default-image

এই তো কিছু দিন আগেও ইউনিস খানের প্রশংসায় সবাই ছিলেন পঞ্চমুখ। আজ মাত্র কয়েকটি মাসের ব্যবধানে সেই ইউনিসই পরিণত হয়েছেন জাতীয় ‘খলনায়কে’। বিশ্বকাপে পাকিস্তানের যাচ্ছেতাই পারফরম্যান্সের সব দোষ তাঁর ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে দেশটির সাবেক ক্রিকেটাররা অবিলম্বে ‘বিদায়’ বলতে বলেছেন এই অভিজ্ঞ তারকাকে।
বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম দুটো ম্যাচেই ইউনিস খানের পারফরম্যান্স ছিল তথৈবচ। পাকিস্তানের বিপক্ষে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলে ব্যর্থ হয়েছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ব্যাটিং অর্ডারের নিচে নেমেও ব্যর্থতার খোলস ছাড়াতে পারেননি। রমিজ রাজা, শোয়েব আকতারের মতো ক্রিকেটাররা মনে করেন, বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলোতে ইউনিসেরই উচিত প্রথম একাদশ থেকে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে নিজেকে সরিয়ে রাখা।
শোয়েব আকতার তো রীতিমতো অনুরোধের সুরেই ইউনিসকে ক্রিকেট ছেড়ে দিতে বলেছেন, ‘ইউনিস খানের পাকিস্তান ক্রিকেটে অনেক অবদান আছে। কিন্তু সবকিছুরই তো শেষ আছে। আমি তাঁকে অনুরোধ করছি, আরও অসম্মান হওয়ার আগে সে যেন ক্রিকেটই ছেড়ে দেয়।’
রমিজ রাজা অবশ্য এতটা সরাসরি কিছু বলেননি। বিশ্বকাপে ধারাভাষ্য দিতে আসা পাকিস্তানের সাবেক এই অধিনায়ক মনে করেন ইউনিসেরই উচিত বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলো থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখা, ‘টিম ম্যানেজমেন্টকে সে এখনই বলে দিতে পারে, যেহেতু ফর্মটা ভালো যাচ্ছে না, তাই আমি বাকি ম্যাচগুলোতে আর খেলব না।’
রশিদ লতিফ অবশ্য এই মুহূর্তে ইউনিস খানের বিরুদ্ধে সবার এককাট্টা হওয়ার কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না। তবে তিনি মনে করেন, ইউনিসের উচিত ছিল অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে ব্যাটিং অর্ডারে নিজেকে একটু নিচের দিকে নামিয়ে নিয়ে আসা। বিশ্বকাপের আগে নাকি তাঁকে এমন উপদেশ তিনি দিয়েছিলেন, ‘ওপরে ব্যাট করে ইউনিস খুব ভুল করেছে। আমি ওকে বলেছিলাম, অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে একটু নিচের দিকে ব্যাট করতে। সে সবচেয়ে ভালো করত পাঁচ নম্বরে ব্যাট করলে। তবে দুটো ম্যাচে ব্যর্থ হয়েছে বলেই তাঁর প্রতি খড়্গহস্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সে পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান। খেলোয়াড়দের ফর্ম খারাপ যেতেই পারে। কিন্তু তাই বলে ইউনিসের মতো ক্রিকেটারদের অপমান করার কোনো কারণ থাকতে পারে না।’ সূত্র: পিটিআই।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন