বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

খেলা শুরু হতে হতে গ্যালারি কিছুটা ভরে উঠলেও আবুধাবিতে সেমিফাইনালের আবহটা টের পাওয়া যাচ্ছিল কমই। আসলে স্থান-কাল-পাত্র কখনো কখনো বড় উপলক্ষকেও ‘ছোট’ বানিয়ে দেয়। আসলে এটা ছিল এমনই এক সেমিফাইনাল, যেটার শেষে ভারত বা পাকিস্তানের ফাইনালে ওঠার কোনো সম্ভাবনা ছিল না। এমন ম্যাচ নিয়ে আমিরাতে অন্তত কোনো আগ্রহ আছে বলে মনে হয় না।

default-image

আজ দুবাইয়ের সেমিফাইনাল নিয়ে অবশ্য সে শঙ্কা নেই। এই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিপক্ষ পাকিস্তান, ভারত ছিটকে যাওয়ার পর যাদের বলতে পারেন বিশ্বকাপের একমাত্র আকর্ষণ। সেটি যে শুধু সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রচুর পাকিস্তানি আছে বলেই, তা নয়। ভারতকে ১০ উইকেটে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করা বাবর আজমের দল যেভাবে টুর্নামেন্টের এ পর্যন্ত উঠে এল, সেটিও তাদের নিয়ে আলোচনা-ঔৎসুক্যের বড় কারণ।

অবশ্য সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়াও খুব খারাপ খেলে আসেনি। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের কাছে ৮ উইকেটের হার বাদ দিলে বাকি ম্যাচগুলোতে অস্ট্রেলিয়াও খেলেছে অস্ট্রেলিয়ার মতোই।

অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ তারপরও কাল তাঁর দলকে সেমিফাইনাল নিয়ে সতর্ক করেছেন। প্রতিপক্ষের নাম যে পাকিস্তান! টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে পাওয়ারপ্লের বোলিং-ব্যাটিং। যারাই ওই ৬ ওভারের সুবিধা নিতে পারছে, ম্যাচ হেলে পড়ছে তাদের দিকে।

ফিঞ্চ সেটি মনে করিয়ে দিয়েই বলেছেন, ‘মাঝের এবং শেষের ওভারগুলোতে দলগুলো একই রকম করছে। পাওয়ারপ্লের খেলাটাই এখানে আসল। পাকিস্তানের শাহিন দুর্দান্ত ফর্মে আছে। কোনো সন্দেহ নেই খুব তাতানো একটা লড়াই হতে চলেছে।’

সেমিফাইনালের আগে অস্ট্রেলিয়ার বাড়তি আত্মবিশ্বাসের জায়গা—আইসিসির টুর্নামেন্টে দুই দলের এই পর্যায়ের সাক্ষাৎগুলোতে পাকিস্তানের বিপক্ষে তাদের অতীত ভালো। কিন্তু সেই অতীত অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়কের মন থেকে এবারের পাকিস্তান নিয়ে ভয়টা কমই দূর করতে পারছে। ‘টুর্নামেন্টে ৫ ম্যাচ খেলে এখনো কোনোটিতে হারেনি পাকিস্তান। পুরো টুর্নামেন্টেই তারা ভালো খেলছে। কাজেই ইতিহাস থেকে খুব বেশি কিছু নেওয়ার আছে বলে মনে হয় না,’ বলছিলেন ফিঞ্চ।

অন্য দিকে পাকিস্তানের সুবিধা—সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ দেশের একজনকে তারা পাচ্ছে নিজেদের ড্রেসিংরুমে। তিনি স্বয়ং দলের ব্যাটিং পরামর্শক ম্যাথু হেইডেন। মজার ব্যাপার হলো, অস্ট্রেলিয়া দলের কোচ আবার তাঁরই একসময়ের ওপেনিং সঙ্গী জাস্টিন ল্যাঙ্গার।

হেইডেনের সংবাদ সম্মেলনে কাল স্বাভাবিকভাবেই এসব নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন হলো। জবাবে পাকিস্তানের অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটিং কোচ স্বীকার করেছেন, বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নিজের দেশের মুখোমুখি হতে তাঁর একটু অন্য রকমই লাগছে, ‘অনুভূতিটা অদ্ভুত। আপনারা তো জানেন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে আমি দুই দশকের বেশি সময় খেলেছি...।’

কথাটাকে যদি দেশের প্রতি হেইডেনের আবেগ ধরে নেন, পরের অংশেই খুঁজে পাবেন তাঁর পেশাদারি, ‘...এই অভিজ্ঞতা আমাদের অস্ট্রেলিয়া দলটা সম্পর্কে চমৎকার কিছু ধারণা দেবে। সেটা শুধু এই দলের ক্রিকেটারদের সম্পর্কেই নয়, অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট সংস্কৃতি সম্পর্কেও।’

অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে যদি থাকে ইতিহাস, পাকিস্তানের আছে হেইডেন। সেই সঙ্গে ‘ঘরের মাঠে’ খেলার সুবিধাও। পাকিস্তান থেকে ক্রিকেটের নির্বাসনকালে এই দেশেই তো ঘাঁটি গেড়েছিল তাদের ক্রিকেট!

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন