বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

বিশ্বকাপের আগে ভারতকে ফেবারিট বলার পেছনে দুটি কারণ দেখিয়েছিলেন সবাই। আইপিএলের কারণে ভারতের সবাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পেরেছেন। আর ভারত দলে থাকা ও স্কোয়াডের আশপাশের সবাই আইপিএল খেলে সম্ভাব্য সেরা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। কিন্তু বিশ্বকাপের স্কোয়াড নির্বাচনের সময় সে ছাপ দেখা যায়নি।

বিশ্বকাপের দলে পরিচিত সব নামই দেখা গেছে। আইপিএলের দ্বিতীয় পর্ব অর্থাৎ সংযুক্ত আরব আমিরাত পর্বে যাঁরা ভালো করেছেন, তাঁদের মধ্যে খুব কমই বিশ্বকাপ দলে আছেন। গতকাল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একাদশে থাকা ১১ জনের মধ্যে শুধু যশপ্রীত বুমরা, লোকেশ রাহুল ও রবীন্দ্র জাদেজাই সংযুক্ত আরব আমিরাতে হওয়া আইপিএলে উজ্জ্বল ছিলেন। মজার ব্যাপার, গতকাল ভারতের হয়ে যে চারজন যা-একটু ভালো করেছেন, তাঁদের মধ্যে এই তিনজনও আছেন।

আইপিএলের সংযুক্ত আরব আমিরাত পর্বে ভালো করেও অনেকে দলে ডাক পাননি। অথচ বহুদিন ধরেই ফর্ম নেই এমন অনেক ক্রিকেটারই রয়েছেন ভারত দলে।

default-image

ব্যাটিং

ভারতের ব্যাটিংয়ের মূল সমস্যা হলো এই দলের সেরা দুজনই একটু সময় নিয়ে খেলতে পছন্দ করেন। রোহিত শর্মা বহুদিন ধরেই শুরুতে একটু ধরে খেলে পরে আক্রমণে যাওয়ার পন্থায় চলছেন। ওদিকে বিরাট কোহলির ব্যাটিং তো আরও বিস্ময় জাগাচ্ছে। পাওয়ারপ্লেতে ১২০ স্ট্রাইক রেটে রান নিলেও পরে সেটা আরও কমে এক শর কাছাকাছি চলে আসে। তবে স্লগ ওভারে আবার দুই শর কাছাকাছি স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করেন কোহলি।

কিন্তু এমন দুজন খেলোয়াড় প্রথম তিনে থাকলেও অন্য ব্যাটসম্যান থাকা দরকার, যাঁরা নেমেই মারতে পারেন। কিন্তু লোকেশ রাহুল এখন আর সে ধরনের ক্রিকেট খেলেন না। গতকাল এ কাজটা করার দায়িত্ব ইশান কিষানকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কিষানও সেটা পারেননি। আট বলে চার করে আউট হয়েছেন।

default-image

ওদিকে এবারের আইপিএলে টপ অর্ডারে ছক্কা-চার মারার দক্ষতা দেখিয়েছিলেন চেন্নাই সুপার কিংসের রুতুরাজ গায়কোয়াড় ও কলকাতা নাইট রাইডার্সের ভেঙ্কটেশ আইয়ার। শুধু আরব আমিরাত অংশেই ৪৩৯ রান করেছিলেন গায়কোয়াড়। ৬২ গড়ই বলে দিচ্ছে, এবার আমিরাতের উইকেটে কত স্বচ্ছন্দ ছিলেন। ৬ ম্যাচে তাঁর ১৮ ছক্কাও তাঁর ব্যাটিং দক্ষতার কথা বলছে। টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় ছক্কা তাঁর।

ওদিকে কলকাতাকে খাদের কিনার থেকে ফাইনালে তোলায় বড় ভূমিকা রেখেছেন আইয়ার। ১০ ম্যাচে ৪১.১১ গড়ে ৩৭০ রান করেছেন। এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসের শুরুতেই চার-ছক্কা মেরে প্রতিপক্ষকে ভড়কে দেওয়ার দক্ষতাও দেখিয়েছেন। আরব আমিরাতে এবার আইপিএলে ৩৭ চার ও ১৪ ছক্কা মেরেছিলেন আইয়ার। ওদিকে দলে থাকা সূর্যকুমার যাদব আইপিএলের শেষ ইনিংসে ৮২ রানের একটি ইনিংস খেললেও আগের ৬ ম্যাচে করেছেন মাত্র ৬২ রান।

default-image

পেস বোলিং

টানা দুই ম্যাচে ভারতের বোলিংকে একাই টেনেছেন বুমরা। দুই ম্যাচে তাঁর সঙ্গী ছিলেন ভুবনেশ্বর কুমার ও মোহাম্মদ শামি। ৭ বছরে মাত্র ১২টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে বিশ্বকাপ খেলছেন শামি। ১৪ ম্যাচের ক্যারিয়ারে ১২ উইকেট পেয়েছেন শামি। এবার বিশ্বকাপ দলে তাঁর অন্তর্ভুক্তিতে আইপিএলের পারফরম্যান্স ভূমিকা রেখেছে। ১৪ ম্যাচে ১৯ উইকেট পেয়েছেন। এর মধ্যে ১১ উইকেটই আরব আমিরাত অংশে। ভুবনেশ্বর কুমার সে ঢালও পাচ্ছেন না। আমিরাতে আইপিএলে ৬ ম্যাচে মাত্র ৩ উইকেট পেয়েছেন এবারে আইপিএলের পুরো সময়ই পেয়েছেন মাত্র ৬ উইকেট।

অথচ আইপিএলে এবার সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হার্শাল প্যাটেল দলে ডাক পাননি। ১৫ ম্যাচে পেয়েছেন ৩২ উইকেট। আর শুধু আরব আমিরাতেই পেয়েছেন ১৫ উইকেট। আরব আমিরাত অংশে একটি হ্যাটট্রিকও করেছেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর এই পেসার। দিল্লি ক্যাপিটালসের আভেশ খানও দুর্ভাগা। আরব আমিরাত অংশে ১০ উইকেট নেওয়া এই পেসার এবারের আইপিএলে ২৪ উইকেট নিয়েছিলেন। মাঝের ওভারগুলো উইকেট তুলে নেওয়ার দক্ষতা দেখিয়েও বশ্য দলে ঢুকতে পারেননি এই পেসার।

default-image

স্পিনার

বিশ্বকাপের দল ঘোষণার সময় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর যুজবেন্দ্র চাহালের বাদ পড়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়নি। মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের রাহুল চাহার ও কলকাতা নাইট রাইডার্সের বরুণ চক্রবর্তী ফর্মে তাঁর চেয়ে এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু আরব আমিরাত অংশে সব পাল্টে গেছে। ওদিকে ৭ ম্যাচে ৭ উইকেট পেয়েছেন বরুণ। ওদিকে মাত্র ৪ ম্যাচে দলে সুযোগ পেয়েছেন চাহার। সে চার ম্যাচেও ১১৬ রান দিয়ে পেয়েছেন মাত্র ২ উইকেট। আর দিল্লি ক্যাপিটালসের রবিচন্দ্রন অশ্বিনের দলে জায়গা পাওয়া নিয়ে তো প্রশ্ন আগেও ছিল। ২০১৭ সালের পর থেকেই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে খেলেননি। এবারের আইপিএলেও ১৩ ম্যাচে মাত্র ৭ উইকেট। এর মধ্যে আরব আমিরাত অংশে নিয়েছেন ৪ উইকেট।

ওদিকে আরব আমিরাতের উইকেটে চাহাল ছিলেন দুর্দান্ত। শুধু আরব আমিরাতের অংশে ৮ ম্যাচে ১২ উইকেট পেয়েছেন। উইকেটপ্রতি ১২-এরও কম রান দিয়েছেন। ওভারপ্রতি রানও ৬-এর কম। প্রতি ম্যাচেই অন্তত একটা উইকেট পেয়েছেন। তবু ডাক পাননি।

বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগে ভারত স্কোয়াডে পরিবর্তন এনে শার্দুল ঠাকুরকে নিয়ে এলেও আইপিএলে ফর্মে ছিলেন এমন কাউকে ডাকার প্রয়োজনীয়তা দেখেনি। সেমিফাইনাল থেকে প্রায় ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায় থাকা ভারত দলের স্কোয়াড নির্বাচন নিয়ে সমালোচনা এখন সময়ের ব্যাপার।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন