default-image

চোট সমস্যায় জর্জরিত ভারতীয় দল। সিরিজের প্রথম তিনটি টেস্ট শেষে একে একে দল থেকে বেরিয়ে গেছেন সেরা খেলোয়াড়েরা। প্রথমে মোহাম্মদ শামি, লোকেশ রাহুল, এরপর উমেশ যাদব, রবীন্দ্র জাদেজা, সর্বশেষ যশপ্রীত বুমরা। ব্যাপারটা এমন দাঁড়িয়েছে যে ব্রিসবেনে মোটামুটি শক্তিশালী দল নামানোই মুশকিল হয়ে গেছে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের জন্য।

অস্ট্রেলীয় কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার ভারতের এই চোট সমস্যার একটা কারণ খুঁজে পেয়েছেন। তবে তিনি যে কারণটা বলছেন, সেটা ভারতীয় ক্রিকেটভক্তদের অনেকেরই ভালো না-ও লাগতে পারে। এই চোটজর্জর সিরিজের মূলে ল্যাঙ্গারের মতে যে আইপিএল।

বিজ্ঞাপন

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অর্থকরী টি-টোয়েন্টি ঘরোয়া লিগ হচ্ছে আইপিএল। এটি ভারতের ঘরোয়া টুর্নামেন্ট হলেও এতে খেলার জন্য মুখিয়ে থাকেন সারা বিশ্বের ক্রিকেটাররা। লাখ লাখ ডলারে বিকিকিনি হয় খেলোয়াড়দের। তাঁরা যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হন, ঠিক তেমনি বিরাট আর্থিক লাভ হয় গোটা ভারতীয় ক্রিকেটেরই।

default-image

এবার করোনাভাইরাসের কারণে আইপিএল যখন মে মাসে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে গেল, তখন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড চরম অনিশ্চয়তা ও শঙ্কার মধ্যে পড়ে গিয়েছিল। করোনার কারণে আইপিএল না হলে আর্থিক ক্ষতিটা যে বড্ড বেশি হতো ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের।

ব্যাপারটা এমন দাঁড়িয়েছিল যে দরকার হলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বন্ধ থাকবে, কিন্তু আইপিএল হতেই হবে। ভারতীয় বোর্ডপ্রধান সৌরভ গাঙ্গুলী বারবারই আইপিএল আয়োজনের কথা বলেছেন।

গোটা ভারত যখন করোনাভাইরাসের সংক্রমণে জর্জরিত, তখন এটির আয়োজন নিয়ে যাওয়া হয় সংযুক্ত আরব আমিরাতে। সমালোচনা হয়েছে, কিন্তু আর্থিক ক্ষতি ঠেকাতে সে ছাড়া আর উপায় ছিল না ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের। মে মাসের আইপিএল শেষ অবধি পিছিয়ে আয়োজিত হয় সেপ্টেম্বরে।

ল্যাঙ্গারের মতে, এই সেপ্টেম্বরে আইপিএল আয়োজনই সমস্যায় ফেলেছে ক্রিকেটারদের। অনেকেই আইপিএলে হালকা-পাতলা চোট পেয়েছেন, যেটি বড় হয়ে থাবা বসিয়েছে আইপিএলের পরপরই আয়োজিত ভারত-অস্ট্রেলিয়া সিরিজে। আইপিএলের পরপরই আমিরাত থেকে ভারতীয় দলের ক্রিকেটাররা সোজা চলে আসেন অস্ট্রেলিয়াতে। সেখানে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন শেষে নেমে পড়তে হয় সীমিত ওভারের সিরিজে।

default-image

অস্ট্রেলীয় কোচ এমন প্রেক্ষাপটে যা বলছেন, তার অর্থ হলো ‘সবে তো শুরু’, ‘আমাদের এখন দেখতে হবে অস্ট্রেলীয় গ্রীষ্মে আরও কতজন ক্রিকেটারকে চোট আক্রমণ করে। প্রথমে সাদা বলের সিরিজ ও পরে টেস্ট সিরিজে চোট আমাদের ভুগিয়ে যাচ্ছে।’

বিজ্ঞাপন

আইপিএলের সময়সূচিই এবার ঠিক ছিল না বলে মনে হচ্ছে ল্যাঙ্গারের, ‘আমি ভাবতে বাধ্য হচ্ছি, এবারের আইপিএলের সময়সূচিটা কারও জন্যই ঠিক ছিল না, বিশেষ করে এমন একটা বড় সিরিজের ঠিক আগ দিয়ে।’

ভারতীয় দলই কেবল নয়, চোট থেকে রক্ষা পাননি অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটাররাও। ডেভিড ওয়ার্নার ও মার্কাস স্টয়নিসের মতো ক্রিকেটাররাও চোটে পড়েছেন।

আইপিএল নিয়ে অবশ্য ল্যাঙ্গারের কোনো আপত্তি নেই। সেটি তিনি পরিষ্কার করেছেন পরের কথাতেই, ‘আমি আইপিএল ভালোবাসি। আমি আইপিএলকে দেখি সেভাবেই, যেভাবে আমাদের সময় তরুণ ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেটকে দেখা হতো। কাউন্টিতে একসময় কোনো ক্রিকেটার গেলে তাঁর দারুণ উন্নতি হতো। আমি মনে করি, আইপিএলও তেমনই। এটা দিয়ে সাদা বলের ক্রিকেটে তরুণ ক্রিকেটাররা অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করে। কিন্তু এবার এটির সময়সূচিটা ঠিক হয়নি। সেটা যে ঠিক হয়নি, তা বোঝা যাচ্ছে সিরিজে দুই দলের ক্রিকেটারদেরই চোটে পড়া দেখে।’

মন্তব্য করুন