আইপিএলে সব দলেরই মূল ভরসা বিদেশি ক্রিকেটারেরা।
আইপিএলে সব দলেরই মূল ভরসা বিদেশি ক্রিকেটারেরা।ছবি: আইপিএল

আইপিএল ২০২০ শেষ হয়েছে এখনো সপ্তাহও পেরোয়নি, এর মধ্যে আইপিএল ২০২১-এ কী কী বদল আসতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। তর্ক-বিতর্ক, প্রশংসা-সমালোচনা তো আছেই!

গত মঙ্গলবার রোহিত শর্মার মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের পঞ্চম শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে এবারের আইপিএল শেষ হওয়ার পরদিনই শোনা গেল, আইপিএলে দল বাড়ছে। আহমেদাবাদ থেকে আরেকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি আসতে পারে আগামী বছরের আইপিএলে, গুঞ্জন এমনই। ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থার (বিসিসিআই) দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছিল আইপিএলকে দশ দলের করার, সেদিকেও এগোচ্ছে বলে গুঞ্জন শোনা যায়। এর মধ্যে আরেকটি গুঞ্জন এসেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে—আইপিএলে এক দলে ৪ জনের বদলে ৫ জন বিদেশি ক্রিকেটার খেলানোর সুযোগ দেওয়া হতে পারে।

বিজ্ঞাপন
default-image

বিসিসিআই এখনই কেন আইপিএলে দল বাড়াতে যাচ্ছে, সেটি নিয়ে নানামুখী ব্যাখ্যা আছে। তবে সবচেয়ে বেশি যেটি শোনা যায়, তা হলো করোনা ও অন্যান্য কারণে গত কয়েক মাসে অনেক ক্ষতির মুখে পড়েছে বিসিসিআই। এর মধ্যে দুবাইয়ে দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে হলেও আইপিএল রুপির মুখ দেখিয়েছে ভারতকে। দল বাড়িয়ে লাভের গুড়টা আরও বেশি খেতে চাইছে বিসিসিআই।

দীপাবলির পরই বিসিসিআই আইপিএলে আরও দুটি দলের জন্য টেন্ডার ছাড়বে বলে জানাচ্ছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম। এখন যে আটটি ফ্র্যাঞ্চাইজি আছে, তারা অবশ্য ব্যাপারটা খুব একটা ভালোভাবে নিচ্ছে না। করোনার কারণে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোও ক্ষতির মুখে পড়েছে, এর মধ্যে দল বেড়ে যাওয়া মানে তাদের আয়ে ভাগ পড়বে। রাজস্থান রয়্যালসের মালিকদের একজন মনোজ বাদালে অবশ্য এই ধারণার সঙ্গে একমত। সম্প্রতি সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক রাহুল দ্রাবিড় বলেছেন, আইপিএলে দল বাড়ানোর জন্য সময়টা যথার্থ, বাদালে এ কথায় একমত পোষণ করে বলেছেন, ২০২১ সালেই নয় দলের আইপিএল ‘অবশ্যই সম্ভব।’

default-image

সম্ভব তো বটেই, তবে আয়ে ভাগের পাশাপাশি আরেকটি বিষয় নিয়ে সেখানে আপত্তি আছে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর—ক্রিকেটার ভাগাভাগি। বিশেষ করে ভারতীয় ক্রিকেটারদের ভাগাভাগি। মানসম্পন্ন ভারতীয় ক্রিকেটারদের সংখ্যা তো আর রাতারাতি বেড়ে যাবে না, সে ক্ষেত্রে দল বেড়ে যাওয়া মানে তারকা ক্রিকেটারদের নিয়ে কাড়াকাড়ি পড়ে যাওয়া।

‘দলগুলো এখনই মান নিশ্চিত করতে হিমশিম খাচ্ছে। আইপিএলে বেশির ভাগ দলের দিকে তাকান, দেখবেন সাত থেকে নয়জন খেলোয়াড় সব সময়ই দলের মূল অংশ হয়ে থাকে, দু-তিনজন খেলোয়াড় বেচাকেনা করে দলগুলো ভারসাম্য খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করে। এখন আটটির বদলে ফ্র্যাঞ্চাইজির সংখ্যা দশ হয়ে গেলে মান আরও পড়ে যাবে। বাড়তি দুটি দল নিলামে একই পুলে থাকা ক্রিকেটারদের থেকেই কিনলে (আইপিএলের) মান কি ঠিক রাখা যাবে?’—ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো বিসিসিআইকে এমনটাই জানিয়েছে বলে জানাচ্ছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস নাউ।

বিজ্ঞাপন

সে জন্যই আইপিএলে বিদেশি ক্রিকেটারের সংখ্যা বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিসিসিআইয়ের এক কর্মকর্তা। এই মুহূর্তে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো দলে আটজন বিদেশি নিতে পারে, ম্যাচে একাদশে খেলাতে পারে চারজনকে। কিন্তু তাতে অনেক মানসম্পন্ন বিদেশি ক্রিকেটার দলের বেঞ্চে পড়ে থাকেন। আইপিএলে দল বাড়লে মানসম্পন্ন ভারতীয় ক্রিকেটারদের নিয়ে যেহেতু টানাটানি পড়ে যাবে, সে ক্ষেত্রে দলের মান ধরে রাখার উদ্দেশ্যেই বিদেশি ক্রিকেটার বাড়ানোর প্রস্তাব।

‘অনেক মানসম্পন্ন বিদেশি খেলোয়াড় আছেন যাঁদের বর্তমান নিয়মের কারণে প্রতি মৌসুমেই বেঞ্চে বসে থাকতে হয়। বাড়তি একজন বিদেশি খেলালে ভারসাম্যটা ঠিক থাকবে’—বিসিসিআই কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে লিখেছে ভারতের সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া।

মন্তব্য পড়ুন 0