দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়ছেন কোহলি।
দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়ছেন কোহলি।ছবি: এএফপি

দলের জয়ের জন্য দরকার ৫ রান, বিরাট কোহলিরও দরকার ৫। তাতে স্পর্শ করবেন এক মাইলফলক। হাতে ১৪ বল। কোহলির এত সমীকরণ নিয়ে ভাবতে বয়ে গেছে। ক্রিস জর্ডানের বলটি এতটাই হেঁয়ালিভাবে খেললেন, যেন কিছুই আসে–যায় না এ শটে। উড়ে সীমানা ছাড়াল বল। এই এক শটেই ভারতের জয় নিশ্চিত হলো।

১৬৪ তাড়া করতে নেমে ৭ উইকেটের জয় পেয়েছে ভারত। ৫ ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতা টানা ম্যাচে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তিন হাজার রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন কোহলি।

সবাই যেন ওত পেতে ছিলেন। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে দল নির্বাচন, অধিনায়কত্ব—সবকিছু মিলিয়ে বিরাট কোহলিই যেন ভারতকে ডুবিয়েছিলেন। সাবেক ক্রিকেটারদের মধ্যে সবাই মেতে উঠেছিলেন কোহলির সমালোচনায়। জবাব দিতে কোহলি খুব বেশি সময় নেননি। দ্বিতীয় ম্যাচেই দুর্দান্ত এক ইনিংসে দল জিতিয়েই আজ মাঠ ছেড়েছেন কোহলি।

বিজ্ঞাপন
default-image

প্রথমে ফিল্ডিংয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে ইংল্যান্ডের রানটাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে যেতে দেননি কোহলি। এরপর যখন রান তাড়া করার পরীক্ষা এল, তখন এতটাই অনায়াস সৌন্দর্য নিয়ে ব্যাট করলেন যে কোনো সুযোগই পায়নি সফরকারীরা।

প্রথম ওভারেই জশ বাটলার ক্যারিয়ারের প্রথম গোল্ডেন ডাক নিয়ে ফিরেছিলেন। তবু ভারতকে ম্যাচে জেঁকে বসতে দিচ্ছিল না ইংল্যান্ডের টপ অর্ডার। বরং জেসন রয়, ডেভিড মালান ও জনি বেয়ারস্টোরা মিলে ১৩তম ওভারেই ১০০ এনে দিয়েছিলেন ইংল্যান্ডকে। সফরকারীদের স্কোর আজ ১৮০ ছাড়াবে বলেই ধরে নেওয়া হয়েছিল।

ভারতের বোলাররা এরপরই দলকে ম্যাচে ফিরিয়ে এনেছেন। ফিল্ডিংয়ে আগ্রাসী শরীরী ভাষা নিয়ে তাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন কোহলিই। আর অধিনায়কের সমর্থনে ম্যাচের রাশ টেনে ধরেছেন ভুবনেশ্বর কুমার ও শার্দুল ঠাকুর। এউইন মরগান, বেন স্টোকস-সমৃদ্ধ ব্যাটিং লাইনআপও তাই শেষ ৯ ওভারে মাত্র ৭৩ রান তুলতে পেরেছে।

default-image

ভারতের শুরুটাও হয়েছিল ইংল্যান্ডের মতো। সাম কারেনের প্রথম ওভার থেকে কোনো রান তো আসেইনি, উল্টো কে এল রাউল ওভারের শেষ বলে ফিরেছেন। কিন্তু আজই অভিষিক্ত ইশান কিষান ও কোহলি এটাকে চাপ বলে মানতেই রাজি হননি। গত আইপিএলে মুম্বাইয়ের হয়ে দারুণ ফর্মে থাকা কিষান প্রথম ফিফটিটা অভিষেকেই তুলে নিয়েছেন। কোহলির সঙ্গে জুটিতে কোনো অভিষিক্ত ব্যাটসম্যান দাপট দেখাচ্ছেন, এমন কিছু দেখার দুর্লভ মুহূর্তও তাই উপভোগ করলেন সবাই।

৯ ওভারে ৯৪ রানের জুটিতে কিষানের রান ৫৬। ৩২ বল, ৫ চার ও ৪ ছক্কার দারুণ ইনিংস শেষ হতেই নেমেছিলেন কিষানের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সাবেক সঙ্গী ঋষভ পন্ত। এবারও কোহলি দর্শক। ৩৬ বলের জুটিতে ২৬ রানই পন্ত এনে দিলেন। ১৪তম ওভারে পন্ত যখন ফিরছেন, ভারতের তখন মাত্র ৩৫ রান দরকার। সহজ এই ম্যাচটাকে আরও সহজ করে দিয়েছেন কোহলি। শ্রেয়াস আয়ারকে এক পাশে রেখে ১৩ বল আগেই ম্যাচ শেষ করে এসেছেন। ৪৯ বলের ইনিংসে ছক্কা ৩টি কোহলির, চার মেরেছেন ৫টি।

এ নিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ২৯ বার ম্যাচে ব্যবধান গড়ে দেওয়া ইনিংস খেললেন কোহলি। তাতে ১০৮.৩০ গড়ে ১৪০৮ রান তাঁর। এমন একজনকে নিয়ে সমালোচনা করলে তার জবাব কীভাবে দিতে হয়, সেটা আবারও দেখিয়ে দিলেন কোহলি।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন