‘ছক্কা নাঈম’-এর জয়

দলের মধ্যে অনেক নামেই ডাকা হয় ক্রিকেটারদের। আবদুর রাজ্জাকের নাম যেমন ‘লাল্লা’, সাকিব আল হাসানের ‘ময়না’। কোন নামের পেছনে কী কারণ, সেটা বলা মুশকিল। তবে নাঈম ইসলামের নামটা শুনলে এর পেছনের কারণ আর কাউকে বলে দিতে হবে না। বাংলাদেশ দলে নাঈমের নাম—‘ছক্কা নাঈম’।‘ছক্কা নাঈম’ নামের সার্থকতা প্রমাণ করার মতো এক ইনিংসই খেললেন কাল চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্টেডিয়ামে! জয়ের জন্য যখন ১৮ বলে দরকার ২৪ রান, চিবাবার বলে মারলেন পরপর তিন ছক্কা। এর আগে রে প্রাইসকে মেরেছেন আরেকটি। অথচ এ রকম পরিস্থিতিতে শুধু নাঈম কেন, বাংলাদেশ দলের আর কোনো ব্যাটসম্যানের আছে ম্যাচ বের করে আনার কৃতিত্ব? ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে যখন রসিকতা মেশানো প্রশ্ন হলো, ‘আজ কী খেয়ে নেমেছিলেন’, নাঈমের হয়ে পাশে বসে থাকা সাকিব আল হাসান রসিকতা মিশিয়েই মৃদু স্বরে বললেন, ‘ওনাকে আমরা ছক্কা নাঈম বলে ডাকি তো, ওনার নাম ছক্কা নাঈম।’‘ছক্কা নাঈম’-এর একটা হতাশা ছিল এতদিন। ব্যাটিং অর্ডারে যে জায়গায় খেলেন, নিজের মতো করে খেলার সুযোগ হয় না বললেই চলে। ম্যাচ জেতানো তো পরে, কাল সে সুযোগ পেয়েই খুশি হয়ে গিয়েছিলেন গাইবান্ধার এই তরুণ, ‘প্রতিদিন যারা উপরে আছে, ওরাই খেলা শেষ করে আসে। আমি আর রিয়াদ (মাহমুদউল্লাহ) গিয়ে হয়তো দেখি, শেষে ৫-৭ রান থাকে। আজ (কাল) যখন ১০০ রানের মতো বাকি ছিল, তখন মনে হয়েছিল, ভালো একটা সুযোগ এসেছে।’উইকেটে যখন শেষ ব্যাটসম্যান নাজমুল, সিঙ্গেল নেওয়া ছেড়েই দিলেন নাঈম। তামিম ইকবাল রান আউট হওয়ার পর ড্রেসিংরুম থেকেই নির্দেশনা গিয়েছিল, নাঈম যেন স্ট্রাইক ধরে রেখে খেলেন। রান নেওয়ার বেশ কয়েকটা সুযোগ পেয়েও দুজনে জায়গা বদল করলেন না, তাতে বড় শট খেলার চাপও তৈরি হলো! কিন্তু চাপ-টাপ নয়, নাঈম নাকি শুধু একটা কথাই ভাবছিলেন, ‘শুধু চিন্তা করেছি, শেষ পর্যন্ত দেখি কী হয়। এর আগে রিয়াদ আউট হওয়ার পরও ম্যাচটা হারব বা জিতব, সে রকম চিন্তা মাথায় আসেনি। শুধু ভেবেছি উইকেটে আছি, ব্যাটিং করি।’নাঈমের ইনিংসে সাকিবের সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে তাঁর ইতিবাচক মানসিকতা, ‘খুবই ভালো ব্যাটিং করেছেন নাঈম ভাই। ওনার ইনিংসের সবচেয়ে ভালো জিনিস ছিল শুরু থেকেই পজিটিভ থাকা। সাত-আটেও ম্যাচ জেতানোর মতো কেউ আছে জানলে কাজটা সহজ হয়ে যায়।’ সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলও নাঈমের প্রশংসায় পঞ্চমুখ, ‘এ রকম ইনিংস তো সাধারণত আমাদের কেউ খেলে না।’ জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার আতহার আলী খানের কাছ থেকেও পুরো নম্বর পাচ্ছেন নাঈম, ‘পরিস্থিতি অনুযায়ী ও যা খেলেছে, অবিশ্বাস্য! এ রকম অবস্থায় বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের অন্যতম সেরা ইনিংস এটা। ম্যাচ জেতার আগ পর্যন্ত আমি কখনোই ভাবিনি, নাঈম পারবে।’নাঈম ছাড়া আর কে-ই বা ভেবেছিলেন!