অস্ট্রেলিয়ায় যে কার‌ণে দেখা যাচ্ছে না বাংলাদেশের খেলা

অস্ট্রেলিয়াতে দেখা যাচ্ছে না বাংলাদেশ–অস্ট্রেলিয়া সিরিজছবি: প্রথম আলো

এমন কিছু সর্বশেষ ঘটেছিল ২৭ বছর আগে। অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল দেশের বাইরে খেলতে গেছে, কিন্তু সেই খেলা অস্ট্রেলিয়ায় বসে কেউ দেখতে পারছে না, এমন ঘটনা ১৯৯৪ সালের পর এবার বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজেই প্রথম ঘটল। দল বাংলাদেশে এসে হারছে। কিন্তু কেন হারছে, কীভাবে হারছে, সেসব জানতে অস্ট্রেলিয়ানদের ভরসা এখন শুধুই ইন্টারনেটে পাওয়া স্কোরকার্ড।

চোটের কারণে বাংলাদেশে আসতে না পারা সীমিত ওভারের ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ হন্যে হয়ে ম্যাচ দেখার লিংক খুঁজেছেন। দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ সফর থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখা অলরাউন্ডার গ্লেন ম্যাক্সওয়েলও চেষ্টা করে পারেননি খেলা দেখতে। বাংলাদেশ সফরে থাকা অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারদের পরিবারও ম্যাচ দুটি দেখতে না পেরে হতাশা প্রকাশ করেছে। দ্বিতীয় ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে এসে অ্যাশটন অ্যাগারও এ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, ‘আমার স্ত্রীর মন খুবই খারাপ। সে দেশে বসে আমার খেলা দেখতে পারছে না।’

১৯৯৪ সালের পর এই প্রথম বিদেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার খেলা দেখা যাচ্ছে না অস্ট্রেলিয়াতে
ছবি: প্রথম আলো

টেলিভিশনে খেলা না দেখালেও এখন ইউটিউব, ভিডিও স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমেও খেলা দেখানো হয়। অস্ট্রেলিয়ার কোনো সম্প্রচার সংস্থাই খেলা দেখানোর স্বত্ব না কেনায় এই সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার জনগণের জন্য সেসব সুযোগও বন্ধ। জানা গেছে, বাংলাদেশ দলের হোম সিরিজের সম্প্রচার স্বত্ব পাওয়া প্রতিষ্ঠান অস্ট্রেলিয়ার ফক্সটেলের কাছে খেলা দেখানোর স্বত্ব বিক্রি করতে চাইলেও তারা তাতে ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। এ নিয়ে এখন অস্ট্রেলিয়ান সংবাদ মাধ্যমও সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠেছে। কেন দেশটির কোনো সম্প্রচার সংস্থা বাংলাদেশ সিরিজের খেলা দেখাচ্ছে না, সেটার কারণও খুঁজে করার চেষ্টা করছে তারা।

অস্ট্রেলীয় দৈনিক সিডনি মর্নিং হেরাল্ড বলেছে, পাঁচ টি-টোয়েন্টির বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের ম্যাচগুলো অস্ট্রেলিয়ায় না দেখানোর অন্যতম কারণ টোকিও অলিম্পিক। এ ছাড়া সিরিজে ডেভিড ওয়ার্নার, স্টিভ স্মিথ, প্যাট কামিন্স, গ্লেন ম্যাক্সওয়েলদের মতো তারকারা না থাকায়ও সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানগুলো সিরিজটি দেখাতে আগ্রহী হয়নি।

তারকা ক্রিকেটারদের না থাকার বিষয়টি মেনে নিলেও টোকিও অলিম্পিকের কারণে খেলা দেখানো হচ্ছে না, এটি মানতে অনেকেরই আপত্তি। সিডনি মর্নিং হেরাল্ড লিখেছে, অলিম্পিকের এ সময়ে আরও অনেক দেশেই ক্রিকেট সিরিজ হচ্ছে এবং সব সিরিজই অস্ট্রেলিয়ার চ্যানেলগুলো দেখাচ্ছে। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠানরত ১০০ বলের ক্রিকেট ম্যাচ ‘দ্য হান্ড্রেডস’ও অস্ট্রেলিয়ায় সম্প্রচার হচ্ছে। অলিম্পিকের কারণে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজ দেখানো হবে না, এটা তাই মেনে নেওয়া যায় না।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে হওয়া অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের খেলা দেখানোর স্বত্ব ফক্সটেলের। বিদেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার খেলা দেখানোর স্বত্বও তাদেরই। ইংল্যান্ড ও ভারতের ঘরের মাঠের ম্যাচগুলোও অস্ট্রেলিয়ায় দেখানোর স্বত্ব ফক্সটেলের। আইসিসির বৈশ্বিক প্রতিযোগিতাগুলোও অস্ট্রেলিয়ায় সম্প্রচার করে তারাই। সিডনি মর্নিং হেরাল্ড জানিয়েছে, আগামী বছর অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের প্রস্তাবিত পাকিস্তান সফরের ম্যাচগুলোর স্বত্বও কেনার সম্ভাবনা আছে ফক্সটেলের। কিন্তু বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজটাকে তারা অনাকর্ষণীয় মনে করছে।

অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য টেলিভিশন চ্যানেলও এ সিরিজ নিয়ে আগ্রহ দেখায়নি। বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে না, এটাই ধরে নিয়েছে তারা। সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানগুলোর এই প্রবণতা অনেক দেশের ক্রিকেট বোর্ডের জন্যই দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, বড় দলগুলোর খেলা ছাড়া অন্য সিরিজে তাদের আগ্রহ নেই।

সিডনি মর্নিং হেরাল্ড লিখেছে, সিরিজের সম্প্রচার স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান ফক্সটেলকে খেলা দেখানোর স্বত্ব কেনার প্রস্তাব দিলে ফক্সটেল একপর্যায়ে জানায়, তারা খেলা দেখাতে পারে, কিন্তু বিনিময়ে কোনো টাকাপয়সা দিতে পারবে না। টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরুর এক দিন আগে ১ আগস্ট আবারও ফক্সটেলকে অস্ট্রেলিয়ায় খেলা দেখানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু ফক্সটেলের অবস্থান তখনো বদলায়নি। এ বিষয়ে সিডনি মর্নিং হেরাল্ডকে কোনো বক্তব্যও নাকি দিতে রাজি হয়নি ফক্সটেল।