আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি

অভিষেকে সর্বোচ্চ ইনিংসটা সার্বিয়ার এক প্রকৌশলীর

বিজ্ঞাপন
default-image

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি অভিষেকেই ফিফটি, পাকিস্তানের সবুজ জার্সিতে রঙিন অভিষেকই হলো হায়দার আলীর। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিষেকে ৫০ ছাড়ানো ইনিংস খেলা প্রথম পাকিস্তানি ক্রিকেটার ১৯ বছর বয়সী হায়দার।

পাকিস্তানের প্রথম হলেও আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি অভিষেকে ফিফটি পাওয়াদের তালিকায় হায়দার নাম লেখালেন ৪৫তম ব্যাটসম্যান হিসেবে। এই ৪৫ ব্যাটসম্যানের মধ্যে লেসলি আদ্রিয়ান ডানবার, জেপি কোটজে ও রবীন্দরপাল সিংকে আবার একটু আলাদা বন্ধনীর মধ্যে রাখতে হয়। তিনজনই যে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি অভিষেকে সেঞ্চুরি পেয়েছেন।

এরা কারা, এই প্রশ্ন তুলতেই পারেন! আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি অভিষেকে সবচেয়ে বেশি রান করা ডানবার খেলেন সার্বিয়ার হয়ে। কোটজের দল নামিবিয়া, আর রবীন্দরপালের ঠিকানা কানাডা।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নামিবিয়া কিংবা কানাডা তো ওয়ানডে বিশ্বকাপই খেলেছে, কিন্তু সার্বিয়া? ক্রিকেটের বিশ্বায়নের যুগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা আইসিসি যে কোনো দুটি জাতীয় দলের টি-টোয়েন্টি ম্যাচকেই আন্তর্জাতিক মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়াতেই ডানবারের সুযোগ হয়েছে রেকর্ডে নাম লেখানোর।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি অভিষেকে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন রবীন্দরপাল। ২০১৯ সালে ১৮ আগস্ট বারমুডার হ্যামিল্টনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আমেরিকান অঞ্চলের ফাইনালে কেম্যান আইল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৮ বলে ১০ ছক্কায় ১০১ রান করেন রবীন্দরপাল। তাতে ভেঙে যায় ২০০৫ সালে ইতিহাসের প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে গড়া রিকি পন্টিংয়ের রেকর্ড। অকল্যান্ডে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৯৮ রানে অপরাজিত ছিলেন অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক।

ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানের রেকর্ডটা ভেঙে দুদিনও পুরোপুরি উপভোগ করতে পারেননি রবীন্দরপাল। দুই দিন পর আটলান্টিকের অন্য পাড়ে নামিবিয়ায় রেকর্ডটা নতুন করে গড়েন কোটজে। রাজধানী উইন্ডহোয়েকে প্রতিবেশী বতসোয়ানার বিপক্ষে ৪৩ বলে ১০১ রান করে অপরাজিত ছিলেন কোটজে। রবীন্দরপাল ও কোটজের রান সমান হলেও অপরাজিত থাকায় কোটজের নামটাই উঠে যায় ওপরে।

default-image
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কোটজের রেকর্ডটা টেকে ৫৫ দিন। ২০১৯ সালের ১৪ অক্টোবর গ্রিসের কোর্ফু দ্বীপে হেলেনিক প্রিমিয়ার লিগে বুলগেরিয়ার বিপক্ষে অপরাজিত ১০৪ রান করেন ডানবার। ৬১ বলের ইনিংসে ৫টি চার ও ১০টি ছক্কা মেরেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। ওই ম্যাচ দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক সার্বিয়ারও। রেকর্ড গড়লেও ম্যাচটি হেরেই মাঠ ছাড়তে হয়েছিল ডানবারকে।

পেশায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ডানবার, কাজ করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বেশ কয়েকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে। পরে সার্ব মেয়েকে বিয়ে করে সার্বিয়ার থিতু হওয়া সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার সাহেব পরের ম্যাচেই দেখে ফেলেন মুদ্রার উল্টোপিঠ। দ্বিতীয় ম্যাচে গ্রিসের বিপক্ষে প্রথম বলেই আউট হয়ে গোল্ডেন ডাকেরও দেখা পেয়ে যান। এরপর আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা হয়নি ডানবারের, তাঁর দল সার্বিয়াই যে আর খেলেনি। এরপর তো এসে গেল করোনাকাল।

default-image
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের রেকর্ডটা জুনায়েদ সিদ্দিকের। ২০০৭ সালে কেপটাউনে অভিষেকে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৭১ রান করেন বাংলাদেশের এই ওপেনার।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি অভিষেকে পরিচিত নামগুলোর মধ্যে পন্টিংয়ের সবচেয়ে কাছাকাছি গিয়েছিলেন ডেভিড ওয়ার্নার। পন্টিংয়ের স্বদেশি ২০০৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে টি-টোয়েন্টি অভিষেকে করেন ৮৯ রান।

বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের রেকর্ডটা জুনায়েদ সিদ্দিকের। ২০০৭ সালে কেপটাউনে অভিষেকে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৭১ রান করেন বাংলাদেশের এই ওপেনার। জুনায়েদের ৪৯ বলে ইনিংসটি সাজানো ছিল ৬টি চার ও ৩টি ছক্কায়।

বাংলাদেশের আর কোনো ব্যাটসম্যান আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি অভিষেকে ফিফটি পাননি। জুনায়েদের ওই ইনিংসের আগে বাংলাদেশের হয়ে অভিষেকে কেনিয়ার বিপক্ষে ৪৩ রান করেছিলেন নাজিমউদ্দিন। আর জুনায়েদের ওই ইনিংসের পরে বাংলাদেশের হয়ে টি-টোয়েন্টি অভিষেকে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ৪০ রান করে অপরাজিত ছিলেন জিয়াউর রহমান।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন