শেষ ম্যাচগুলো কেন এক সময়ে হয়?

শেষ ম্যাচে জার্মানির হতাশা ও সুইডেনের উচ্ছ্বাস। ছবি: এএফপি
শেষ ম্যাচে জার্মানির হতাশা ও সুইডেনের উচ্ছ্বাস। ছবি: এএফপি
>গ্রুপের ম্যাচগুলো শুরু হয়েছিল আলাদা সময়ে। কিন্তু ২৫ জুন থেকে একই সময়ে শুরু হচ্ছে গ্রুপের শেষ দুটি ম্যাচ। কিন্তু কেন?

কোনটা রেখে কোনটা দেখি! এই সংকটে পড়েছিলেন ফুটবল-ভক্তরা। ২৫ জুন থেকে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচগুলো হচ্ছে একই সময়ে। দুই ম্যাচেই জমছে নাটক। এই ম্যাচে গোল হয় তো বদলে যায় ওই ম্যাচের সমীকরণও! কিন্তু একই সঙ্গে তো আর দুটি ম্যাচ দেখা যায় না। চ্যানেল ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখেও মজা নেই। অথচ আলাদা সময়ে হলে পুরো স্বাদটাই উপভোগ করা যেত।


কেন গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচগুলো একই সময়ে হয়? আলাদা সময়ে হলে ক্ষতি কী? কারণটা ১৯৮২ বিশ্বকাপ। ওই বিশ্বকাপের একটি ম্যাচের কারণেই পরের আসর থেকে এই নিয়ম চালু করতে বাধ্য হয় ফিফা। এ কারণে গত ৮টি বিশ্বকাপের মতো রাশিয়ায়ও গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচগুলো একই সময়ে হচ্ছে। যে যন্ত্রণা শেষ হচ্ছে আজ।

৩৬ বছর আগে ফিরে গিয়ে শোনা যাক ‘ডিসগ্রেস অব গিহন’ নামে কলঙ্কজনক এক অধ্যায়ের। ঘটনাটি ১৯৮২ সালে স্পেন বিশ্বকাপের। সেবার গ্রুপ পর্বে ইউরোপের পাওয়ার হাউস পশ্চিম জার্মানির কাছে উড়ে যাওয়ারই কথা ছিল আফ্রিকান দল আলজেরিয়ার। উড়ে তারা গিয়েছিল ঠিকই, তবে সেটি জার্মানিকে হারানোর আনন্দে। পশ্চিম জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় চমক উপহার দিয়েছিল আলজেরিয়া।

তারা যেতে পারত দ্বিতীয় পর্বেও। জেগেছিল বেশ আশা। কিন্তু মাঝে ছিল একটি সমীকরণ। পশ্চিম জার্মানি ও অস্ট্রিয়া ম্যাচটি যে হারবে, সে বাদ। যে জিতবে, তার সঙ্গে পরের রাউন্ডে যাবে আলজেরিয়াও। কিন্তু ড্র হলে অস্ট্রিয়া ও জার্মানি দুই দলই পা রাখবে দ্বিতীয় পর্বে। বিপত্তিটা বাধল এখানেই।

পশ্চিম জার্মানি ও অস্ট্রিয়া যুদ্ধংদেহী মনোভাব নিয়ে মাঠে নামল ঠিকই। কিন্তু খেলা শুরু হতেই ভোল বদল। ম্যাচটিতে কেউ জিততে চাইল না। কোনোরকমে সময় পার করে ড্র নিয়ে উভয় দলই পৌঁছে গেল দ্বিতীয় পর্বে। খেলাটি স্পেনের বিখ্যাত ক্লাব স্পোর্টিং গিহনের মাঠে হয়েছিল বলে যা ‘গিহনের কলঙ্ক’ নামে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে। এই থেকে শিক্ষা গ্রহণ করল ফিফা।

এরপর ১৯৮৬ বিশ্বকাপ থেকেই একই গ্রুপের শেষ দুটি ম্যাচ মাঠে গড়ায় একই সময়ে। যাতে কেউ কোনো ছলচাতুরীর আশ্রয় নিতে না পারে। ফল পাতাতে না পারে। কিন্তু এতে লাভের বদলে ক্ষতি হচ্ছে ফুটবলপ্রেমীদের। ২৫ জুনই যেমন স্পেন-মরক্কো ম্যাচে নাটক চলছিল, নাটক চলছিল ইরান-পর্তুগাল ম্যাচেও। কিন্তু দুটি ম্যাচই সরাসরি দেখার সৌভাগ্য কারও হয়নি। পরদিন আইসল্যান্ড-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে ১-১ স্কোরলাইনে সমীকরণ ছিল, আইসল্যান্ড আর এক গোল করলে নাইজেরিয়া-আর্জেন্টিনা দুই দলই বাদ। এদিকেও তখন স্কোরলাইন ১-১। কোনটা রেখে কোনটা দেখি অবস্থা।

গতকালও যেমন মেক্সিকো হঠাৎ গোল খেয়ে বসায় জার্মানির সামনে সমীকরণ এসে হাজির, জিততেই হবে। ড্র করলেও বাদ! শেষে তো জার্মানি বাদই পড়ল!

টিভিতে সরাসরি দেখা না গেলেও একই সঙ্গে দুই ম্যাচ চলা এবং একটির ফল আরেকটিকে এভাবে প্রভাবিত করার মধ্যে অবশ্য শিহরণ-জাগানিয়া অনুভূতি আছে। তা বেশ উপভোগ করেন ফুটবলপ্রেমীরা। আর এর সবই শুরু হয়েছিল ১৯৮২ বিশ্বকাপের সেই ম্যাচটির কারণে।