কোন কোন জায়গায় ফেডারেশনের নজর দেওয়া উচিত?জিমি: ফেডারেশন আমাদের খেলার যে সুযোগ করে দিয়েছে, সেটা খুবই ভালো উদ্যোগ। কিন্তু বিদেশে সারা বছর খেলতে গেলে আমাদের পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তার দিকটাও দেখতে হবে। ওখানে যে ট্রেনিংটা করেছি, সেটা এখানে চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিলে আরও উন্নতি করতে পারব। কোচ গেরহার্ডও তো আপনার ব্যাপারে বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলতে গেলে আপনাকে আরও উন্নতি করতে হবে। আপনি কী বলেন?জিমি: উনি কীভাবে রিপোর্ট করেছেন, সেটা নিয়ে প্রশ্ন আছে। উনি আমাদের লিগের খেলা দেখে রিপোর্ট করেছেন, না জাতীয় দলের খেলা দেখে রিপোর্ট করেছেন, জানি না। আমরা এর আগে যখন মালয়েশিয়া কিংবা রাশিয়ায় খেলেছি, তখন কোনো রিপোর্ট দেননি। এখন উনি যেটা বলছেন, এর সঙ্গে একমত হতে পারছি না। আমি জার্মানির প্রথম বিভাগের দলে খেলেছি। ওদের কোচ আমার খেলা দেখে প্রশংসা করেছেন। তবে উনি যা বলেছেন, সে ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। কতটি দেশের সঙ্গে ম্যাচ খেলেছেন আপনারা? জিতলেন কি ইতালি জাতীয় দলের বিপক্ষেই?জিমি: ৫টি দেশের সঙ্গে খেলেছি। ইতালি জাতীয় দলের বিপক্ষেই জিতেছি। দেশে ফিরেই তো দলবদলে পুলের জালে পড়লেন? এটা নিয়ে আপনারা কী ভাবছেন?জিমি: পুল হলে তো খেলোয়াড়দের ক্ষতি। আমরা কোনোভাবেই চাই না, পুল হোক। জামিল ভাইয়ের (ফেডারেশন সম্পাদক) সঙ্গে দেখা করে এ ব্যাপারে কথা বলব।