১ রানের জন্য সেঞ্চুরি পেলেন না ম্যালান।
১ রানের জন্য সেঞ্চুরি পেলেন না ম্যালান। ছবি: রয়টার্স

জস বাটলারের সঙ্গে মিলে টি-টোয়েন্টির দ্বিতীয় উইকেটে সবচেয়ে বেশি রানের জুটির বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন ডেভিড ম্যালান। তাতে দক্ষিণ আফ্রিকার ১৯২ রানের লক্ষ্যটা অনায়াসেই পেরিয়ে গেছে ইংল্যান্ড। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে প্রোটিয়াদের হোয়াইটওয়াশও করেছে। ম্যাচসেরা হওয়ার পাশাপাশি সিরিজসেরাও হয়েছেন ম্যালান। কিন্তু এত কিছুর পরও ম্যালানের একটা আক্ষেপ না থেকে পারে না। কাল যদি অঙ্কটা ঠিকঠাক করতেন!

কেপটাউনে কাল সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে দক্ষিণ আফ্রিকার ১৯১ রানের জবাবে দ্বিতীয় উইকেটে ম্যালান-বাটলারের অপরাজিত ১৬৭ রানের জুটিতে ম্যাচটা ৯ উইকেটে জিতেছে ইংল্যান্ড। এত বড় লক্ষ্য টপকে গেছে ১৪ বল হাতে রেখে! কিন্তু ম্যাচ শেষে ম্যালানের আক্ষেপ, ১ রানের জন্য সেঞ্চুরি পেলেন না! সেটি শুধু অঙ্ক ঠিকঠাক করতে পারেননি বলে। ম্যাচ শেষে ম্যালান নিজেই মজা করে বলছিলেন, ‘হিসাবটা ঠিকঠাক করতে পারিনি। সম্ভবত আমাকে আবার অঙ্ক ক্লাসে যেতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

১৮তম ওভারের চতুর্থ বল তখন। ইংল্যান্ডের জয়ের জন্য দরকার আর ১ রান। ম্যালানের রান তখন ৯৮, স্ট্রাইকেও তিনিই। কিন্তু কী যে হিসাব করলেন, তা তিনিই ভালো বলতে পারবেন! লুথো সিমপালার বল কাভারে ঠেলে দিয়ে ১ রানই নিলেন! ইংল্যান্ড জিতে গেল, তাঁর আর সেঞ্চুরি পাওয়া হলো না। অথচ তখনো ১৪ বল বাকি ইনিংসে!

সেঞ্চুরি না পেলেও সিরিজটা যেভাবে কাটিয়েছেন, তা নিয়ে ম্যালান গর্বিত হতেই পারেন। আগের ম্যাচেও ৫৫ রানের ইনিংসে দলকে জিতিয়ে হয়েছিলেন ম্যাচসেরা, পুরস্কারটা পেলেন কালও। সঙ্গে সিরিজসেরার পুরস্কারও। একটু বেশি বয়সে অভিষেক হলেও ম্যালানের ১৯ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সংখ্যাগুলোও দারুণ: ১ সেঞ্চুরি, ৯ ফিফটি, ৮৫৫ রান, গড় ৫৩.৪৩, স্ট্রাইক রেট ১৪৯.৯৭। এমনি এমনিই তো বাবর আজম-বিরাট কোহলিদের পেছনে ফেলে টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে নন ৩৩ বছর বয়সী ইংলিশ ব্যাটসম্যান!

ম্যালানের সঙ্গে কাল বাটলার যোগ দিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে বিশ্ব রেকর্ডও গড়েছেন। ম্যালানের ৯৯ রান এসেছে মাত্র ৪৭ বলে, ১১ চার ও ৫ ছক্কায়। তুলনায় বাটলার একটু ‘ওয়ানডে’ গতির—৬৭ রান করেছেন ৪৬ বলে। চার মেরেছেন ৩টি, ছক্কা ৫টি। দক্ষিণ আফ্রিকার ১৯১ রানের জবাবে চতুর্থ ওভারের চতুর্থ বলে দলকে ২৫ রানে রেখে ওপেনার জেসন রয় (১৬ রান) বিদায় নিলেও এ দুজনে সেখান থেকে মিলে অনায়াস জয়ই এনে দেন ইংল্যান্ডকে। দুজনের অবিচ্ছিন্ন ১৬৭ রানের জুটি টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় উইকেটে সর্বোচ্চ।

default-image

বাটলার-ম্যালানের কারণে বৃথা গেল দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে রাসি ফন ডার ডুসেনের দারুণ ইনিংস। সিরিজ তো আগেই হাতছাড়া হয়েছে, কাল তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে টস জিতে আগে ব্যাটিং নিয়ে শুরুতে খুব একটা সুবিধা করতে পারছিল না দক্ষিণ আফ্রিকা।

বিজ্ঞাপন

অধিনায়ক কুইন্টন ডি কক ও তিনে নামা রিজা হেনড্রিকস ফিরেছেন অল্প রানে, আরেক ওপেনার টেম্বা বাভুমা করেছেন ৩২ রান। দশম ওভারের তৃতীয় বলে তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে হেনড্রিকস যখন ফিরছেন, দক্ষিণ আফ্রিকার রান ৬৪। সেখান থেকে চতুর্থ উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ১২৭ রানের জুটি গড়েন ফাফ ডু প্লেসি ও ফন ডার ডুসেন।

default-image

ডু প্লেসি ৩৭ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৫২ রানে অপরাজিত ছিলেন। ফন ডার ডুসেন আরও আগ্রাসী। ৭৪ রান করেছেন মাত্র ৩২ বলে। ২৩১.২৫ স্ট্রাইক রেটের ইনিংসটিতে চার ৫টি, ছক্কাও ৫টিই।

তাঁর ঝড়েই ১৯২ রানের লক্ষ্য দিয়ে হয়তো বিরতিতে একটু স্বস্তিতেই ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। নিউল্যান্ডসের এই মাঠে যে পরে ব্যাটিং করে ১৯০ রান এর আগে কোনো দল তুলতে পারেনি।

কিন্তু এই রেকর্ডকে কেমন ভ্রুকুটি করল ম্যালান-বাটলারের বিশ্ব রেকর্ড গড়া জুটি!

মন্তব্য করুন