চার বছর আগে তিনি ছিলেন মোহালির খলনায়ক। কাল? ধারাভাষ্যে রমিজ রাজা একবার বললেন, ‘একাকী যোদ্ধা।’ কিন্তু ‘একাকী যোদ্ধা’ বললে যতটা বীরত্ব বোঝায়, মিসবাহ-উল-হকের কালকের ইনিংস কি ছিল তেমন কিছু?
২০১১ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ৭৬ বলে ৫৬ করার পর মন্থর ব্যাটিংয়ের জন্য পাকিস্তানে কুশপুতুল পোড়ানো হয়েছিল তাঁর। কাল করেছেন ৮৪ বলে ৭৬। সেদিন স্ট্রাইক রেট ছিল ৭৩.৬৮, কাল ৯০.৪৭। কিন্তু কালকের এই ‘ঝোড়ো’ ইনিংস কি ম্যাচের প্রেক্ষাপটে কোনো প্রভাব ফেলতে পেরেছে? বরং চার বছর আগে তবু যতক্ষণ উইকেটে ছিলেন মিসবাহ, দলের আশা বেঁচে ছিল নিবু নিবু। কাল মিসবাহ আউট হলেন ৪৬তম ওভারে, ম্যাচ শেষ আসলে এর ওভার বিশেক আগেই। ২৫তম ওভারে যখন আউট হলেন উমর আকমল, পাকিস্তানের রান ৫ উইকেটে ১০৩। জিততে তখন রান প্রয়োজন ওভারপ্রতি প্রায় ৮, উইকেটে শেষ স্বীকৃত জুটি। জয়-পরাজয় নিয়ে সংশয় পাকিস্তানের শেষ আশাবাদী ব্যক্তিটিরও হয়তো নেই, ম্যাচ তখন শুধুই নিয়ম রক্ষার।
মিসবাহর একার লড়াই শুধু নয়, গত বিশ্বকাপের ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের সঙ্গে কালকের আরও বেশ কটি অদ্ভুত মিল। এবারের ম্যাচের আগে ওয়াহাব রিয়াজ মজা করে বলেছিলেন, ‘সতীর্থদের বলেছি এবার যেন নিজের সাফল্য উদ্যাপন করতে পারি।’ চার বছর আগের ওই ম্যাচে ৫ উইকেট পেয়েছিলেন রিয়াজ, কিন্তু দল হারায় ব্যক্তিগত সাফল্য মিলিয়ে গিয়েছিল হাওয়ায়। কাল ম্যাচ শেষে একই অনুযোগ থাকতে পারে সোহেল খানের কণ্ঠে।
সোহেলের এই বিশ্বকাপ দলে থাকাটাই ছিল বিস্ময়। কালকের আগে সবশেষ ওয়ানডে খেলেছেন সেই ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে! ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কারস্বরূপ বিশ্বকাপ দলে জায়গা। ৩০ বছর বয়সী পেসার কালই জীবনে প্রথমবার খেলতে নামেন ভারতের বিপক্ষে। বিশ্বকাপের মতো আসরে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে ৫ উইকেট, অনেকের স্বপ্নের সীমানাও এত বড় থাকে না। কিন্তু দিন শেষে সেই সোহেলের মুখই ম্লান। দল পাত্তাই পায়নি ম্যাচে, ওই ৫ উইকেট নিয়ে কে ভাবে!
চার বছর আগের মোহালির সঙ্গে কালকের অ্যাডিলেডের আরেকটি মিল শহীদ আফ্রিদি! সেদিনের মতো কালও উইকেটশূন্য আফ্রিদি। তবে বড় মিল এখানে নয়, ব্যাটিংয়ে। সেবারও ফুল টসে কাভারে ক্যাচ দিয়েছিলেন আফ্রিদি, কালও ফুল টসে ক্যাচ কাভারে! সেদিন বোলার ছিলেন হরভজন সিং, ক্যাচ নিয়েছিলেন বীরেন্দর শেবাগ। কাল বোলার মোহাম্মদ শামি, ক্যাচ নিলেন বিরাট কোহলি।
আরেকটি মিল বিতর্কে। সাঈদ আজমলের বলে সেবার শচীন টেন্ডুলকারকে দেওয়া এলবিডব্লুর সিদ্ধান্ত ঘুরে গিয়েছিল রিভিউয়ে। হক-আইয়ের ভুল বা কারসাজি করা হয়েছিল বলে অনেক বিতর্ক হয়েছিল সেটি নিয়ে পরে। কাল উমর আকমল আউট রিভিউয়ে, আবারও তৃতীয় আম্পায়ারের সংশয়পূর্ণ সিদ্ধান্ত। রবীন্দ্র জাদেজার বলে আকমলের ব্যাটের ছোঁয়া ধরা পড়েনি স্নিকোমিটারে। তবু মাঠের সিদ্ধান্ত ঘুরিয়ে দিলেন তৃতীয় আম্পায়ার স্টিভ ডেভিস। তবে ভারতের জয় কাল এতটাই অনায়াস যে আকমলের আউটকে অজুহাত বানানোর সুযোগ নেই। বিতর্কও হয়তো তাই খুব বেশি হবে না।
আর সবকিছুকে ছাড়িয়ে সবচেয়ে বড় মিল, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে ভারতের আরও একটি জয়। ভারতে যে জয়কে অনেকে বলেন, বিশ্বকাপ জয়ের চেয়েও বড়!

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন