এই মুহুর্তে দক্ষিণ আফ্রিকাই আছে পাকিস্তান সফরে।
এই মুহুর্তে দক্ষিণ আফ্রিকাই আছে পাকিস্তান সফরে। ছবি: এএফপি

ভারত ও পাকিস্তানের রাজনৈতিক বৈরিতা ক্রিকেটে কতভাবেই না প্রভাব ফেলছে! দুই দেশের মধ্যে সিরিজ তো হচ্ছেই না, ভারতের ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট লিগ আইপিএলেও পাকিস্তানের খেলোয়াড়েরা খেলছেন না। পাকিস্তানের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগ পিএসএলে আবার খেলেন না ভারতীয় ক্রিকেটাররা। আইপিএল আর পিএসএল নিয়ে একটা দ্বন্দ্বও আছে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে, যেটা গত সেপ্টেম্বরে সর্বশেষ আইপিএলের আয়োজনের সময় স্পষ্ট হয়ে গেছে।

এবার বুঝি আবার দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে জড়ানোর সময় এল! পাকিস্তানের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের সূচি চূড়ান্ত হয়েছে। তাতে সম্ভাবনা জেগেছে, সূচিটা আইপিএলের সূচির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। পাকিস্তানের খেলোয়াড়েরা আইপিএলে খেলেন না বলে তাঁরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যস্ত থাকলেও আইপিএলের কোনো সমস্যা হয় না, কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার অনেক ক্রিকেটারই তো আইপিএলে বিভিন্ন দলে আছেন!

এই মুহূর্তে দক্ষিণ আফ্রিকা দলই পাকিস্তান সফরে আছে। টেস্ট সিরিজ শেষ হলেও এখনো টি-টোয়েন্টি সিরিজের দুটি ম্যাচ বাকি। এর মধ্যেই গতকাল নিশ্চিত হয়েছে, আগামী ২ থেকে ১৬ এপ্রিল দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে তিন ওয়ানডে ও চারটি টি-টোয়েন্টি খেলবে পাকিস্তান দল।

বিজ্ঞাপন

এরপর থেকেই সেই সফরের সঙ্গে আইপিএলের সম্ভাব্য সংঘর্ষ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। ২০২১ আইপিএলও যে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়েই শুরু হতে পারে বলে অনুমান!
সব ঠিক থাকলে পাকিস্তান দল দক্ষিণ আফ্রিকায় যাবে ২৬ মার্চ। গটেংয়ে থাকবে জৈব সুরক্ষাবলয়ে। কোয়ারেন্টিন পর্ব শেষে নামবে মাঠে। ২ থেকে ৭ এপ্রিল ওয়ানডে সিরিজ, ১০ থেকে ১৬ এপ্রিল টি-টোয়েন্টি। ম্যাচগুলো হবে জোহানেসবার্গ ও প্রিটোরিয়ায়।

default-image

প্রাথমিকভাবে তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলার কথা থাকলেও দক্ষিণ আফ্রিকা এই গ্রীষ্মে তাদের আন্তর্জাতিক ম্যাচের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে পাকিস্তানকে অনুরোধ করেছিল একটি টি-টোয়েন্টি বেশি খেলার জন্য, পাকিস্তান তাতে রাজি হয়। এবারের গ্রীষ্মে শুধু শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সংক্ষিপ্ত দুটি সিরিজ খেলেছে দক্ষিণ আফ্রিকায়। অস্ট্রেলিয়া দলও যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু দুই দিন আগে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিএ।

এর মধ্যে পাকিস্তান বাড়তি ম্যাচসহ সিরিজ খেলতে রাজি হওয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা অনেক খুশি হয়েছে। দেশটির ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকার (সিএসএ) ক্রিকেট পরিচালক গ্রায়েম স্মিথ বলেছেন, ‘সাদা বলের ক্রিকেটের জন্য পাকিস্তানের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের দিন ও পূর্ণ সফরসূচি নিশ্চিত করতে পেরে আমরা খুব খুশি। পিসিবির কাছে আমরা কৃতজ্ঞ যে চতুর্থ টি-টোয়েন্টি যোগ করে সিরিজের দৈর্ঘ্য বাড়াতে আমাদের অনুরোধে স্বল্প সময়ের মধ্যেই রাজি হয়েছে তারা।’

সিরিজে পাকিস্তানের দিক থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখেই পড়বে বলে ভবিষ্যদ্বাণী দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক স্মিথের, ‘গত কয়েক বছরে পাকিস্তান নিজেদের সীমিত ওভারের ক্রিকেটে সবচেয়ে শক্তিশালী দলগুলোর একটি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আমি নিশ্চিত হাইভেল্ডে (জোহানেসবার্গ ও প্রিটোরিয়া যে অঞ্চলের শহর) প্রোটিয়াদের শক্ত পরীক্ষার মুখে ফেলবে তারা।’ সিরিজের একটি ওয়ানডে ‘গোলাপি ওয়ানডে’ও হবে বলে জানিয়েছেন স্মিথ। প্রথাগতভাবে দক্ষিণ আফ্রিকা এ ম্যাচ আয়োজন করে, যেটি থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে দেওয়া হয় স্তন ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের তহবিলে।

কিন্তু এই সিরিজ এখন অন্য আলোচনা তুলে দিয়েছে। এপ্রিলের মাঝামাঝিতে এবারের আইপিএল শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকায় পাকিস্তানের সফরই শেষ হবে ১৬ এপ্রিল। আইপিএলের প্রায় প্রতিটি দলে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটার আছেন। সে ক্ষেত্রে ১৬ এপ্রিল পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ শেষ হওয়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটাররা ভারতে কবে আসবেন, কত দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে, তারপর অনুশীলন শেষে মাঠে নামতে পারবেন কবে...সেসব হিসাব তো আছেই।

ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফো তাই লিখেছে, ‘(দক্ষিণ আফ্রিকায় পাকিস্তানের) এই সফর শুরু আইপিএলের সঙ্গে কতটা সাংঘর্ষিক হয় কিংবা কোনোভাবে সাংঘর্ষিক হয় কি না, সেটিই এখন দেখার। পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দল কিংবা আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর জন্য খেলোয়াড় পাওয়ার ক্ষেত্রে সেটি কীভাবে প্রভাব ফেলবে, সেটিও দেখার বাকি।’

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন