বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

গতকাল ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইক আথারটনের কথার পরই টেস্ট বাতিল হওয়ার পেছনে আইপিএলকে জায়গা করে দেওয়ার প্রসঙ্গ বেশি আলোচনায় আসে। স্কাই স্পোর্টসে আথারটন বলেছিলেন, ‘এখানে সবচেয়ে বড় সমস্যাটা হচ্ছে আইপিএল। খেলোয়াড়েরা ওই টুর্নামেন্টে খেলতে পারবে কি না, সেটা নিয়ে ভাবছে। আর বিসিসিআই (ভারতের ক্রিকেট বোর্ড) যে টুর্নামেন্টটা নিয়ে ভাবছে, সেটা নিয়ে তো কোনো সন্দেহই নেই।’

গত এপ্রিলে ভারতে করোনার তীব্র সংক্রমণের মধ্যে শুরু হলেও এবারের আইপিএল কিছুদিন পরই স্থগিত হয়ে যায়। স্থগিত হয়ে যাওয়া সেই আইপিএলের বাকি অংশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে শুরু হবে ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে।

টুর্নামেন্টে নামার আগে প্রত্যেক খেলোয়াড়কে সংযুক্ত আরব আমিরাতে নামার পর থেকে ছয় দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। আর এদিকে ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্ট স্বাভাবিকভাবে এগোলে এবং পাঁচ দিন পর্যন্ত গড়ালে টেস্টটা শেষ হতো ১৪ সেপ্টেম্বর, অর্থাৎ আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত।

ইংল্যান্ডের আরেক সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভনও আইপিএলকেই কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন।

তবে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) প্রধান নির্বাহী হ্যারিসন টেস্ট বাতিল হওয়ার সঙ্গে আইপিএলের কোনো ভূমিকার কথা সরাসরিই নাকচ করে দিয়েছেন, ‘ব্যাপারটা আমি একেবারে পুরোপুরি পরিষ্কার করে বলি, আমার মনে হয় না এখানে আইপিএলের কোনো ভূমিকা আছে। বদলে যাওয়া আইপিএলের সূচির কারণে এই পরিস্থিতির তৈরি হয়নি। আমি সত্যি সত্যিই একটা সেকেন্ডের জন্যও এমন কিছু ভাবছি না।

আইপিএলের সূচির সঙ্গে ইংল্যান্ড-ভারতের এই সিরিজ নিয়ে ঝামেলা টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে থেকেই ছিল। গত মে মাসেই খবর এসেছিল, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ টেস্টের এই সিরিজ ৪ আগস্ট শুরু হলেও ভারতের ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) তখন প্রস্তাব দিয়েছিল সিরিজটা অন্তত এক সপ্তাহ এগিয়ে আনার। আর পাঁচ টেস্টের মধ্যে সময়ের ব্যাপ্তিটাও কমিয়ে এনে পুরো সেপ্টেম্বর মাস ফাঁকা করে নিতে চেয়েছিল বিসিসিআই।

এখানে সবচেয়ে বড় সমস্যাটা হচ্ছে আইপিএল। খেলোয়াড়েরা ওই টুর্নামেন্টে খেলতে পারবে কি না, সেটা নিয়ে ভাবছে।
ইংল্যান্ড-ভারতের পঞ্চম টেস্ট বাতিল হওয়া নিয়ে ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইক আথারটন

তাতে আইপিএলের আগে খেলোয়াড়ের সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়ে কোয়ারেন্টিন শেষ করে কোনো ঝামেলা ছাড়াই আইপিএলে নামতে পারতেন। কিন্তু বিসিসিআইয়ের প্রস্তাবটা অত দেরিতে হওয়ায়, পাশাপাশি আগস্টে নিজেদের নতুন ‘আবিষ্কার’ টি-টেন ক্রিকেটের টুর্নামেন্ট থাকায় ইংলিশ ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) তখন রাজি হয়নি।

ভারত দল গত জুন থেকেই ইংল্যান্ডে আছে। ১৮ থেকে ২২ জুন বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার পর থেকে ৪ আগস্ট থেকে শুরু এই টেস্ট সিরিজের মাঝের সময়টা বিশ্রামেই কাটিয়েছে বিরাট কোহলির দল।

এর মধ্যে বেশ কয়েকবারই করোনা হানা দিয়েছে ভারত দলে। সর্বশেষ হানা দিয়েছে পঞ্চম টেস্ট শুরুর আগে। প্রধান কোচ রবি শাস্ত্রীসহ দলের কোচিং দলের আরও দুই সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন প্রথমে। এরপর বৃহস্পতিবার খবর আসে, দলের জুনিয়র ফিজিওথেরাপিস্টও করোনায় আক্রান্ত, যিনি কিনা গত কয়েক দিনে খেলোয়াড়দের কাছাকাছিই ছিলেন।

এরপর বৃহস্পতিবার ভারতীয় দল অনুশীলন না করায়, ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনও না করায় খেলা না হওয়ার শঙ্কা ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু বৃহস্পতিবারই দলের খেলোয়াড়দের সবার করোনা পরীক্ষার ফল ‘নেগেটিভ’ এলে আবার ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা জাগে। কিন্তু দলে করোনা ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কায় শেষ পর্যন্ত খেলতে রাজি হয়নি ভারত। ম্যাচটাই শেষ পর্যন্ত হয়ে যায় পরিত্যক্ত।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন