default-image

জীবন তাঁর কাছে উপভোগের আরেক নাম। ক্রিকেটও তা-ই। তবে দুঃস্বপ্নের মতোই মাঝে মাঝে হানা দেয় কঠিন বাস্তবতা। ক্রিকেট তখন অস্তিত্বের লড়াই! দুঃসময়ের থাবায় ক্রিস গেইলের মুখ থেকেও উবে গিয়েছিল হাসি। ডাবল সেঞ্চুরির উদ্যাপন তাই হলো না বাঁধনহারা। হাঁটু মুড়ে বসে ব্যাট-হেলমেট উঁচিয়ে ধরলেন বটে। কিন্তু এত বড় কীর্তির উচ্ছ্বাস তাতে ফুটে উঠল কোথায়!

default-image


এমনিতে মাঠের ভেতরে-বাইরে তিনি অফুরান প্রাণশক্তির উৎস। কিন্তু ব্যাটে রানখরা, সমালোচনার কেন্দ্রে থাকা, সেই স্রোতে বোর্ডপ্রধানের শামিল হওয়া—সব মিলিয়ে সময় ছিল প্রতিকূলে। দুঃসময়কে পাল্টা জবাব দিয়ে যখন ফিরলেন, গেইলের কণ্ঠে সেই তৃপ্তি, ‘রান ছিল না ব্যাটে। এত চাপ জীবনে কখনো অনুভব করিনি। জীবনে প্রথমবার সম্ভবত এত এত লোক চাইছিল আমি রান করি। টুইটারে, ফোনে পেয়েছি অনেক অনেক মানুষের শুভকামনা, শুভেচ্ছাবার্তা। মনে হচ্ছিল আমার শত্রুরাও যেন চাইছিল ভালো করি! ভালো লাগছে যে আমি কিছু একটা করতে পেরেছি।’
ভাগ্যটাকে পাশে না পেলে অবশ্য চাপমুক্তির বদলে আরও বাড়তে পারত বোঝা। ম্যাচের দ্বিতীয় বলেই ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে বোল্ড ডোয়াইন স্মিথ। নিজের খেলা প্রথম বলেই এলবিডব্লুর জোরালো আবেদনে বেঁচে যান গেইলও। তৃতীয় আম্পায়ার যখন রিভিউ করছিলেন, গেইলের আত্মা হাতের মুঠোয়, ‘মনে মনে বলছিলাম, প্রথম বলে নিশ্চয়ই আউট হতে পারি না! আউট হতে চাই না...ঈশ্বরকে ধন্যবাদ পাশে থাকার জন্য।’

default-image


এক বল পরই আবার দিয়েছিলেন ক্যাচমতো। শুরুর বেশ অনেকটা সময়জুড়েই ব্যাটে ছিল অস্বস্তি। তবে সময়ের সঙ্গে খুঁজে পেয়েছেন ছন্দ। প্রথম এক শ রানে ছিল যেন রানে ফেরার প্রাণান্ত চেষ্টার প্রমাণ। খেলেছেন অনেক সাবধানে, সতর্কতায়। চাপটা সরে যাওয়ার পর ফিরেছেন চেনা বিধ্বংসী চেহারায়। প্রথম সেঞ্চুরি ১০৫ বলে, পরের সেঞ্চুরি ৩৩ বলে! সম্ভাব্য ডাবল সেঞ্চুরিয়ান হিসেবে তাঁর ছবিটা অনেক আগে থেকেই এঁকে রেখেছেন অনেেকই। অবশেষে সেটি বাস্তবে রূপ পাওয়ায় স্বস্তি পাচ্ছেন নিজেও, ‘আগে বলেছিলাম, সেঞ্চুরি করতে পারলে অবশ্যই আমি চেষ্টা করব আরও বড় করার। রোহিত শর্মা দুটি ডাবল করার পর ভক্তদের অনেকেই আমাকে বলেছে ডাবল করতে। সবারই প্রত্যাশা ছিল। ভালো লাগছে যে সুযোগটা পেয়ে কাজে লাগিয়েছি।’
ব্যাটিংয়ের মতো অনুভূতি প্রকাশেও তিনি ভয়ডরহীন। মনের কথা মুখে আনেন অকপটে। বোর্ড সভাপতির টুইট বিতর্ক নিয়েও যেমন কাল রাখঢাক রাখলেন না, ‘অমন একটি জায়গা থেকে এমন কিছু হতে দেখা খুব হতাশার। বিশ্বকাপের মতো আসরে চাই সবার সমর্থন, নেতিবাচক কিছু কখনোই কাম্য নয়। এখনো আমি চোট নিয়ে খেলছি। ফর্মও ভালো ছিল না। তার মধ্যে এত কথা। সব মিলিয়ে সত্যি বলতে আমি খুব স্বস্তিকর অবস্থায় নেই। মানসিক শক্তি আছে বলেই চালিয়ে যেতে পারছি।’
ও হ্যাঁ, ম্যাচে কিন্তু মারলন স্যামুয়েলসও ছিলেন! গেইল-কীর্তির বিশালতায় আড়ালে পড়েও কিন্তু ক্যারিয়ারসেরা অপরাজিত ১৩৩ রানের ইনিংস খেলেছেন স্যামুয়েলস। দুই জ্যামাইকান মিলে গড়েছেন ওয়ানডে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জুটি। দলের রানও ঠিক জুটির সমান, ৩৭২। ম্যাচ নিয়ে এরপর আগ্রহের আর বেশি কিছু ছিল না। ফর্মে থাকা দুই বাঁহাতি শন উইলিয়ামস ও ক্রেইগ আরভিনের ব্যাটে তবু জবাবটা ভালোই দিয়েছে জিম্বাবুয়ে। একেবারেই একতরফা হয়নি ক্যারিবিয়ানদের জয়। তবে ম্যাচটি শুধুই গেইলের। বল হাতেও নিয়েছেন ২ উইকেট। সেটা নিয়েও পরে তাঁর সহজাত কৌতুক, ‘বোলিং নিয়ে আমার ভাবনার কিছু নেই, একটু বেশিই ভালো আমি!’
আসলেই তাই। নিজের দিনের গেইল একটু বেশিই ভালো! স্টার স্পোর্টস, ক্রিকইনফো।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন