বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অস্ট্রেলিয়াকে হিসাবের বাইরে রাখা পণ্ডিতদের দোষ দেওয়া যায় না। ২০২১–এর শুরু থেকে টি-টোয়েন্টি সংস্করণে অস্ট্রেলিয়ার ফর্মটা ছিল যাচ্ছেতাই। ফেব্রুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ হারে অ্যারন ফিঞ্চের দল। এরপর সময় যত সামনে এগিয়েছে, আরও বাজে খেলেছে অস্ট্রেলিয়া।

জুলাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪-১–এ ধরাশায়ী হয় দলটি। নিউজিল্যান্ড সিরিজে তা–ও রান পেয়েছিলেন ফিঞ্চ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেটাও করতে পারেননি, ব্যাট হাতে ব্যর্থ, দলও ব্যর্থ।

বাংলাদেশে খেলতে এসে অস্ট্রেলিয়ার নাকাল (৪-১ ব্যবধান হারে) হওয়ার গল্পটা তো সবার জানাই। প্রথম দুই সিরিজে নিষ্প্রভ ফিঞ্চ বাংলাদেশে খেলতেই আসেননি। এর মধ্যে এই তিন সিরিজের একটিতেও ছিলেন না স্টিভ স্মিথ, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, মার্কাস স্টয়নিস এবং নিয়মিত ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার।

default-image

বিশ্বকাপ ও অ্যাশেজের কথা চিন্তা করে তাঁদের বিশ্রাম দেয় অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ড (সিএ)। এদিকে আইপিএলের দ্বিতীয় পর্বে ওয়ার্নার ফিরলেও সুবিধা করতে পারেননি, দুই ম্যাচ মিলিয়ে মাত্র ২ রান। এরপরই তাঁকে একাদশের বাইরে পাঠিয়ে দেয় তাঁর সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।

একে তো অস্ট্রেলিয়া টানা তিন সিরিজ হেরে এসেছে, তার ওপর তাদের প্রধান দুই ব্যাটসম্যান তর্ক সাপেক্ষে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে সময় দিয়ে যাচ্ছেন—এসব কারণে কেউ অস্ট্রেলিয়াকে শিরোপার দাবিদার বলে ভাবেননি।

কিন্তু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যেন আমূল বদলে গেল অস্ট্রেলিয়া! ফর্মে ফেরেন ওয়ার্নার ও ফিঞ্চ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হার ছাড়া সুপার টুয়েলভে সব ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া। এরপর দ্বিতীয় সেমিফাইনালে গতকাল ম্যাথু ওয়েডের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে এক ওভার হাতে রেখেই ফাইনাল নিশ্চিত করেন ফিঞ্চরা।

যে তিন সিরিজ হারের জন্য অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছিল, সেসব হারকে দলের উত্থানে কৃতিত্ব দিলেন অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ।

default-image

সিরিজগুলোতে হারলেও তিনি তাঁর গর্বের জায়গাটি তুলে ধরেন, ‘যে বিষয়ে আমি খুবই গর্বিত, সেটা হলো টি-টোয়েন্টিতে দলের গভীরতা সম্পর্কে আমরা আরেকটু বেশি জানতে পেরেছি। সম্ভবত নিউজিল্যান্ড থেকে ফেরার পর আমরা সেটা বুঝতে পারি। দলে যারা নিয়মিত, ওরা থাকলে হয়তো দলে সুযোগ পেত না এমন অনেকেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের পরীক্ষা করতে পেরেছে। আমরাও বুঝতে পারি যে দীর্ঘ মেয়াদে আমাদের হাতে টি-টোয়েন্টির জন্য পর্যাপ্ত খেলোয়াড় আছে। এরপর আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও বাংলাদেশে যাই, ফলে কিছু খেলোয়াড় আবারও ভালো সুযোগ পায়।’

ভবিষ্যতে এই বাজে সময়টাই অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের জন্য ত্রাতা হয়ে দাঁড়াবে বলে মন্তব্য করেন ফিঞ্চ, ‘আগামী দু–তিন বছরের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটের এই সময়টা আমাদের আরও অনেক প্রতিভা খুঁজে বের করতে এবং দলের গভীরতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে।’

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন