default-image

তিনি দলে নেই, তবে দলের সঙ্গেই আছেন। যে দলের অপরিহার্য অংশ হয়ে ছিলেন এত দিন, সেই সম্পর্ক তো এখনই শেষ হওয়ার নয়! জাতীয় দল আর ঘরোয়া ক্রিকেট মিলিয়ে বিশ্বকাপ দলের সবাইকে দেখেছেন খুব কাছ থেকে। বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দলের ১৫ ক্রিকেটারকে নিয়ে আবদুর রাজ্জাকের ধারাবাহিক লেখা
বিশ্বকাপ দলে সেই অর্থে খানিকটা চমক ছিল সম্ভবত সৌম্যর নামটিই। আমি অবশ্য চমকাইনি। কিছুদিন আগে হলেও অবাক হতাম। কিন্তু একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডার নিয়ে যেভাবে আলোচনা চলছিল, যেভাবে সৌম্যর নাম উঠে আসছিল, প্রিমিয়ার লিগে যেভাবে খেলল, তাতে ধরেই নিয়েছিলাম দলে থাকছে ও। একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডার আসলে দরকারও ছিল অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে।
সৌম্যকে অলরাউন্ডার বলা যায় কি না, সেটা নিয়ে অবশ্য অনেকের সংশয় থাকতে পারে। আমার কিন্তু ওর বোলিং সামর্থ্য নিয়ে কোনো সংশয় নেই। খুলনা দলে একসঙ্গেই খেলি, খুব কাছ থেকেই দেখেছি ওকে। ঘরোয়া ক্রিকেটে বোলিংয়ে দারুণ কিছু করতে পারেনি আসলে উইকেটের কারণে। আমাদের উইকেটে মিডিয়াম পেসারদের সফল হওয়া কঠিন। সব দলই ৪-৫ জন স্পিনার নিয়ে খেলে। সৌম্য বোলিংয়ের সুযোগই তো সেভাবে পায়নি। কিন্তু যখনই পেয়েছে, নিজের সীমাবদ্ধতাটুকু জেনে সেভাবেই বোলিং করেছে। আমার মনে আছে, জাতীয় লিগের এক ম্যাচে একবার ওকে নতুন বল দিলাম, ৫ উইকেটে নিয়ে জিতিয়ে দিল দলকে (২০১২ সালে, রংপুরের বিপক্ষে ৫/৩৪)। উইকেটে একটু সহায়তা পেলেই সৌম্য বেশ ভালো পেসার হয়ে ওঠে। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে তাই ওকে কাজে লাগতে পারে। আর সৌম্যকেও বলব, বোলিংয়ে যেন আরেকটু বেশি মন দেয়। আরেকটু বেশি খাটে। যাতে অলরাউন্ডার পরিচয় নিয়ে আর সংশয় না জাগে।

default-image

বোলিং নিয়ে এত কথা বললাম, কারণ সৌম্যকে নেওয়া হয়েছে অলরাউন্ডার বিবেচনায়। শুধু ব্যাটিং ভাবলে হয়তো এখনই নেওয়া হতো না। তবে দুর্ভাগ্যক্রমে যদি তামিম শুরু থেকে ফিট হতে না পারে, তাহলে তো ওপেনিংই করতে হবে সৌম্যকে। সে জন্য জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতও থাকতে হবে ওকে। এমনিতে টপ অর্ডারেই ব্যাটিং করে ও। তার পরও বিশ্বকাপের মতো জায়গায় আচমকা ওপেন করতে হলে নার্ভাস হয়ে পড়তে পারে। টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে নিশ্চয়ই ওকে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। ব্রিসবেনের প্রস্তুতি ম্যাচ দুটিতে তো ওপেন করলই। অবশ্যই চাইব, তামিম চোট কাটিয়ে ফিরুক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যদি দু-একটি ম্যাচ খেলতে না-ই পারে, সৌম্য আশা করি সুযোগটা লুফে নেবে। সৌম্য থাকলে বোলিংয়েও বিকল্প একটি বেশি থাকবে। সৌম্যকে নেওয়ায় আরেকটা বড় সুবিধা হলো, প্রয়োজনে মিডল অর্ডারে বা নিচেও ব্যাটিং করতে পারবে।
এমনিতে বেশির ভাগ বাঁহাতির মতো ওর ব্যাটিং দেখতে ভালো। অফ সাইডে খুব ভালো খেলে। কভার ড্রাইভ, অফ ড্রাইভ দারুণ। স্লগ সুইপ খুব ভালো খেলে। তবে স্পিনে একটু নড়বড়ে, সিঙ্গেলস-ডাবলস বের করতে আরও উন্নতি করতে হবে। পুল শটও ভালোই খেলে আমাদের মানদণ্ডে। তবে আমাদের এখানে খেলা আর অস্ট্রেলিয়ান উইকেটে জনসন-স্টার্ক-অ্যান্ডারসনদের পুল খেলা এক কথা নয়। কাজটি কঠিন হবে, শুধু সৌম্যর জন্য নয়, বাকি সবার জন্যও। এ জন্য মানসিকভাবে শক্ত থাকতে হবে। সাহস আর আত্মবিশ্বাস থাকলে অনেকে অনেক সময় নিজেকেও ছাড়িয়ে যায়।
ক্যারিয়ারে শুরুতে বা আগে থেকেই কোনো ক্রিকেটারকে নিয়ে মন্তব্য করা কঠিন, উচিতও নয়। তবু বলছি, আমার ধারণা, সৌম্য হবে নাসিরের মতো। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেই নিজেকে মেলে ধরবে নতুন করে। তবে এ মুহূর্তে অত দূর ভাবার দরকার নেই। উপভোগ করুক। অনেক কিছু শিখে আসুক। আর সুযোগ পেলে নিজেকে উজাড় করে দিক। শিক্ষাসফরে কিছু প্রাপ্তি যোগ হলে, মন্দ কী!

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন