বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গতকাল শুক্রবার আইসল্যান্ড ক্রিকেট নামের সেই টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে টুইট এল, ‘জীবনে প্রেক্ষাপট আর ভাগ্যই আসলে সবকিছু। রবি অশ্বিন যদি শ্রীলঙ্কায় জন্ম নিতেন, তাহলে সম্ভবত মুরালিধরনের সমান উইকেট নিয়েই ক্যারিয়ার শেষ করতে পারতেন। আবার ডন ব্র্যাডম্যান যদি হতেন আইসল্যান্ডের কেউ, তাহলে কোনো আন্তর্জাতিক রান করা হতো না তাঁর। বরং নিম্নমানের একজন জেলেই হয়তো হতেন! জীবন এমনই।’

সূক্ষ্ম শ্লেষাত্মক এমন টুইটে নিজেদের ক্রিকেটের দুর্দশা নিয়ে মজা করতে পারে বলেই আইসল্যান্ডের ক্রিকেট অ্যাকাউন্ট এরই মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ভাবা যায়, যে দেশের ক্রিকেটের আনুষ্ঠানিক মর্যাদাই নেই, সেই দেশেরই অফিশিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্টে এরই মধ্যে প্রায় ২৫ হাজার অনুসারী হয়ে গেছে! তুলনার স্বার্থে বলা যায়, গত অক্টোবরে হয়ে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক, আইসিসির সহযোগী দেশ ওমানের অফিশিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্টের অনুসারীই এখনো ৭ হাজার হয়নি!

আইসল্যান্ড ক্রিকেটের এমন হাস্যরসপূর্ণ টুইট অবশ্য নিয়মিতই আসে। কয়েক দিন আগে ইংল্যান্ড অ্যাশেজের দ্বিতীয় টেস্টে হেরে যাওয়ার পর ইংল্যান্ডকে খোঁচা আর নিজেদের আবহাওয়া ও প্রকৃতি নিয়ে মজা করে টুইট করেছে তারা। এই বরফ পড়ছে তো এই আগ্নেয়গিরির উৎপাত আইসল্যান্ডে। দেশটিকে তো আর এমনি এমনি ‘ল্যান্ড অব ফায়ার অ্যান্ড আইস’ বলা হয় না!

তা নিজেদের খেয়ালি আবহাওয়া আর ইংল্যান্ডের অ্যাশেজ দুর্গতি মিলিয়ে কয়েক দিন আগে ক্রিকেট আইসল্যান্ড টুইট করে, ‘ইংলিশদের বলছি। যদি আরেকটা ৫-০ (রেস্ট ইন পিস) হয়ে যায়, তাহলে আমরা খুশিমনেই ট্রফিটার জন্য আরও ছাই দিয়ে দেব। এটার জন্য আপনাদের কাঠ পুড়িয়ে গ্রিনহাউজ গ্যাসের নির্গমন বাড়াতে হবে না। আমাদের এখানে বিনা মূল্যে এসব জিনিস পড়ে থাকে। আপনারা শুধু পরিবহন বাবদ আমাদের আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী বহন খরচ দিলেই চলবে।’ আইসল্যান্ডের সঙ্গে ছাইয়ের সম্পর্ক কী? এখানে-সেখানে আগ্নেয়গিরি আছে না!

তার কদিন আগে সাবেক ইংলিশ ব্যাটসম্যান ডেভিড গাওয়ারের অর্ধেক রান (এবং উইকেটও) তাদের দাবি করে মজা করে লিখেছে, ‘আইসল্যান্ডে জন্ম নেওয়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারের সংখ্যা—০! তবে ডেভিড গাওয়ারের স্ত্রী বোরানার ন্যাশ আইসল্যান্ডিক। সে কারণে, নারী-পুরুষে সমতার এই যুগে আমাদের মনে হয়েছে, গাওয়ারের টেস্ট পারফরম্যান্সের অর্ধেক আমাদের হওয়া উচিত। তার মানে তাঁর ৮ হাজার ২৩১ রানের মধ্যে ৪ হাজার ১১৬ রান, ৭৪ ক্যাচের ৩৭টি এবং ০.৫ উইকেট (অর্ধেক কপিল দেব)।’ গাওয়ারের টেস্ট ক্যারিয়ারে একটিই উইকেট কিনা! ১৯৮২ সালে কানপুরে তিনি আউট করেছিলেন সেঞ্চুরি করা কপিল দেবকে!

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন