নিউজিল্যান্ডের স্পিনার ইশ সোধি
নিউজিল্যান্ডের স্পিনার ইশ সোধিছবি: এএফপি

কিছুদিন আগেই হলো আইপিএলের নিলাম। অনেকে দল পেয়েছেন, রাতারাতি দেখেছেন নিজের ভাগ্যের বদল। আবার অনেকে ফিরেছেন খালি হাতে। কোনো দলই আগ্রহ দেখায়নি তাঁদের প্রতি। ইশ সোধি তাঁদের একজন।

নিউজিল্যান্ডের এই লেগ স্পিনারের প্রতি এবার আইপিএলে কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজিই আগ্রহ দেখায়নি। এমনকি যে ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে দুই মৌসুম খেলেছিলেন, সেই রাজস্থান রয়্যালসও আগ্রহ দেখায়নি তাঁর প্রতি।

দেশি রাহুল তেওয়াতিয়া, কেসি কারিয়াপ্পা, শ্রেয়াস গোপাল, রিয়ান পরাগ কিংবা মহীপাল লমরোরদের মতো স্পিনারদের ওপরে ভরসা রাখছে তারা। ক্রিস মরিস, মোস্তাফিজুর রহমানদের মতো বিদেশিদের ওপরেই বরং টাকা ঢেলেছে এই ফ্র্যাঞ্চাইজি।

তাই বলে ইশ সোধি নিজের আইপিএল-স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে দেবেন, তা কি হয়? মাঠের ভেতর খেলতে পারছেন না, মাঠের বাইরে ‘খেলতে’ তো আর সমস্যা নেই!

বিজ্ঞাপন

যে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে ২০১৮ আর ২০১৯ মৌসুম খেলেছিলেন, সে ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়েই এবার মাঠের বাইরে ‘লড়বেন’ ইশ সোধি। তাঁর লড়াইটা হবে লিয়াজোঁ অফিসার হিসেবে।

দলের ব্যবস্থাপনা কমিটির হয়ে কাজ করবেন ২৮ বছর বয়সী এই স্পিনার।
তবে মাঠের বাইরের এই লড়াইয়ের প্রতি সোধির আগ্রহ আজকের নয়। গত মৌসুমেও খেলার সুযোগ পাননি আইপিএলে।

গতবারও সুযোগ না পেয়ে রাজস্থান রয়্যালসের স্পিন উপদেষ্টা ও নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নাম লিখিয়েছিলেন। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারির কারণে আইপিএল পেছালে সেই দায়িত্ব পালন করতে পারেননি সোধি।

ঘরোয়া ক্রিকেট আর নিজের অনাগত সন্তানের কারণে সেবার আইপিএল থেকে নিজেকে গুটিয়ে রেখেছিলেন এই লেগ স্পিনার।

সোধি এবার আর বসে নেই। লিয়াজোঁ অফিসারের ভূমিকায় তিনি সরাসরি কাজ করবেন দলের ক্রিকেট পরিচালক কুমার সাঙ্গাকারা ও প্রধান নির্বাহী জেক লুশ ম্যাকক্রামের সঙ্গে। ফলে ক্রিকেটীয়-অক্রিকেটীয় সব ভূমিকাতেই দেখা যাবে সোধিকে।

আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই স্পিনার বলেছেন, ‘রাজস্থান রয়্যালস একটি অত্যন্ত আধুনিক ও উদ্ভাবনী ক্ষমতাসম্পন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি। তাদের ক্রিকেট খেলার ধরনটাও আকর্ষণীয়। আমার আইপিএল পরিবারে আবারও যোগ দিতে পেরে অনেক গর্বিত আমি।’

ব্যবস্থাপনা কমিটির কাজ করার জন্য যে সোধি আগে থেকেই মুখিয়ে ছিলেন, সেটাই জানা গেল তাঁর কথায়, ‘গত বছর আমি রাজস্থানের কাছে ব্যবস্থাপনা পর্ষদে কাজ করার জন্য আগ্রহের কথা জানিয়ে রেখেছিলাম। তারা আমাকে এই কাজে যথেষ্ট সাহায্য করেছে, করছে। মাঠের বাইরের ক্যারিয়ার যেন আমি ভালোভাবে শুরু করতে পারি, সে জন্য তারা আমাকে একটা চাকরিও দিয়েছে। দলের কোচ ও অন্যদের সঙ্গে কাজ করে আমি আমার ক্রিকেটীয় ও ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বাড়াতে চাই।’

দুই মৌসুমে রাজস্থানের হয়ে খেলে ৬.৬৯ ইকোনমিতে ৯ উইকেট তুলে নিয়েছিলেন। নিউজিল্যান্ডের টেস্ট দলে জায়গা না পেলেও সীমিত ওভারের ক্রিকেটে এখনো সুযোগ পান এই স্পিনার।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন