ব্যাটে-বলে সব দিকেই এগিয়ে ছিল মুম্বাই।
ব্যাটে-বলে সব দিকেই এগিয়ে ছিল মুম্বাই। ছবি: আইপিএল

উৎসবের পর্দা নামতে আর মাত্র তিন দিন বাকি। প্রায় দুই মাস ধরে চলা আইপিএলের আর মাত্র দুই ম্যাচ বাকি। ১০ নভেম্বর মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের বিপক্ষে কে খেলবে—দিল্লি ক্যাপিটালস নাকি সানরাইজার্স হায়দরাবাদ, সেটা জানা যাবে আগামীকাল। শিরোপা যার কাছেই যাক, এবারের আইপিএল সব দিক থেকেই সফল হয়েছে। করোনাকালে বিশ্বের সব বড় তারকাকে একসঙ্গে হাজির করতে পারার চ্যালেঞ্জটা সফলতার সঙ্গেই উতরে গেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার পর অন্তত করোনা সংক্রমণের কোনো খবর পেতে দেয়নি বিসিসিআই।

এ তো গেল মাঠের বাইরের খবর। মাঠেও এবারের আইপিএল ছিল জমজমাট। অধিকাংশ ম্যাচই একদম ইনিংসের শেষ ওভারে গড়িয়েছে। একাধিক সুপার ওভারের দেখা মিলেছে। এমনকি এক ম্যাচে তো একটি সুপার ওভারেও ম্যাচের মীমাংসা শেষ করা যায়নি। প্রথমবারের মতো দুই সুপার ওভারের দেখা মিলেছে। মাঠে কে ভালো খেলেছেন, কে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি, সেটা তো খালি চোখেই দেখা গেছে। তবু আইপিএলে কোন দলের প্রভাব বেশি ছিল, কোন বোলার ম্যাচের গতি বদলে দিয়েছেন কিংবা কোন ব্যাটসম্যান দলের জয়ে বেশি অবদান রেখেছেন, সেটা বোঝার জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে পরিসংখ্যান।

বিজ্ঞাপন
default-image

বিখ্যাত ক্রিকেট পরিসংখ্যানবিদ মোহনদাস মেনন ব্যবচ্ছেদ করেছেন এবারের আইপিএল। দেখিয়েছেন, সাধারণ চোখে যা টের পাওয়া যায়; সেটা যেমন বলে দেয় পরিসংখ্যান, তেমনি ভেতরের কিছু তথ্যও বের করে আনে। মেননের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মুম্বাই ইন্ডিয়ানস এবারের আইপিএলের সবচেয়ে দাপুটে দল। আর বিরাট কোহলির দল ভুগেছে সত্যিকারের পার্থক্য গড়ে দেওয়া খেলোয়াড়ের অভাবে।

এবার আইপিএল এখন পর্যন্ত প্রতি ১৯ বলে একটা ছক্কা দেখেছে। কিন্তু শুধু দলগুলোর দিকে তাকালে পরিষ্কার বোঝা যায় কেন এত পরিষ্কার ব্যবধানে এগিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করে ফাইনালেও উঠে গেছে মুম্বাই। প্রতি ১৩ বলে একটি ছক্কা মেরেছেন রোহিত, পান্ডিয়া, পোলার্ড ও ডি ককরা। ওদিকে দলে এবি ডি ভিলিয়ার্স ও বিরাট কোহলির মতো সময়ের সেরা দুই ব্যাটসম্যান থাকার পরও ছক্কা মারায় চরম ব্যর্থ ছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। একটি ছক্কা মারতে গড়ে ২৬ বলের বেশি দরকার হয়েছে, অর্থাৎ মুম্বাইয়ের দ্বিগুণেরও বেশি। বেঙ্গালুরুর মতোই ছক্কা মারায় খুব আপত্তি ছিল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের। সাত ম্যাচ পার করার পর ভুল বুঝতে পেরে ক্রিস গেইলকে নামিয়ে দিয়েছিল তারা। ফলাফল গ্রুপপর্ব শেষ করেছে প্রতি ১৭ বলে একটা ছক্কা নিয়ে। ছক্কা মারায় মুম্বাই ও পাঞ্জাবের মাঝে আছে রাজস্থান রয়্যালস। প্রতি ১৫ বলে একটি ছক্কা মেরেছেন রাজস্থান রয়্যালসের বেন স্টোকস, বাটলাররা।

default-image

এত এত ছক্কা মেরেও প্লে-অফে জায়গা করতে পারেনি রাজস্থান ও পাঞ্জাব। কারণ, তারা ছক্কা যেমন মেরেছে, প্রতিপক্ষকে ছক্কা উপহার দিয়েছে ভূরি ভূরি। প্রতি ১৫ বলে ছক্কা মারা রাজস্থান ছক্কা খেয়েছে প্রতি ১৩ বলে। আর পাঞ্জাব প্রতি সাড়ে ১৬ বলে একবার উড়ে বল সীমানা ছাড়া হতে দেখেছে। ওদিকে বোলিং আক্রমণ দিয়েই ব্যাটসম্যানদের ঘাটতি ভুলেছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। প্রতি ২৫ বলে এক ছক্কা মারা হায়দরাবাদ ছক্কা খেয়েছে প্রতি ২৩ বলে। বোলিং দিয়েই দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে চলে এসেছে হায়দরাবাদ। বোলিংয়েও সবার সেরা মুম্বাই। প্রতি ২৩ দশমিক ১৪ বলে একটি ছক্কা খেয়েছেন বুমরা-বোল্টরা।

ওদিকে ছক্কা কম মারলেও রান তোলার গতিতে ভালোই এগিয়ে ছিলেন কোহলি, ডি ভিলিয়ার্সরা। রহস্যটা লুকিয়ে আছে তাঁদের দক্ষতায়। যেকোনো পরিস্থিতিতে সিঙ্গেল বা ডাবলস বের করে নিতে পারেন তাঁরা। মাত্র ২৬ শতাংশ বল ডট দিয়েছেন কোহলি। এত কম ডট বল আর কোনো ব্যাটসম্যান খেলেননি এবারের আইপিএলে। ডি ভিলিয়ার্সও মুখোমুখি হওয়া বলের মাত্র ২৮ দশমিক ৮১ শতাংশ বলে রান নিতে পারেননি। আবার কোহলি-ডি ভিলিয়ার্সদের দলেই থাকা অ্যারন ফিঞ্চ খেলেছেন সবচেয়ে বেশি ডট বল। নিজের মুখোমুখি হওয়া প্রায় অর্ধেক বলেই (৪৮.৮২%) রান নিতে পারেননি অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার।

বিজ্ঞাপন
default-image

আইপিএলে সবচেয়ে বেশি রান এবার লোকেশ রাহুলের। কিন্তু তবু তাঁকে আইপিএলের সেরা দলে রাখেননি ব্র্যাড হগ। কারণ হিসেবে বলেছেন, বড্ড বেশি বল নষ্ট করেছেন এই ওপেনার। কথাটা যে ভুল বলেননি, সেটা জানিয়ে দিয়েছেন মোহনদাস। এবারের আইপিএল ১৭৬টি বলে কোনো রান নিতে পারেননি রাহুল। স্ট্রাইক বদল করতে না পারার ব্যর্থতায় তাঁর পরে আছেন শুবমান গিল। রাহুলের চেয়ে অবশ্য ৪২টি বল কম তাঁর। এ দুজনের পর প্রায় গা–ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়িয়ে আছেন কুইন্টন ডি কক (১২৯ বল), ডেভিড ওয়ার্নার (১২৬) ও বেঙ্গালুরুর দেবদূত পাড়িক্কাল (১২৫)।

ডট বল খেলা যদি ব্যাটসম্যানের ব্যর্থতা হয়, তাহলে সবচেয়ে বেশি ডট দিতে পারাটা অবশ্যই বোলারের কৃতিত্ব। আর সে ক্ষেত্রে সবচেয়ে দুর্দান্ত জফরা আর্চার। প্লে-অফে উঠতে ব্যর্থ হওয়া এক দলের হয়েই ১৭৬টি ডট বল দিয়েছেন আর্চার। ম্যাচপ্রতি ১২টির বেশি। কিন্তু একা একা যে দলকে টানা যায় না, সেটার প্রমাণ যশপ্রীত বুমরা ও ট্রেন্ট বোল্ট দিয়েছেন। মুম্বাইয়ের হয়ে যথাক্রমে ১৬৭ ও ১৪৫টি ডট বল দিয়েছেন এ দুই পেসার। এ কারণেই এত দাপুটে চেহারা দলটির এবারের আইপিএলে।

মন্তব্য পড়ুন 0