বাংলাদেশের ভয়ের কারণ যে পাঁচ ভারতীয় তারকা

আজ ১৫ অক্টোবর কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে (সল্ট লেক স্টেডিয়াম) বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের দ্বিতীয় পর্বে গ্রুপ ‘ই’- এর ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে খেলতে নামবে বাংলাদেশ। ভারতের কোন কোন খেলোয়াড় বাংলাদেশের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারেন?


আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত আটটায় কলকাতার বিখ্যাত যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে নিজেদের মধ্যকার ফুটবলীয় শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে দুই প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ ও ভারত। নিজেদের মাঠে খেলা হচ্ছে, ওদিকে র‍্যাঙ্কিংয়েও এগিয়ে ভারত। ফলে, স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচে ফেবারিট কে, এটা বলে দেওয়ার অবকাশ নেই। কিন্তু নিজেদের দিনে নিজেদের সেরা খেলাটা দিতে পারলে বাংলাদেশও অঘটনের আশা করতেই পারে। আর সেই লক্ষ্যে ভারতের বেশ কিছু খেলোয়াড়ের দিকে নজর রাখতে হবে। তাঁদের বোতলবন্দী করে রাখতে পারলেই আসবে সাফল্য। তাঁরা কারা? আসুন দেখে নেওয়া যাক!

গোল করার মূল দায়িত্ব এখনো সুনীলের কাঁধে। ছবি: এএফপি
গোল করার মূল দায়িত্ব এখনো সুনীলের কাঁধে। ছবি: এএফপি


সুনীল ছেত্রী (স্ট্রাইকার, বেঙ্গালুরু এফসি)
ভারতের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সফল তারকা সুনীল ছেত্রী এই ম্যাচেও বাংলাদেশের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারেন। গোল করার জন্য এখনো ৩৫ বছর বয়সী এই ‘বুড়ো’র দিকে তাকিয়ে থাকে ভারত। সুনীলও হতাশ করেন না সমর্থকদের। বয়স ৩৫ হয়েছে তো কী? এখনো খেলে যান তরুণ স্ট্রাইকারের মতো। বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দিন দিন যেন আরও বেশি কার্যকর হচ্ছেন এই তারকা স্ট্রাইকার। ফিটনেস বজায় রাখতে এর মধ্যেই আমিষ খাওয়া বাদ দিয়েছেন, মাছ-মাংস ছুঁয়েও দেখেন না। শুধু তা–ই নয়, দলের তরুণ খেলোয়াড়দেরও পিৎজা, পাস্তা—এসব খেতে দেন না দলের অধিনায়ক! ফলে, তাঁর গায়ের শক্তি বেড়েছে, প্রতিপক্ষ সেন্টারব্যাকদের তটস্থ করে রাখেন সারাক্ষণ। কৌশলগত ফাউল (যে ফাউল করলে কার্ড খাওয়ার আশঙ্কা থাকে না) করতে ওস্তাদ তিনি। তবে আগের থেকে ছেত্রীর গতি কমেছে একটু। যে কারণে প্রায়ই নিচে নেমে এসে দলের মিডফিল্ডকে সাহায্য করতে দেখা যায় তাঁকে। ১১২ আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৭২ গোল করে এশিয়ার বর্তমান খেলোয়াড়দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গোল তাঁর।

বাংলাদেশের রক্ষণভাগের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সুনীলকে আটকানো। তাঁকে এক মুহূর্তের জন্য চোখের আড়াল করলে সেই মুহূর্তটাই কাল হয়ে যেতে পারে বাংলাদেশের জন্য। ওমানের বিরুদ্ধে করা তাঁর গোলটাই দেখে নিন। সুনীলের বিপক্ষে ইয়াসিন-রায়হানদের তাই চূড়ান্ত ফর্মেই থাকা লাগবে।

উড়ন্ত সিং। ছবি: এএফপি
উড়ন্ত সিং। ছবি: এএফপি


উড়ন্ত সিং (রাইট উইঙ্গার, বেঙ্গালুরু এফসি)
ভদ্রলোকের নামও উড়ন্ত, কাজেও আক্ষরিক অর্থেই উড়ন্ত! ভারতের সবচেয়ে গতিশীল উইঙ্গার মানা হয় তাঁকে। খেলেন ডান দিকে। উড়ন্ত সম্পর্কে ক্লাব সতীর্থ সুনীল ছেত্রীর একটা উক্তি উল্লেখ করার মতো, ‘উড়ন্ত যখন বল পায়, আমরা কোনো কিছু না ভেবে মাথা নিচু করে প্রাণপণে ডি বক্সের দিকে দৌড়াই। কারণ, আমরা জানি, ওকে আটকানো একরকম সম্ভব নয়।’ কাতারের বিপক্ষে ম্যাচে ২০১৮ সালে এশিয়ার সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পাওয়া লেফটব্যাক আবদেল করিম হাসানকে একাই ঘোল খাইয়ে ছেড়েছেন এই উড়ন্ত। বাংলাদেশের রহমত মিয়া বা রায়হান হাসানকে যথেষ্ট সতর্ক থাকতে হবে উড়ন্তর বিপক্ষে। 

অনিরুদ্ধ থাপা। ছবি: এএফপি
অনিরুদ্ধ থাপা। ছবি: এএফপি


অনিরুদ্ধ থাপা (মিডফিল্ডার, চেন্নাইয়িন এফসি)
কোচ ইগর স্টিমাচের তারুণ্যনির্ভর ভারতের অন্যতম প্রধান কুশীলব এই অনিরুদ্ধ থাপা। খেলেন মিডফিল্ডে। আর্তুরো ভিদাল বা ইয়াইয়া তোরের কথা মনে করুন। কেমন খেলেন তাঁরা? রক্ষণ থেকে শুরু করে আক্রমণভাগ পর্যন্ত সব জায়গায় তাঁদের বিচরণ থাকে। দলের ফুসফুস বলা হয় তাঁদের। ৯০ মিনিট ধরে বিরামহীন দৌড়ে যান তাঁরা। রক্ষণভাগে থেকে বল ট্যাকল করা থেকে শুরু করে বিপজ্জনক বল ক্লিয়ার করা, বল নিয়ে আক্রমণভাগের দিকে এগিয়ে যাওয়া—সব একাই করতে পারেন তাঁরা। ভারত দলে অনিরুদ্ধ থাপার কাজটা অনেকটাই এমন। মাঝেমধ্যে হুট করে প্রতিপক্ষের ডি বক্সে ঢুকে গিয়ে গোলও করতে পারেন এই তারকা। 

সাহাল আবদুল সামাদ। ছবি: এএফপি
সাহাল আবদুল সামাদ। ছবি: এএফপি


সাহাল আবদুল সামাদ (আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার, কেরালা ব্লাস্টার্স)
আরব আমিরাতে জন্ম নেওয়া এই তারকাকে নিয়ে বেশ কয়েক দিন ধরে মাতামাতি হচ্ছে ভারতে। নতুন কোচের অধীনে অভিষিক্ত সাহাল গোল বানিয়ে দেওয়ার কাজটা বেশ ভালো করতে পারেন। ফলে, স্ট্রাইকার সুনীল ছেত্রীর সঙ্গে তাঁর জমেছে বেশ। সুনীল নিজেই বলেছেন, ‘তরুণ খেলোয়াড়দের মধ্যে আমি সাহালকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি উচ্ছ্বসিত।’ সুনীল-সাহাল রসায়ন নিষ্ক্রিয় করার জন্য মিডফিল্ড থেকে, বিশেষ করে জামাল ভূঁইয়াকে মাথা ঘামাতে হতে পারে।

গুরপ্রীত সিং সান্ধু। ছবি: এএফপি
গুরপ্রীত সিং সান্ধু। ছবি: এএফপি


গুরপ্রীত সিং সান্ধু (গোলরক্ষক, বেঙ্গালুরু এফসি)
কাতারের বিপক্ষে এক গুরপ্রীত না থাকলে ভারত কয়টা যে গোল খেত, কেউ বলতে পারে না। রীতিমতো চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। তাঁর বিশ্বস্ত হাতের কল্যাণে মূল্যবান এক পয়েন্ট ছিনিয়ে এনেছিল ভারত। পুরো ম্যাচে গোলে ২৭টি শট ছিল কাতারের। সব কটি শট একাই ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন গুরপ্রীত। প্রথাগত গোলরক্ষক নয়, গুরপ্রীত নিজেকে আধুনিক গোলরক্ষক হিসেবে ভাবতেই পছন্দ করেন। শুধু গোল ঠেকানো নয়, বরং মাঠের অতিরিক্ত একজন খেলোয়াড় হিসেবে পেছন থেকে দলের আক্রমণ গড়ে দেওয়াও যাঁর কাজ। আর এ জন্য নিয়মিত ম্যানুয়েল নয়্যার, এডারসনদের মতো গোলরক্ষকদের ভিডিও দেখে নিজেকে প্রস্তুত করেন নরওয়ের ক্লাব স্টায়েবেকের হয়ে ইউরোপা লিগের বাছাইপর্ব খেলে আসা এই গোলরক্ষক। ভারতের আর কেউ ইউরোপা লিগের বাছাইপর্ব খেলেননি।