অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো জায়গায় যেখানে বাড়তি বাউন্স থাকে, সেখানে ও এভাবেই খেললে, সে ক্ষেত্রে ওর অবস্থা হবে হেডলাইটের সামনে পড়া খরগোশের মতো
সুনীল গাভাস্কার

কিষানের ব্যাটে রানখরা চলছে, মানসিকভাবেও তিনি অনেকটা ভেঙে পড়ছেন বলে মনে হচ্ছে গাভাস্কারের। বাউন্সে কিষানের দুর্বলতাও চোখে লাগছে ভারতীয় কিংবদন্তির। সব মিলিয়ে তাঁর মনে হচ্ছে, অস্ট্রেলিয়ায় কিষানের অবস্থা হবে হেডলাইটের সামনে পড়া খরগোশের মতো!

কিষানকে নিয়ে এবার বেশ হতাশই হওয়ার কথা মুম্বাইয়ের। নিলামে ১৫ কোটি ২৫ লাখ রুপিতে তাঁকে কিনেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি—এবারের নিলামের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়ই কিষান। প্রথম ম্যাচে অপরাজিত ৮১ রানের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও কিষানের ব্যাটে ৫৪ রানের ইনিংসের পর মনে হচ্ছিল, টাকাটা জলে যায়নি মুম্বাইয়ের। কিন্তু একদিকে মুম্বাই হেরেছে, অন্যদিকে পরের ৬ ম্যাচে কিষানের রানখরাও ভুগিয়েছে দলকে। পরের ৬ ম্যাচে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র ৬৪ রান, সর্বোচ্চ ইনিংস ২৬ রানের।

গতকাল লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে ম্যাচটিই সম্ভবত কিষানের ব্যাটে খরা আরও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে! দলের লক্ষ্য ছিল ১৬৯, রোহিত শর্মার সঙ্গে ইনিংস উদ্বোধনে নেমে কিষান ৮ রান করেছেন ২০ বলে!

default-image

একদিকে রোহিত কিছুটা ছন্দ ফিরে পাওয়ার আভাস দিয়েছেন, ৩১ বলে করেছেন ৩৯ রান; অন্যদিকে কিষান যেন রানই পাচ্ছিলেন না! পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ১৭ বলে মাত্র ৬ রান এসেছে কিষানের ব্যাট থেকে, যে কারণে পাওয়ার প্লে শেষে বহুদিন পর রোহিতের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের পরও মুম্বাইয়ের রান ছিল ৬ ওভারে ৪৩।

শেষ পর্যন্ত রবি বিষ্ণয়ের বলে অষ্টম ওভারে কিষানের দুর্দশার সমাপ্তি। আউটটাও অদ্ভুত। অফ স্টাম্পের বাইরের একটা বলে ব্যাট চালিয়েছিলেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান, বল তাঁর ব্যাটের নিচের কানায় লেগে লক্ষ্ণৌ উইকেটকিপার কুইন্টন ডি ককের বুটে পড়ল, সেখান থেকে উঠে স্লিপে জমা পড়ল জেসন হোল্ডারের হাতে।

ক্রিজে সময়টা যে একেবারেই উপভোগ করতে পারছিলেন না কিষান, সেটির প্রমাণ—ক্যাচ ঠিকমতো হয়েছে কি না, বল মাটিতে পড়েছে কি না, সেটি নিশ্চিত না হতেই সোজা প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন তিনি। আম্পায়ার ডেকে তাঁকে থামান, রিভিউতে আউট নিশ্চিত হওয়ার পর মাঠ ছাড়েন কিষান।

মুম্বাইয়ের ভারতীয় ওপেনারের এ হার মেনে নেওয়ার মানসিকতাই ভালো লাগেনি গাভাস্কারের। মুম্বাইয়ের ৩৬ রানে হারের পর স্টার স্পোর্টসে গাভাস্কারের বিশ্লেষণ, ‘ওর খুব খারাপ সময় যাচ্ছে। (হোল্ডার ক্যাচ ধরতেই) সোজা হেঁটে বেরিয়ে গেল। দুর্দশা থেকে মুক্তি চাইছিল ও। সাধারণত ব্যাটের মাঝের কানায় লাগার পরও প্রথম স্লিপে এভাবে ধরা পড়লে ব্যাটসম্যানরা অপেক্ষা করেন (রিপ্লে দেখা পর্যন্ত)। কিন্তু এখানে ব্যাটসম্যান সোজা প্যাভিলিয়নের পথ ধরেছে, আম্পায়ার এসে তাকে থামাতে হলো। এটা ওর মানসিক অবস্থাটা বোঝায়।’

default-image

বাউন্সে কিষানের দক্ষতার ঘাটতিও চোখে পড়েছে গাভাস্কারের। আর বিশ্বকাপ যখন অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে, সেটি একটা ভাবার মতো বিষয়ই বটে। ‘গত ম্যাচে হেলমেটে বলের আঘাতের পর হয়তো আত্মবিশ্বাস আরও নড়বড়ে হয়ে গেছে ওর। এটা ভালো লক্ষণ নয়। কারণ অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো জায়গায় যেখানে বাড়তি বাউন্স থাকে, সেখানে ও এভাবেই খেললে, সে ক্ষেত্রে ওর অবস্থা হবে হেডলাইটের সামনে পড়া খরগোশের মতো’—মনে হচ্ছে গাভাস্কারের।

কেন এমনটা মনে হচ্ছে, সেটির ব্যাখ্যায় গাভাস্কার বললেন, ‘ওখানে (অস্ট্রেলিয়া) যেকোনো ফাস্ট বোলারই বাউন্স দিতে চাইবে। ও যেখানে বল পেতে পছন্দ করে, সেখানে তো আর কেউ বল ফেলবে না। কোমরের নিচে বল পেলে ও মারবে নিশ্চিত, কিন্তু এর ওপরে হলে? সেটা নিয়ে এ মুহূর্তে ও ভুগছে।’

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন