একটা শব্দেই পুরো ক্রিকেট বিশ্বের অবস্থাটা বুঝিয়ে দেওয়া যায়—অবিশ্বাস! সব সময়ই চলমান ইস্যুতে নিজের মত জানাতে অকুণ্ঠ ওয়ার্নের টুইটারেই তাঁর জীবনে কী চলছিল, তাঁর ভাবনার জগতে ঝড় তুলছে কোন ব্যাপার, সেটি বুঝে নেওয়া যেত অনেকটা। কই, সেখানে তো তাঁর শারীরিক কোনো অসুস্থতা-অস্বস্তির খবর পাওয়া যায়নি গত কিছুদিনে!

বরং নিজের কয়েক বছর আগের মেদহীন শরীরের একটা ছবি দিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি টুইটে লিখেছিলেন, ‘মেদ ঝরানোর মিশন মাত্রই শুরু হলো (১০ দিন হয়েছে)। লক্ষ্য হচ্ছে জুলাইয়ের মধ্যে কয়েক বছর আগের এই অবস্থায় ফিরে যাওয়া। দেখা যাক!’

default-image

কখনো ইউক্রেনের যুদ্ধ নিয়ে হতাশা জানিয়েছেন, তো কখনো গত সপ্তাহেই হার্ট অ্যাটাক হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রডনি মার্শকে নিয়ে দুশ্চিন্তা ফুটে উঠেছে। সেই রডনি মার্শ আজ সকালে অন্যলোকে চলে গেছেন, ক্রিকেট সে শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি।

শেন ওয়ার্নও ১২ ঘণ্টা আগে টুইটে নিজের শোকার্ত মনের খবর জানিয়েছিলেন, ‘রড মার্শের মৃত্যুর খবরে খুব খারাপ লাগছে। আমাদের অসাধারণ এই খেলাটার একজন কিংবদন্তি তিনি, হাজারো তরুণ ছেলেমেয়ের অনুপ্রেরণা। ক্রিকেট তাঁর ভাবনাজুড়ে সব সময়ই ছিল। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়েরা তাঁর কাছ থেকে কত কিছু শিখেছে! রস (রড মার্শের স্ত্রী) ও পরিবারের জন্য ভালোবাসা জানাই।’

১২ ঘণ্টা পর সেই ওয়ার্ন নিজেই অন্যলোকের যাত্রী! ক্রিকেটের কিংবদন্তিদের সংক্ষিপ্ততম তালিকায় তো তাঁর নামও থাকবে, হাজারো তরুণের অনুপ্রেরণা তো তিনিও। লেগ স্পিনকে শিল্পের পর্যায়ে পাকিস্তানের আবদুল কাদির নিয়ে গেছেন ঠিকই, কিন্তু এই শিল্পকেই তরুণদের হৃদয়ে গেঁথে দেওয়ার কৃতিত্ব তো সোনালি চুলো অস্ট্রেলিয়ানেরই!

সেই শেন ওয়ার্নই আর নেই! ১২ ঘণ্টা আগে যাঁর জন্য শোক ঝরেছিল, সেই মার্শের যাত্রাসঙ্গী হওয়ার বুঝি তাড়া ছিল তাঁর!

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন