default-image

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রথাটা অলিখিত। লোকে অবদান মনে রাখে। কিংবা কোনো বিশেষ দিন, যেটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, এমন কিছু স্মরণ করা হয়।

যেমন ধরুন, ব্রায়ান লারার চার শ রানের ইনিংস যেভাবে স্মরণ করা হয়, সে তুলনায় তাঁর জন্মদিন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আয়োজন হয় কমই। মানজারুল ইসলাম রানা লারার কাতারের কেউ নন। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে তাঁর কোনো পারফরম্যান্স এবং মর্মান্তিক সেই মৃত্যুর দিন—এর বাইরে মানজারুলকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্মরণ করা হয় খুব কমই।

যেমন আজ তাঁর জন্মদিন নিয়ে ফেসবুক–টুইটারে তেমন সাড়াশব্দ নেই। বেঁচে থাকলে আজ বাংলাদেশের সাবেক এই বাঁহাতি লেগ স্পিনারের বয়স হতো ৩৭।

বিজ্ঞাপন

ক্রিকেটপ্রেমীদের তেমন হেলদোল না থাকলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এড়িয়ে যাওয়ার পথ নেই। জাতীয় দলের হয়ে ৬ টেস্ট ও ২৫ ওয়ানডে খেলা ক্রিকেটার।

২০০৭ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মানজারুলের মৃত্যুর পরদিন বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে দারুণ জয় তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশ দল। জয়টা সদ্য প্রয়াত সতীর্থকে উৎসর্গ করেছিলেন হাবিবুল–মাশরাফিরা। এ দুই বিষাদে হরিষ দিন মিলিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটে মানজারুল অমরত্ব পেয়েছেন বেশ আগেই।

default-image

বিসিবি তাই মানজারুলকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রথমে একটি টুইট করেছিল। প্রথমে একটি টুইট করেছিল—কথাটা বাধ্য হয়ে বলতে হচ্ছে, কারণ যে টুইটটি করা হয়েছিল, সেটা একটু পরই মুছে ফেলতে বাধ্য হয়েছে বিসিবি। সেই মর্মান্তিক অকাল মৃত্যুর কারণে রেকর্ড বইয়ে কী ওলট–পালট ঘটেছিল, তা স্মরণ করে জন্মদিনের শুভেচ্ছা—কেমন হয়ে গেল না!

রবিচন্দ্রন অশ্বিনের কাছেও তেমন লেগেছিল। তাঁর ক্ষেত্রেও ‘লেগেছিল’—কথাটা বলতে হচ্ছে কারণ, বিসিবি প্রথম টুইটটি মুছে ফেলার পর ভারতীয় স্পিনার তাঁর প্রতিক্রিয়াও মুছে ফেলেন।

মানজারুলের জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিসিবির প্রথম টুইটটি ছিল, ‘শুভ জন্মদিন মানজারুল ইসলাম রানা, ২২ বছর ৩১৬ দিন বয়সে মারা যাওয়া সর্বকনিষ্ঠ টেস্ট ক্রিকেটার।’ অশ্বিন এই টুইট রি–টুইট করেন। অল্প কথায় অনেক কিছু বোঝাতে পারঙ্গম এই স্পিনার একটি ইমোজি দিয়ে ক্যাপশনের দায়িত্ব সারেন। বিস্ময় ও লজ্জামিশ্রিত ইমোজি।

বিসিবির এই টুইট ক্রিকেটপ্রেমীরাও ভালোভাবে নেননি। উত্তরে একজনের মন্তব্য, ‘অ্যাডমিন, কারও জন্মদিনে এটা কোন ধরনের পরিসংখ্যান? লজ্জা–শরম নেই। দ্রুত এটা মুছে ফেলা হোক।’

বিজ্ঞাপন

বিসিবির এই ভেরিফাইড টুইটার অ্যাকাউন্ট যে বা যাঁরা পরিচালনা করছেন, এক ক্রিকেটপ্রেমী ছাঁটাই দাবি করে মন্তব্য করেন, ‘কেউ কীভাবে এমন ক্যাপশন লিখতে পারে?! খুব লজ্জার। এই টুইটার যে পরিচালনা করছে তাকে ছাঁটাই করুক বিসিবি। এটা মর্যাদাহানিকর।’

আরেকজনের সরস খোঁচা, ‘অ্যাডমিন, মাথায় কিছু আছে’—এই ক্যাপশনে উত্তরও দিয়েছেন এক ছবিতে—‘নো।’বিসিবি প্রায় দুই ঘণ্টা পর টুইটটি সরিয়ে নিয়ে নতুন করে শুভেচ্ছা জানিয়েছে মানজারুলকে, ‘শুভ জন্মদিন মানজারুল ইসলাম রানা। আমাদের পাওয়া অন্যতম সেরা টাইগার।’

অশ্বিনও তাঁর রি–টুইট মুছে ফেলেন। কিন্তু ঘটনার এখানেই শেষ নয়। দ্বিতীয় টুইটে একজনের মন্তব্য, ‘আগের অপকর্ম ঢাকার চেষ্টা করছেন অ্যাডমিন।’

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন