default-image

সিডনিতে জয়ের নেশায় পাগল হয়ে উঠেছিলেন টিম পেইন। অস্ট্রেলিয়া দলে অত্যধিক আগ্রাসী আচরণ কমানোর উদ্দেশ্য নিয়ে অধিনায়কত্ব শুরু করা পেইন সেদিন ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের আউট করতে গিয়ে নিজের প্রতিজ্ঞার কথাই ভুলে গিয়েছিলেন।

স্লেজিং করতে করতে মাত্রা ছাড়িয়ে ফেলা অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক পরে ক্ষমাও চেয়েছেন। একদিকে মুখে খই ফোটাচ্ছিলেন, অন্যদিকে ক্যাচ ফেলে বিপদ আরও বাড়াচ্ছিলেন পেইন। তাঁকে এতটা নিয়ন্ত্রণহারা করেছিল হনুমা বিহারি ও রবিচন্দ্রন অশ্বিনের ব্যাটিং।

সিরিজজুড়ে যে বোলিং লাইনআপ ভারতীয়দের পরীক্ষা নিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার সে বোলিং লাইনআপের বিরুদ্ধে শেষ দিনের অর্ধেকের বেশি সময় পার করে দিয়েছেন এ দুজন।

বিজ্ঞাপন

অবশ্য অশ্বিন নিজেও যে টানা স্লেজিং সহ্য করে গেছেন, এমন নয়। বরং সুযোগ পেলেই পাল্টা শুনিয়ে দিয়েছেন। এ দুজনের ঝগড়া উপভোগ করেছেন অনেকেই।

কারণ, টেস্ট ক্রিকেটের ঝাঁজ এমন সব সময়েই টের পাওয়া যায়। তবে অশ্বিনের স্ত্রী এমন ঝগড়ায় স্বামীকে জড়াতে দেখতে চান না। তাই তো এসব লড়াইয়ে জেতার অন্য এক উপায় জানিয়েছেন ভারতীয় অফ স্পিনারের স্ত্রী প্রীতি নারায়ণ।

অশ্বিন ও বিহারির ওভাবে শিকড় গেঁড়ে বসায় ম্যাচটা ফসকে যায় অস্ট্রেলিয়ার। যেকোনো মূল্যে উইকেট তুলে নেওয়ার চেষ্টায় ভারতীয় অফ স্পিনারের মনঃসংযোগে ব্যাঘাতের অনেক চেষ্টা চালিয়েছিলেন পেইন। ব্রিসবেনের পেস স্বর্গে অস্ট্রেলীয় পেসারদের তাঁর ওপর লেলিয়ে দেওয়া হবে, এমন হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ‘তোমাকে গ্যাবায় নেওয়ার জন্য তর সইছে না, অ্যাশ।’

default-image

ঘরের মাঠের সুবিধা কীভাবে নিতে হয়, সেটা অশ্বিনের চেয়ে ভালো আর কে–ইবা জানেন! তাই পাল্টা জবাব দিয়েছিলেন এভাবে, ‘তোমাকেও ভারতে নেওয়ার তর সইছে না, ওটাই হবে তোমার শেষ সিরিজ।’

ইঙ্গিতটা পরিষ্কার, এমনিতেই দলে পেইনের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রশ্ন আছে। ভারতের মাটিতে দলের ভরাডুবি হলে মধ্য ত্রিশ পেরিয়ে যাওয়া পেইনের ক্যারিয়ারটাই থেমে যাবে।

এমন ইঙ্গিত যে আঁতে লেগেছে পেইনের, সেটা জবাবেই টের পাওয়া গিয়েছিল। ক্ষেপে ওঠা পেইন এরপরই সীমা ছাড়িয়েছেন, ‘হতে পারে, তা তুমি কি এখানে নির্বাচকের চাকরিও নিয়েছ নাকি? অন্তত আমার সতীর্থরা আমাকে পছন্দ করে,…(লেখার অযোগ্য)। তোমার চেয়ে আমার ভারতীয় বন্ধু বেশি। তোমার সতীর্থরাই তোমাকে ফালতু ভাবে। তাই না? ওদের সবাই তোমাকে ফালতু মনে করে।’

এমন বাজে আক্রমণের সমালোচনায় মেতেছেন সবাই। ইংলিশ পেসার স্টুয়ার্ট ব্রডও এ নিয়ে টুইট করেছেন। তবে এ ঝগড়ায় ভবিষ্যতে জেতার উপায় অশ্বিনকে বাতলে দিয়েছেন তাঁর স্ত্রী।

default-image

প্রথমে পাল্টাপাল্টি স্লেজিংয়ের সময় টুইট করেছিলেন প্রীতি, ‘ওয়াও। অশ্বিন, মাথা ঠান্ডা করো।’ পরে কী করতে হবে, সেটা বাতলে দিয়েছিলেন, ‘শুধু মনে করো, রাত তিনটায় আধ্য ক্রমাগত কাঁদছে এবং পাত্তা দিয়ো না।’ আধ্য রবিচন্দ্রন ও প্রীতির চার বছর বয়সী দ্বিতীয় কন্যার নাম!

অস্ট্রেলিয়া সফরে স্ত্রী প্রীতি এবং দুই কন্যা আখিরা ও আধ্য সঙ্গে আছে অশ্বিনের। তাই পেইনের স্লেজিংয়ের হাত থেকে বাঁচার অভ্যাস এত দিনে হয়ে যাওয়ার কথা।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন