ভারতের করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ হলেও আইপিএল চলছে।
ভারতের করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ হলেও আইপিএল চলছে। ছবি: বিসিসিআই

অ্যাডাম জাম্পার এক মন্তব্য ঘিরেই প্রথম প্রশ্ন উঠেছিল-আইপিএলের জৈব সুরক্ষা বলয় আসলেই সুরক্ষিত কি না?

আইপিএলের সুরক্ষা বলয় নিয়ে নিশ্চিত হতে না পেরে ও ভারতের করোনা পরিস্থিতির কারণে দেশে ফিরতে যেন অসুবিধা না হয় সেটা নিশ্চিত করতে তড়িঘড়ি করে আইপিএল ছেড়েছেন অস্ট্রেলিয়ান লেগ স্পিনার। এরপর জানিয়েছেন, আইপিএলে যে জৈব সুরক্ষাবলয়, সেটি তাঁর কাছে নড়বড়ে মনে হয়েছে। পরে সমালোচনা শুরু হতেই একটু ঘুরিয়ে বলেছেন, দুবাইয়ে হওয়া আইপিএলের তুলনায় এবারের আইপিএলের বলয়টা তাঁর কাছে তেমন সুরক্ষিত মনে হয়নি। তবে বলয়ের মধ্যে করোনা ঢুকে যাবে, এমনটা বলেননি।

জাম্পা এপ্রিলের শেষ নাগাদ যে কথা সরাসরি বলতে পারেননি সেটা গতকাল সত্য প্রমাণিত হয়েছে। আইপিএলের বলয়ের মধ্যেই করোনা ঢুকে পড়েছে। কলকাতা নাইট রাইডার্সের দুই ক্রিকেটার করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। চেন্নাই সুপার কিংসের বোলিং কোচসহ দুই কর্মকর্তা আক্রান্ত হয়েছেন। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ঋদ্ধিমান সাহাও আজ আক্রান্ত হওয়ায় আইপিএল স্থগিতের ঘোষণাও এসে গেছে। অবশ্য আইপিএলের সুরক্ষা বলয়ের মান ও সবাই এ বলয়ের নিয়ম মানছেন কি না—এ নিয়ে প্রশ্ন আগেই উঠে গিয়েছিল।

বিজ্ঞাপন
default-image

জৈব সুরক্ষা বলয় নিশ্চিত করতে সকল ব্যবস্থার নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। প্রতি দুই বা তিন দিনে একবার করোনা পরীক্ষার। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তো প্রতিদিনই। সবগুলো দলকে বলয়ের মধ্যে রাখা হয়। দলের কোনো খেলোয়াড় বা কোচকে বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। দলের সঙ্গে জড়িত সব কর্মী—কাপড় ধোয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও নিয়মিত পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যান। তবু কলকাতার বরুণ চক্রবর্তী ও সন্দীপ ভারিয়ের করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। চেন্নাইয়ের বোলিং কোচ ছাড়াও প্রধান নির্বাহী ও দলের বাসের পরিচ্ছন্নতা কর্মী করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।

প্রাথমিকভাবে বলা হয়েছে কলকাতার লেগ স্পিনার বরুণ কাঁধের স্ক্যান করাতে গিয়েছিলেন হাসপাতালে। সেভাবেই হয়তো করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। সুরক্ষা বলয় থেকে কাউকে বের করা হলে সেটা নির্দিষ্ট একটি পদ্ধতিতে করতে হয়। কলকাতা সেটা করেছে কিনা প্রশ্ন উঠেছে। আর বরুণের করোনা আক্রান্তের খবরে না হয় হাসপাতালে গিয়ে সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনার অজুহাত দেওয়া যায়। কিন্তু চেন্নাইয়ের তিনজনের করোনা আক্রান্ত হওয়ার পক্ষে কোন যুক্তি দেওয়া হবে?

আইপিএল আয়োজনের সঙ্গে জড়িত এক কর্মকর্তা বরুণদের করোনা আক্রান্ত হওয়ায় কলকাতা নাইট রাইডার্সের দোষ দেখছেন, ‘সে যদি স্ক্যান করাতে হাসপাতালে গিয়ে থাকে, তাহলে তাকে কোয়ারেন্টিন করা হলো না কেন? তাকে অবশ্যই আইসোলেশনে রাখা উচিত ছিল। বিসিসিআইয়ের নিয়মে তো সেটাই বলা আছে। তাকে হয়তো “গ্রিন চ্যানেল” (সুরক্ষিতভাবে) ব্যবহার করে হাসপাতালে গিয়েছে, কিন্তু সে তো বলয়ের বাইরে গেছে। অবশ্যই আইসোলেশন শেষে করোনা নেগেটিভ হওয়ার পর তাকে দলের সঙ্গে যুক্ত করা উচিত ছিল। কিন্তু এটা মানা হলো না কেন? স্ক্যান করতে যাওয়ার পর সে একটা ম্যাচও খেলেছে। তার মানে সে শুধু নিজের সতীর্থ ও স্টাফদের সংস্পর্শেই আসেনি, সে প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড় ও আম্পায়ারদের কাছেও গেছে। এটা তো ভয়ের ব্যাপার।’

default-image

ওই কর্মকর্তার দাবি গত বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতে সব দল সুরক্ষা বলয় নিশ্ছিদ্র রাখার ব্যাপারে খুব সচেতন ছিল। কিন্তু ভারতে ঘরের মাঠে আইপিএল খেলতে এসে আর নিয়ম মানার চেষ্টা দেখাচ্ছে অনেকে, ‘ঘরের মাঠে আইপিএল হচ্ছে বলেই তারা মনে করছে যা ইচ্ছা তাই করতে পারবে? আর আইপিএল দলগুলো যেসব হোটেলে থাকছে সেখানে কি অন্য অতিথিও রাখা হচ্ছে? রাখা হলে, তাদের জন্য আলাদা প্রবেশ বা বের হওয়ার রাস্তা রাখা হয়েছে কি? দলগুলোর সেবা দেওয়ার জন্য অনেক লোক আছে, কেউ খাবার সরবরাহ করে, কেউ রুম পরিষ্কার রাখে। কাদের আপনি বিশ্বাস করবেন? হোটেলগুলো হয়তো তাদের কর্মীদের নিয়মিত পরীক্ষা করাচ্ছে, কিন্তু ওদের মাধ্যমে যে করোনা ছড়াবে না, তার নিশ্চয়তা কী?’

আইপিএলের সঙ্গে জড়িত আরেক সূত্র নিউজএইটেনের কাছে সুরক্ষা বলয়ে ছিদ্র থাকার কথা সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি, ‘কেউ কখনো নিশ্চিত বলতে পারবে না ভাইরাসটা কোথায় আছে। কিন্তু একটা জিনিস নিশ্চিত জৈব সুরক্ষা বলয়ের মধ্যে করোনা ভাইরাস ঢুকতে পারে। খেলোয়াড়রা বিজ্ঞাপন বোর্ডে হাত দিতে পারে, মাঠের ক্যামেরাম্যান বাইরের কারও সাহায্য নিতে পারে। দুধ, সবজি ও অন্যান্য দ্রব্য যা হোটেলে আসে, আম্পায়াররা স্টেডিয়ামের টিভি আম্পায়ার রুমে যেতে যে লিফট ব্যবহার করে, মাঠে নিরাপত্তা কর্মীরা সবখানে আছে; আপনি নিশ্চিত হতে পারবেন না এর মধ্যে কথায় ভাইরাস আছে।’

এক সাবেক খেলোয়াড় সংক্রমণ এড়াতে ও জৈব সুরক্ষা বলয় নিশ্চিত করতে মাঠে ও স্টেডিয়ামে ক্রিকেটার ও কোচ ছাড়া আর কাউকে দেখতে রাজি নন। অর্থাৎ গ্যালারিতে মালিকপক্ষের লোক ও খেলোয়াড়দের পরিবারের মানুষদেরও ঢুকতে দেওয়ার বিপক্ষে তিনি, ‘আমরা জানি খেলোয়াড়দের ওয়াশ রুম খুব ভালোভাবে দেখভাল করা হচ্ছে, জীবাণুমুক্ত রাখা হচ্ছে। কিন্তু খেলোয়াড়দের আত্মীয়, মালিকপক্ষ এবং কিছু সমর্থক যে গ্যালারিতে আছে তাঁদের কী অবস্থা? তাঁরা তো সবাই এক ওয়াশ রুম ব্যবহার করে। কীভাবে নিশ্চিত হবেন যে তাঁরা জীবাণু বহন করছেন না। খেলোয়াড়দের পরিবার, বিশেষ করে স্ত্রী ও বান্ধবীরা আলাদাভাবে ভ্রমণ করে কিন্তু হোটেল রুমে তো খেলোয়াড়দের সঙ্গেই থাকে। তাই কেউই নিশ্চিন্তে থাকতে পারবে না। কারণ, আত্মীয়রা কিন্তু সুরক্ষা বলয়ের বাইরে গ্যালারিতে ঝুঁকির মধ্যে থাকে। এবং আইপিএলের শুরুর দিকে গ্যালারিতে কোনো সামাজিক দূরত্ব ছিল না, কেউ মুখে মাস্কও পরত না।’

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন