বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

রোহিত শর্মা (২) আবারও ব্যর্থ হয়েছেন। ঝড়ের আশা দেখিয়েও থেমে গেছেন ঈশান কিষান (২৬)। তবু ম্যাচ নিজেদের পকেটে নিয়ে ফেলেছিল মুম্বাই। কিন্তু এবারের মুম্বাই ইন্ডিয়ানস যে সহজ কাজটা সহজে করতে পারে না। ৮১ রানের তৃতীয় উইকেট জুটির পরও ম্যাচটা জমিয়ে তুলল দলটির ব্যাটসম্যানরা।

৩১ বলে মাত্র ৩৭ রান দরকার ছিল মুম্বাইয়ের। হাতে ৮ উইকেট। মাত্রই পঞ্চাশ পেরোনো সূর্যকুমার যাদব উইকেটে। তাঁর সঙ্গী ৩০ বলে ৩৫ করা তিলক বর্মা। যুজবেন্দ্র চাহালকে তুলে মারলেন যাদব। লং অন থেকে ছুটে সীমানার এপাশে বলটাকে তালুবন্দী করলেন রায়ান পরাগ। ৩৯ বলে ৫১ রান করা যাদব ফিরলেও চিন্তার কিছু ছিল না। ওভারপ্রতি ৮ রানও দরকার হচ্ছে না মুম্বাইয়ের। পরের ওভারের দ্বিতীয় বলেই প্রসিধ কৃষ্ণার বলে আউট হয়ে ম্যাচ একটু জমিয়ে দিলেন বর্মা।

উইকেটে কাইরন পোলার্ড ও টিম ডেভিড, দুজনই নতুন ব্যাটসম্যান। চেপে ধরার সুযোগ ছিল রাজস্থানের। জুটির প্রথম চার বলে ওয়াইড ছাড়া কোনো রান আসেনি। কিন্তু চাহালের পরের ওভারেই ডেভিডের বিশাল ছক্কা আর ১০ রান সে চাপ আবার কমিয়ে দিয়েছে।

default-image

পরের ওভারেই তাঁকে ছয় ম্যাচ বসিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত প্রশ্নবিদ্ধ করে টানা দুই চার ডেভিডের। প্রথম তিন বলে ১০ রান দিয়ে বসলেন কুলদীপ সেন। ১৫ বলে দরকার মাত্র ১৫ রান। ওভার শেষ হতে হতে সেটা ১২ বলে ১২। শেষ ওভারে সে লক্ষ্য দাঁড়িয়েছিল ৪ রানে। প্রথম বলেই আউট পোলার্ড (১০)। প্রথম বলেই বিশাল ছক্কা মেরে ডেনিয়েল স্যামস নাটক শেষ করেছেন। ৯ বলে ২০ রানে অপরাজিত ছিলেন ডেভিড।

জস বাটলার অবশ্য ম্যাচের গল্প অন্য কিছু লেখার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন। টুর্নামেন্টে আগেই তিন শতক পাওয়া রাজস্থান ওপেনার আজও সে পথে এগোবেন বলে মনে হচ্ছিল। আজ অবশ্য শুরুটা করেছিলেন ওয়ানডে ঢংয়ে। ১৫ ওভার শেষে বাটলারের নামের পাশে মাত্র ৪৩ রান। পাঁচটি চারে এই রানগুলো এসেছে ৪৬ বলে! ফলে তাঁর দলের রানও মাত্র ১০২। টি-টোয়েন্টির আদর্শ স্কোর বলা যাবে না কোনোভাবেই। এরপর এল সে পাগলাটে ওভার।

default-image

ঋত্বিক শকিন তাঁর অফ স্পিন নিয়ে হাজির হলেন। প্রথম বলটা উড়ল লং অন দিয়ে। পরের বলটা উড়ল লং অফ দিয়ে। ৪৮ বলে পঞ্চাশ পেরোলেন বাটলার। ডিপ মিড উইকেট দিয়ে হলো ছক্কার হ্যাটট্রিক। চতুর্থ বলটা ছিল ফুলটস। আরও একবার লং অফ সীমানার দেখা মিলল। চার বলে চার ছকায় মুহূর্তেই ৬৭-তে বাটলার। শতকের আলোচনা শুরু হয়ে গেল। পরের বলটা রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে করলেন শকিন। অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের বল বলে ছেড়ে দিলেন বাটলার, ভেবেছিলেন ওয়াইড পাবেন। আম্পায়ার দিলেন না। পরের বলে প্রায় একই বলে মারতে গিয়ে লং অফে ধরা পড়লেন।

৫২ রানে ৬৭ রান করে ফিরলেন বাটলার। দল ১৬ ওভারে ১২৬। রাজস্থানের তখনো বড় স্কোরের আশা ছিল। উইকেটে যে আছেন শিমরন হেটমায়ার। কিন্তু রাজস্থানের ১৫৮ রান তোলার সব কৃতিত্ব রবিচন্দ্রন অশ্বিন। মাঝে কিছুদিন টপ অর্ডারে পিঞ্চ হিটারের ভূমিকায় ব্যর্থ অশ্বিন সাতে নেমে ৯ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ২১ রান এনে দিয়েছেন। আর ১৪ বলে অদ্ভুতরে এক ইনিংসে ৬ রানে অপরাজিত ছিলেন হেটমায়ার। বাটলার-অশ্বিন ছাড়া তিনে নামা অধিনায়ক সঞ্জু স্যামসনই শুধু ৭ বলে ১৬ রানের ইনিংসে ম্যাচটা টি-টোয়েন্টি বলে মনে করিয়েছেন।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন