default-image

গতকাল আইপিএলের দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজির সমর্থকেরা খুব আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে ছিল ক্রাইস্টচার্চে। সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে কাল মুখোমুখি হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। গত সপ্তাহের নিলামে ১৪ কোটি বা এর বেশি দামে বিক্রি হওয়া তিন ক্রিকেটার খেলছিলেন তারা। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ১৫ কোটি খরচ করেছে নিউজিল্যান্ড পেসার কাইল জেমিসনের পেছনে। ওদিকে অস্ট্রেলিয়ান পেসার ঝাই রিচার্ডসনের জন্য পাঞ্জাব কিংসের খরচ ১৪ কোটি রুপি। এঁদের মধ্যে ছিলেন এক অলরাউন্ডার। গত মৌসুমে পাঞ্জাবে খেলা গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে ১৪ কোটি ২৫ লাখ রুপিতে দলে টেনেছে বেঙ্গালুরু।

পারফরম্যান্সের দিক থেকে তিনজনের কেউই নিজেদের গায়ে সেঁটে থাকা মূল্যের যথার্থতা প্রমাণ করতে পারেননি। এঁদের মধ্যে শুধু রিচার্ডসন একবার ৩১ রানে ২ উইকেট নিয়েছিলেন। জেমিসন ৩২ রানে ১ উইকেট পেলেও কোটা পূরণ করতে পারেননি। তবু ম্যাক্সওয়েলের চেয়ে ভালো খেলেছেন জেমিসন। অলরাউন্ডার ট্যাগ লাগিয়ে এক দশক ধরে খেলে চলা ম্যাক্সওয়েল এক ওভার বল করে কোনো উইকেট পাননি। ব্যাট করতে নেমে ৫ বল খেলেছেন করেছেন মাত্র ১ রান।

নিলামের পরই আইপিএলে ম্যাক্সওয়েলের দাম নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। বহুদিন ধরেই আইপিএলে ব্যর্থ এই ক্রিকেটারের জন্য এত অর্থ ব্যয়ের কোনো কারণ গত মৌসুমেই দেখেননি সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটাররাই। কাল ম্যাক্সওয়েলকে দাম নিয়ে খোঁচা দিয়েছেন তাঁর জাতীয় দল সতীর্থ ডেভিড ওয়ার্নারও!

বিজ্ঞাপন
default-image

ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডেতে কুঁচকিতে চোট পেয়েছিলেন ওয়ার্নার। ফলে টানা দুই ফিফটিতে সিরিজ শুরু করা এই ওপেনার তৃতীয় ম্যাচে খেলতে পারেননি। টি-টোয়েন্টি খেলতে পারেননি। প্রথম দুই টেস্টেও খেলেননি। পরে দুই ম্যাচের জন্য ফিরলেও এখনো চোট থেকে পুরোপুরি সেরে ওঠেননি। বছরের শেষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগপর্যন্ত এই চোট নিয়েই খেলতে হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন। তাই তাঁকে বিশ্রাম দিয়ে দিয়ে খেলানোর পরিকল্পনা করেছে অস্ট্রেলিয়া। নিউজিল্যান্ড সফরে তাই বিশ্রামে আছেন ওয়ার্নার।

মাঠে দায়িত্ব পালন করতে না হলেও বসে ছিলেন না ওয়ার্নার। ফক্স ক্রিকেটের হয়ে ধারাভাষ্য দিয়েছেন। সেখানেই ম্যাক্সওয়েলকে আইপিএলের মূল্য নিয়ে খোঁচা দিয়েছেন। মাঠে এই অলরাউন্ডারকে দেখে ওয়ার্নার বেশ নিরীহভাবেই বলেছেন, ‘আইপিএল নিলামে খারাপ দেখায়নি বিগ শো (ম্যাক্সওয়েল)।’ পাশে বসা মার্ক ওয়াহ সেটার জবাবে মনে করিয়ে দিয়েছেন, ‘গত আইপিএলে যা করেছে সেটা চিন্তা করলে তো অবশ্যই।’ এরপরই হুল ফুটিয়েছেন ওয়ার্নার, ‘এটা বিস্ময়কর। আপনাকে একটা ফ্র্যাঞ্চাইজি থেকে ছেড়ে দেওয়া হলো (পারফরম্যান্সের জন্য) এবং ছেড়ে দেওয়ার পর আপনি আগের চেয়েও বেশি আয় করছেন!’

গত আইপিএলে ম্যাক্সওয়েল কী করেছেন, সেটা পাঞ্জাব কিংস ভুলবে না সহজে। নিলামে ১০ কোটি ৭৫ লাখ রুপি খরচ করে গতবারই তাঁকে নিয়েছিল তখন কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব নামে পরিচিত ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। ১৩ ম্যাচে ১০৮ রান করেছেন। ১৫.৪২ গড়ে রান তুলেছেন ১০১.৮৮ স্ট্রাইকরেটে। পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র ৯ চার তাঁর। ছক্কা নেই একটি। তাই নিলামের আগে তাঁকে ধরে রাখার চিন্তাও আসেনি পাঞ্জাবের।

default-image

ওদিকে ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে ভয়ংকর ঝড় তুলেছিলেন ম্যাক্সওয়েল। বিগ ব্যাশে ফর্মে ফিরেছেন এই ব্যাটসম্যান। তাই অন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো ম্যাক্সওয়েলের পেছনে ছুটেছে। প্রথমে কলকাতা নাইট রাইডার্স ও রাজস্থান রয়্যালস লড়াইয়ে নেমেছিল। একটু পর লড়াইয়ে নেমেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। দলটিকে এরপর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে চেন্নাই সুপার কিংস। চেন্নাইয়ের প্রবল আগ্রহের কারণে ম্যাক্সওয়েলকে পেতে দরটা ১৪ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। আগের মৌসুমে ভয়ংকর বাজে খেলা এক ব্যাটসম্যানের দাম না কমে উল্টো আরও সাড়ে ৩ কোটি রুপি বেড়ে গেছে।

য়ার্নার অবশ্য পরে ম্যাক্সওয়েলের মূল্য নিয়ে খোঁচাটা রসিকতা বলেই চালিয়ে দিয়েছেন আরেক মন্তব্যে, ‘আমরা জানি ওর কী ক্ষমতা। আমি নিশিত ওর কাছে একটু বেশিই চাওয়া হচ্ছে কিন্তু আমি এটা নিশ্চিত সে এটার প্রতিদান দেবে।’

ম্যাক্সওয়েলের ক্ষেত্রে বরাবরই এমন হয়। প্রতি আইপিএল মৌসুমই খুব বাজে কাটে। কিন্তু ঘরের মাঠে বিগ ব্যাশে আবার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স থাকে তাঁর। আইপিএল নিলাম আবার হয় বিগব্যাশের কদিন পরই। ফলে আগের বছরের আইপিএল নয়, ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর স্মৃতিতে থাকে বিগ ব্যাশের পারফরম্যান্সের কথা। আবারও ম্যাক্সওয়েলকে পেতে কাড়াকাড়ি হয়। এবং প্রতিবারই ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে হতাশ হতে হয়।

বিজ্ঞাপন
default-image

২০১৩ সাল থেকেই এমন হচ্ছে। সেবার তাঁকে পেতে সবচেয়ে আগ্রহ দেখিয়েছিল মুম্বাই ইন্ডিয়ানস। ৫ কোটি ৩০ লাখ রুপির ম্যাক্সওয়েল সেবার ৩৬ রান করেছিল। পরের বছর তাই মুম্বাই ছেড়ে দেয় তাঁকে। পাঞ্জাব আবার কাড়াকাড়িতে নামে, কিনে নেয় ৬ কোটিতে। সেবার অবশ্য দুর্দান্তই খেলেছেন এই অলরাউন্ডার। আইপিএলে একমাত্র সেবারই ফাইনালে উঠেছিল পাঞ্জাব। এতে ম্যাক্সওয়েলের ৫৫২ রানের বড় ভূমিকা ছিল। এতে খুশি হয়ে তাঁকে আরও তিন বছর ধরে রেখেছিল পাঞ্জাব। কিন্তু পরের তিন বছরই দলটিকে হতাশ করেছেন ম্যাক্সওয়েল। যথাক্রমে ১৪৫, ১৭৯ ও ৩১০ রান তুলেছেন। ২০১৮ সালে তাই মোহ কাটে পাঞ্জাবের।

২০১৮ সালে দিল্লি ক্যাপিটালস তবু তাঁর ওপর বিনিয়োগ করার বাজি ধরে। ৯ কোটি রুপির বিনিময়ে ১৬৯ রান এনে দিয়েছিলেন। এরপর তো পাঞ্জাব আবার ফিরেছিল ম্যাক্সওয়েলের কাছে। ১০.৭৫ কোটি রুপির বিনিময়ে সেবার ১০৮ রান করেছিলেন। প্রতি বছর মূল্য যত বাড়ছে, রান ততই কমছে ম্যাক্সওয়েলের!

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন