default-image

তারকা ও উঠতি খেলোয়াড়ের হাট আইপিএল। নামীদামি খেলোয়াড়দের যেমন পাওয়া যায়, নতুন অনেককেও পৃথিবী চেনে এই ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিযোগিতার মাধ্যমে।

অনেকেই নিজের প্রতিভা প্রকাশের মঞ্চ হিসেবে বেছে নেন আইপিএলকে, যাঁরা হয়তো নিজ নিজ জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার স্বাদই পাননি।

আগামী ৯ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টের ১৪তম আসর। এ আসরে কে কে আলো ছড়াতে পারেন, এমন পাঁচজনকে দেখে নিন একনজরে।

বিজ্ঞাপন

কৃষ্ণপ্পা গৌতম (চেন্নাই সুপার কিংস)

মহেন্দ্র সিং ধোনির ফ্র্যাঞ্চাইজি যখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্বাদ না পাওয়া খেলোয়াড়ের পেছনে প্রায় সাড়ে ৯ কোটি রুপি খরচ করে, তখন নড়েচড়ে বসতেই হয়। জাতীয় দলে না খেললেও, যাঁরা আইপিএল নিয়মিত দেখেন, তাঁদের কাছে কৃষ্ণপ্পা গৌতম মোটামুটি পরিচিত মুখ।

মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে আইপিএলের স্বাদ পাওয়া কর্ণাটকের এই স্পিনিং অলরাউন্ডারের পেছনে এর আগে রাজস্থান রয়্যালস ৬ কোটি ২০ লাখ রুপি খরচ করেছিল। প্রথম মৌসুমে ১৪ ম্যাচে ১১ উইকেট ও প্রায় ২০০ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করলেও পরের দুই মৌসুমে বলার মতো কিছুই করতে পারেননি গৌতম। ফলাফল?

default-image

রাজস্থান ছেড়ে দেয় তাঁকে। আর এই সুবিধাই নিয়ে নেয় সর্বপ্রথম আইপিএলের ফাইনালে রাজস্থানের প্রতিপক্ষ চেন্নাই সুপার কিংস। হরভজন সিংকে ছেড়ে দেওয়া এই ফ্র্যাঞ্চাইজি এমনিতেই দেশীয় একজন আঙুলের স্পিনার খুঁজছিল, যে ইনিংসের শেষে এসে ব্যাটও চালাতে পারেন। চেন্নাইয়ের প্রয়োজনের সঙ্গে গৌতমের খেলার ধরন মিলে যাওয়ার কারণেই এই ক্রিকেটারের এত দাম।

৩২ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডারের স্ট্রাইক রেট ১৫৯.২৪। কাগজ-কলমে অন্তত মনে হচ্ছে না, ধোনিরা অপাত্রে টাকা ঢেলেছেন!

শাহরুখ খান (পাঞ্জাব কিংস)

শাহরুখকে কিনেই নিয়েছেন প্রীতি!

কি, হেঁয়ালি মনে হচ্ছে? আগে মনে হলেও আইপিএল যাঁরা অনুসরণ করেন, তাঁদের কাছে এই হেঁয়ালিকে এখন পানসে লাগতে পারে। ঘটনা হলো, এবার আইপিএলের নিলামে শাহরুখ খান নামের ভারতীয় ক্রিকেটারকে দলে টেনেছে বলিউড তারকা প্রীতি জিনতার দল পাঞ্জাব কিংস, যেটি টুইটারে হাস্যরসের জন্ম দিয়েছে, দিচ্ছে। ক্রিকেটার শাহরুখের নাম যে কার নাম মাথায় রেখে রাখা হয়েছে, সেটা আর না বলে দিলেও চলছে।

default-image

ভারতের জার্সিতে কখনো খেলেননি এই শাহরুখ। চেন্নাইয়ে জন্ম নেওয়া ২৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার ডানহাতি লেগ স্পিন একটু-আধটু করেন বটে, তবে তাঁর মূল পরিচয় ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে। তাঁর জন্য অবশ্য খরচ কম করতে হয়নি পাঞ্জাবকে, ৫ কোটি ২৫ লাখ রুপি! অথচ তাঁর ভিত্তিমূল্য ছিল মাত্র ২০ লাখ রুপি। ২০২০-২১ মৌসুমের সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফিতে ২২০ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করে চোখ কপালে তুলে দিয়েছেন অনেকের। সব মিলিয়ে ৩১ ম্যাচ খেলে স্ট্রাইক রেট ধরে রেখেছেন ১৩১–এর ওপর।

বিজ্ঞাপন

দেবদূত পাড়িক্কাল (রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু)

বিরাট কোহলির দলের এই ব্যাটসম্যান গত মৌসুমেই জানান দিয়েছিলেন, খামোখা কোহলিরা তাঁকে মাঠে নামানোর ঝুঁকি নেননি। সেই প্রতিভার ছটা এবারও দেখতে পারে আইপিএল। এবারের বিজয় হাজারে ট্রফিতে রানের বন্যা ছোটানো এই ব্যাটসম্যানের গড় ছিল ১৪৭.৪। সেঞ্চুরি করেন টানা চারটি।

default-image

গতবার আইপিএল বেশ ভালোই খেলেছিলেন, ৪০০ রানের বেশি করেছিলেন। আইপিএল ইতিহাসের দ্বিতীয় জাতীয় দলে না খেলা ব্যাটসম্যান হিসেবে পাড়িক্কাল এক মৌসুমে চার শতাধিক রান করেছেন, পাঁচটি ফিফটি করে জিতেছেন ‘ইমার্জিং প্লেয়ার’ অ্যাওয়ার্ড। এবারও যদি নিজের উন্নতির ধারা বজায় রাখেন, নিশ্চিতভাবেই বছর শেষে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্কোয়াডে জায়গা পেতে পারেন।

রুতুরাজ গায়কোয়াড় (চেন্নাই সুপার কিংস)

গতবার ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্য মৌসুম কাটিয়েছিল মহেন্দ্র সিং ধোনির চেন্নাই সুপার কিংস। হাজারো নেতিবাচকতার মধ্যে একমাত্র ইতিবাচক দিক হিসেবে ফুটে উঠেছিল ওপেনিং ব্যাটসম্যান রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের ব্যাটিং।

মৌসুমের দ্বিতীয়ার্ধে ছয় ম্যাচ খেলে তিনটি ফিফটি করেন। কে জানে, মৌসুমের শুরুতে কোভিডে আক্রান্ত না হলে হয়তো তাঁর কাছ থেকে ধোনিরা আরও ভালো সার্ভিস পেতে পারতেন। এবার বিজয় হাজারে ট্রফিতে হিমাচল প্রদেশের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, ধোনির দলের টপ অর্ডারের দায়িত্ব নিতে তিনি প্রস্তুত।

রাহুল তেওয়াতিয়া (রাজস্থান রয়্যালস)

গতবার আইপিএল যাঁরা নিয়মিত দেখেছেন, রাজস্থান রয়্যালসের ম্যাচগুলোয় এক লেগ স্পিনিং অলরাউন্ডারকে নিয়ে ইংলিশ ধারাভাষ্যকার গ্রায়েম সোয়ানের রোমাঞ্চ লক্ষ করেছেন নিয়মিত। এই লেগ স্পিনিং লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানের নামই রাহুল তেওয়াতিয়া।

default-image

মৌসুমের শুরুর দিকে ঝড়ো ব্যাটিং করে আলো ছড়িয়েছিলেন, কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে এক ওভারে পাঁচ ছক্কা মেরে যুবরাজ সিংয়ের মতো তারকার বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিলেন! ১১ ইনিংসে ২৫৫ রান করেছিলেন ৪২.৫ গড়ে, সব মিলিয়ে স্ট্রাইক রেট ছিল ১৩৯.৩৪। ভালো পারফরম্যান্সের পুরস্কারস্বরূপ ইংল্যান্ড সিরিজে ডাক পেয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে পারেননি যদিও।

বল হাতেও গতবার বেশ কার্যকরী ছিলেন এই লেগ স্পিনার। ১০ উইকেট নিয়ে দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী ছিলেন তিনি।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন