default-image

এবারের আইপিএল শুরু হওয়ার কথা ছিল মার্চে। কিন্তু দুনিয়াব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব সেটি হতে দেয়নি। তবে করোনা–আক্রমণের মধ্যেই এ ফ্র্যাঞ্চাইজি টি–টোয়েন্টি টুর্নামেন্টটি আয়োজন করতে মরিয়া ছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। এই আয়োজনের সঙ্গে যে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে বাণিজ্যিক লাভালাভ! এই আইপিএলই যে কোষাগার পরিপূর্ণ করে তোলে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেট বোর্ডের। আইপিএল না হলে ৪ হাজার কোটি রুপির লোকসান মেনে নেওয়াটা এত সহজ ছিল না সৌরভ গাঙ্গুলীর নেতৃত্বাধীন বিসিসিআইয়ের।

সে কারণেই করোনা ভারত থেকে চলে না গেলেও আইপিএল ঠিকই হচ্ছে। পার্থক্য একটাই, ভারতে না হয়ে এটি এবার মঞ্চ সাজাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। দুবাই, শারজা, আবুধাবির তিনটি মাঠে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ নভেম্বর বসবে আইপিএলের আসর। তবে এটি হবে অনেক নিয়মের বেড়াজালের মধ্যে। এমনকি খেলার মধ্যেই কোনো ক্রিকেটার করোনায় আক্রান্ত হলে তাঁর বদলি নামানোর ব্যবস্থাও থাকবে। দর্শকবিহীন স্টেডিয়ামে আইপিএলের খেলাগুলো এবার কেবলই টেলিভিশনে দেখার জন্য। দর্শকদের জন্য আইপিএলে এবার অনেকটা টিভি সিরিয়ালের মতো ব্যাপার।

সে যা–ই হোক, বিসিসিআই আরও বড় একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইপিএল নিয়ে। খেলোয়াড়দের ৫৩ দিন আমিরাতে থাকতে হবে বলেই এ সিদ্ধান্ত। খেলোয়াড়েরা নিজেদের পরিবার নিয়ে যেতে পারবেন সেখানে। তবে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ফ্র্যাঞ্চাইজি ম্যানেজমেন্ট।

সম্প্রতি টুরিস্ট ভিসা উন্মুক্ত করেছে আরব আমিরাত। খেলোয়াড়েরা যদি পরিবার নিয়ে যেতে চান, তাহলে পরিবারকে যেতে হবে টুরিস্ট ভিসা নিয়ে। বিসিসিআই সম্প্রতি খেলোয়াড়দের জন্য একটা গাইডলাইনও প্রস্তুত করেছে। সেখানে খেলোয়াড় ও তাদের পরিবারকে বেঁধে দেওয়া হয়েছে কঠিন নিয়মের নিগড়ে।

আইপিএলের সময় প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজির সব ক্রিকেটারকে মাঠ থেকে হোটেল, অনুশীলনের জায়গা, হোটেল আবার মাঠ—এই চক্রেই নিজেদের সীমাবদ্ধ করে রাখতে হবে। বিসিসিআই স্পষ্ট করেই জানিয়ে দিয়েছেন কোনো খেলোয়াড়ই নির্দিষ্ট হোটেলের বাইরে শপিং কিংবা কোনো রেস্তোরাঁয় খেতে যেতে পারবে না। এমনকি পরিবার পরিজন নিয়েও নয়। মোটকথা পরিবার খেলোয়াড়দের সঙ্গে গেলেও তাদের হোটেলে 'লকডাউন' অবস্থাতেই থাকতে হবে।

সম্প্রতি ইংল্যান্ডে ক্রিকেট মাঠে গড়িয়েছে 'জৈব সুরক্ষিত' পরিবেশে। আমিরাতের তিনটি মাঠেও এমন ব্যবস্থাই করতে যাচ্ছে বিসিসিআই। আইপিএলে স্বাস্থ্য বিষয়ক ব্যাপার–স্যাপার তদারক করতে বিশেষ বিদেশি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি হচ্ছে। খেলোয়াড়দের কঠোরভাবে নিয়ম কানুন মেনে চলতে হবে। ইংল্যান্ডের জফরা আর্চার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে স্বাস্থ্যবিধি ভেঙে যে ভুল করেছেন, সেটির সুযোগ নেই আইপিএলে। নিয়ম ভাঙলেই কঠোর শাস্তি পেতে হবে তাঁদের। এ ব্যাপারে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মাঠে খেলা গড়ানোর পর খেলোয়াড়দের ফর্ম একটা চিন্তার কারণ। দীর্ঘদিন ধরে খেলার মধ্যে নেই তাঁরা। ফর্মে মরচে পড়ে যাওয়াটা অসম্ভব কিছু না। বরং সেটিই স্বাভাবিক। সে কারণেই ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো আইপিএল শুরুর আগে এক মাসের অনুশীলন ক্যাম্প করতে চেয়েছিল। বিসিসিআই অবশ্য সে প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে। তবে আইপিএলের ১৫ দিন আগে থেকেই অনুশীলন ক্যাম্প শুরু করতে পারবেন ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0