default-image

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল নিশ্চিত করার বড় এক সুযোগ ছিল অস্ট্রেলিয়ার সামনে। ঘরের মাঠে ভারতের কাছে হেরে পিছিয়ে পড়া অস্ট্রেলিয়ার পরবর্তী সিরিজ ছিল মার্চে। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে সে সিরিজ জিতলেই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল নিশ্চিত হতো তাদের। অস্ট্রেলিয়া সে সুযোগটা নেওয়ার কোনো চেষ্টাই করেনি।

দক্ষিণ আফ্রিকার করোনা পরিস্থিতির কথা তুলে এক মাস আগেই সিরিজ বাতিল করে দিয়েছে তারা। এর আগে ইংল্যান্ড দল সফরের মাঝপথে দক্ষিণ আফ্রিকা ছেড়ে চলে গিয়েছিল। এবার অস্ট্রেলিয়াও এভাবে সিরিজ বাতিল করে দেওয়ায় চিন্তায় পড়ে গেছে দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট বোর্ড।

এ ব্যাপারে আইসিসির হস্তক্ষেপ কামনা করছে ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকা (সিএসএ)। অর্থের দিক থেকে শক্তিশালী নয়, এমন দলগুলোর ঘরের মাঠের সিরিজ বাতিল হলে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি ভেবে দেখার অনুরোধ জানিয়েছে তারা। ক্রিকেট দুনিয়ার তিন পরাশক্তির দুটিই এভাবে সিরিজ স্থগিত হয়ে যাওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছে সিএসএ।

default-image
বিজ্ঞাপন

দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেট বোর্ডের পাঠানো সে চিঠি এসেছে ক্রিকইনফোর কাছে। সেখানে অস্ট্রেলিয়ার এভাবে সিরিজ বাতিল করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। দেশটির এমন আচরণকে অখেলোয়াড়োচিত বলে মনে হয়েছে সিএসএর। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ, এমন এক সিরিজ বাতিল করে দিয়ে অস্ট্রেলিয়া চ্যাম্পিয়নশিপকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে বলে মনে করে তারা। আর এমন সিদ্ধান্ত নিতে থাকলে সেটা আর্থিকভাবে দুর্বল ক্রিকেট খেলিয়ে দেশগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে নিজেদের শঙ্কার কথা জানিয়েছে সিএসএ।

বোর্ডের অন্তর্বর্তীকালীন চেয়ারম্যান তাভরস নিকোলাও ক্রিকইনফোকে বলেছেন, অসচ্ছল বোর্ডের ওপর কেমন প্রভাব পড়ছে সেটা বোঝা উচিত। এভাবে এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়াটা অসচ্ছল ক্রিকেট জাতির জন্য ক্ষতিকর। এবং এ ব্যাপারে আলোচনা হওয়া উচিত।

সমস্যা হলো, এ ব্যাপারে আইসিসি পদক্ষেপ নিতে চাইলে আগে দেখাতে হবে যে দুই বোর্ডের মধ্যে মনোমালিন্য হয়েছে এবং সে ক্ষেত্রেই শুধু আলোচনা বা একটি কমিটি গঠন করা সম্ভব। কিন্তু সিএসএ কাগজে-কলমে এখনো ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নামে কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি। তারা আইসিসির কাছে চিঠি পাঠিয়েছে এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন করতে এবং আলোচনার দুয়ার খুলতে। এই মহামারির সময়টায় কীভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচি ঠিক রাখা যায়, সে উপায় খুঁজে বের করার পথ জানতে চাওয়ার চেষ্টা বলা হচ্ছে একে।

দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য মূল দুশ্চিন্তা হলো, এভাবে দুটি বড় দলের সিরিজ বাতিল হয়ে যাওয়ার ফলে ক্রিকেট দুনিয়ায় তাদের নিয়ে ভুল ধারণা জন্মাতে পারে। এর আগে জৈব সুরক্ষাবলয় নিয়ে অভিযোগ তুলে সফরের মাঝপথে ফিরে এসেছে ইংল্যান্ড। ওদিকে শ্রীলঙ্কা ঠিকই সফর করে গেছে দেশটি। শ্রীলঙ্কাকে যে ভেন্যুতে খেলানো হয়েছে, সেখানেই খেলার কথা ছিল অস্ট্রেলিয়ার।

default-image

শুধু তা-ই নয়, অস্ট্রেলিয়ার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করতেও রাজি ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সাধারণত দুই দলকে একই হোটেলে রাখা হলেও অস্ট্রেলিয়া তাদের দলের জন্য আলাদা হোটেল চেয়েছিল। তাদের কূটনৈতিক মর্যাদা দেওয়া নিশ্চিত করা হয়েছিল। এর ফলে দেশটিতে অবতরণের পর এমনকি টার্মিনালেও যেতে হতো না অস্ট্রেলিয়া দলকে। অবতরণের পরই সঙ্গে সঙ্গে বাসে করে নির্দিষ্ট হোটেলে জৈব সুরক্ষাবলয়ে নিয়ে যাওয়া হতো। এ ছাড়া বিশ্বব্যাপী দুই সপ্তাহের কোয়ারেন্টিন চালু থাকলেও অস্ট্রেলিয়া দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে তিন সপ্তাহ কোয়ারেন্টিনে থাকবে বলে জানিয়েছিল। এত বড় খরচও মেনে নিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। তবু সিরিজ বাতিল করে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

দক্ষিণ আফ্রিকার ধারণা, তিন মোড়ল—ভারত, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া নিজেদের মধ্যে খেলতেই ব্যস্ত। আর সে সুবাদে আর্থিক দিক থেকে সবচেয়ে সুবিধা তারাই পাচ্ছে। মাত্রই অস্ট্রেলিয়া সফর করে আসা ভারত এখন দেশের মাটিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলছে। এরপর তারা আবার ইংল্যান্ডে যাবে। ইংল্যান্ড আবার সে সিরিজ শেষে অ্যাশেজ খেলতে যাবে অস্ট্রেলিয়ায়। এভাবে তিন দল একে অপরের সঙ্গে সিরিজ খেলেই সময় কাটাচ্ছে। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট বোর্ড ঘরের মাঠে একটি সিরিজও আয়োজন করতে পারছে না। আইসিসির কাছে পাঠানো চিঠিতে এ ব্যাপারে সিএসএ লিখেছে, ‘এভাবে আমাদের সফর বাতিল করে বিশ্বজুড়ে অসচ্ছল ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলোকে খুব দুঃখজনক এক বার্তা পাঠানো হচ্ছে। বিশ্ব ক্রিকেটের স্থায়িত্ব, উন্নতি ও ভবিষ্যতে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে।’

বিজ্ঞাপন

করোনার প্রভাব যেখানে বিশ্বজুড়ে দিন দিন কমে আসছে, এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার এমন সিদ্ধান্তের কোনো কারণ খুঁজে পায়নি দক্ষিণ আফ্রিকা। এমনকি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে জায়গা অনিশ্চিত হয়ে যাবে জেনেও অস্ট্রেলিয়ার এমন সিদ্ধান্ত আইসিসির জন্য অপমানদায়ক বলে মনে করে সিএসএ। নিজের স্বার্থে আইসিসির একটি টুর্নামেন্টের অংশ বলে গৃহীত সিরিজ বাতিল করে দেওয়াটা এই চ্যাম্পিয়নশিপের গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট করেছে বলেও মনে করছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

বোর্ডের চেয়ারম্যান নিকোলাও বলেছেন, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া তাঁদের কোনো সুযোগ দেয়নি, ‘যদি ডিসেম্বরে এটা বলা হতো তবু মানা যেত। তথাকথিত দক্ষিণ আফ্রিকান স্ট্রেইনেও ৭৫ ভাগ সংক্রমণ কমে যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তারা যদি আমাদের সঙ্গে নিয়ে কথা বলত এবং আমাদের বিশেষজ্ঞরা এ ব্যাপারে তাদের নিশ্চিত করত। আমরা জৈব নিরাপত্তার ব্যাপারেও নিশ্চিত করতাম। এ সিদ্ধান্ত দুই পক্ষ মিলেই নেওয়া উচিত ছিল এবং আর কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, সেটা আমরা ভেবে দেখতাম।’

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন